Dhaka , Friday, 17 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুটে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন মিষ্টির দোকানে অনিয়ম ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: রায়পুরে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা। শ্রীপুরে ফিলিং স্টেশনে অনিয়মের অভিযোগ, ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধর করা পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার পাইকগাছায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ উদ্বোধন; কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত পাঁচলাইশ চসিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড়ে ভূমিদস্যুদের থাবা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ, লড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর আড়াইহাজারে শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সফল করতে পাঁচবিবিতে সমন্বয় সভা ৩ লক্ষ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দিবে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত মখলেছুর রহমান চৌধুরী- আলতাজ খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ ও এসএসসি বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসনে ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন : ইউএনও’র পরিদর্শন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বেড়েছে অনুপস্থিতি রামগঞ্জে ১৬১ প্রাথমিকবিদ্যালয়ের ৯২ টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য  নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আপেল, সম্পাদক বাবু বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন “স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে কাজ করছি”: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কাউখালীতে খাল পুর্ন-খনন কাজের উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম কর্তৃক প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর কেন্দ্র পরিদর্শন জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বর্ষার আগে বিশেষ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু করছে চসিক দুর্গাপুর সংবর্ধিত হলেন কণ্ঠশিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক নিরাপত্তা বলয়ে পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ইউএনও’র কেন্দ্র পরিদর্শন উচ্চশিক্ষার পথে বাধা দূর করল জেলা প্রশাসন: ঢাবি-জবিতে ভর্তির সুযোগ পেল ৬ অসচ্ছল মেধাবী বিগত ১৭ বছরে কিছু লোক এসেছিল তারা খেলার নামে রং তামাশা করেছে: মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ভাড়া বাসায় মদের কারবার,বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার-১ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল

১৯ মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গাজীপুরবাসীর কৃতিত্ব চির অম্লান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:38:03 pm, Tuesday, 18 March 2025
  • 88 বার পড়া হয়েছে

১৯ মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গাজীপুরবাসীর কৃতিত্ব চির অম্লান

মো.ইমরান হোসেন  ,স্টাফ রিপোর্টার

ডান হাতে তাজা গ্রেনেড আমার, বাম হাতে রাইফেল। বিদ্রোহী আমি মুক্তিপিয়াসী, প্রাণ সদা উদ্বেল। আমি তোমাদের চেনা, আমি যে মুক্তিসেনা ” । রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারক ভাস্কর্য-জাগ্রত চৌরঙ্গী, সেই দীর্ঘ অর্ধশত বছর পূর্বের স্বাধীনতা সংগ্রামের অজানা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশে সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্যে শত স্মৃতি ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান উঠেছিল জয়দেবপুরের পথ ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর। উল্লেখ্য, ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বেই ১৯ মার্চ ঐতিহাসিক জয়দেবপুরে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। 

এ জয়দেবপুর থেকেই গর্জে উঠেছিল পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য সরাসরি বন্দুকযুদ্ধ। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জয়দেবপুর তথা গাজীপুরবাসীর কৃতিত্বপূর্ণ এবং গৌরবময় ভূমিকা চির অম্লান। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম গাজীপুরবাসীর অস্ত্র গর্জে ওঠে। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাসের কঠিন আর কঠোর রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামে লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা অর্জন করেছি বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিজয়ের তাৎপর্যে আজও গাজীপুরের জয়দেবপুরের স্মৃতি জাগ্রত চৌরঙ্গী সূর্যালোকের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে আছে আমাদের জাতীয় জীবনে। 
১৯ মার্চ ঐতিহাসিক দিনগুলোর ঘটনা ব্যাপক এবং এর সূচনা ১ মার্চ থেকে। গাজীপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান নিয়েছিল দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্ট। এ রেজিমেন্টে ৩০ জন ব্যতীত সবাই বাঙালি সৈনিক ও অফিসার ছিলেন। লে. কর্নেল মাসুদুল হোসেন খান ছিলেন দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক (সিও) এবং সহঅধিনায়ক ছিলেন মেজর শফিউল্লাহ। দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সবাই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৭১-এর ১৫ মার্চ ঢাকা সেনা সদর থেকে খবর আসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের ৩০৩ কেলিবার রাইফেলগুলো সদর দফতরে জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সদর দফতরে অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকার করায় ১৯ মার্চ ঢাকার পাঞ্জাবিব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জাহানজের খান নিজেই অস্ত্র জমা নিতে আসেন। রাজবাড়ীতে পৌঁছেই দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সতর্কাবস্থা দেখেই পাক ব্রিগেডিয়ার জাহানজের খান হতাশ হয়ে পড়েন। 
বিক্ষুব্ধরা জয়দেবপুরের চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টি ব্যারিকেড স্থাপন করে। এদিকে চৌরাস্তায় বিক্ষুব্ধ জনতার মুহুর্মুহু স্লোগানে আকাশ-বাতাস যখন প্রকম্পিত তখন দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ৩ টনি ট্রাক টাঙ্গাইল থেকে জয়দেবপুরে ফিরছিল। ট্রাকে সিদ্দিকুর-এর নেতৃত্বে ৫ বাঙালি সৈনিক ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল এসএমজি। জনগণের প্রতিরোধের মনোভাব বুঝতে পেরে তাদের সঙ্গে সৈনিকরা একাত্মতা ঘোষণা করে পাক সেনাদের সরাসরি গুলিবর্ষণ শুরু করেন। ফলে শুরু হয় পাল্টা গুলি। পাক সেনাদের বিরুদ্ধে এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র গুলিবর্ষণের ঘটনা। 

 

 

জানা যায়, ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ স্লোগানে ১৯৭১-এর ১৯ মার্চ প্রথম পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন গাজীপুরের মানুষ। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে দেশে এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ। এ যুদ্ধে  পাকিস্তানি সেনার গুলিতে শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা। আহত হন শাহজাহান, সন্তোষসহ নাম না জানা আরও  অনেকে। 

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধে শহীদ ও আহত বীরদের অসামান্য আত্মত্যাগ স্মরণে দেশের খ্যাতিমান ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক তৈরি করেছিলেন এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকর্ম। গাজীপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী বীর বিক্রম ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। জাগ্রত চৌরঙ্গীর প্রকৌশলী ছিলেন আবদুর রশিদ। তাঁর সহকারী ছিলেন এম আহমদ ও আবদুল হক। নির্মাণ তত্ত্বাবধানে ছিলেন আসলুল হক ও আবদুল হক। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুবেদার খন্দকার মতিউর রহমান বীর বিক্রম। আলোকসজ্জার দায়িত্বে ছিল গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। ১৯৭২ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে। বেদিসহ জাগ্রত চৌরঙ্গীর উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। ২৪ ফুট ৫ ইঞ্চি বেদির ওপর এটি স্থাপিত। উদোম গায়ে পেশিবহুল এক যুবক খালি পায়ে মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর ডান হাতে তাজা গ্রেনেড আর বাম হাতে রাইফেল। ভাস্কর্যটির দুপাশের ফলকে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ এবং ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন শহীদ সেনা ও মুক্তিযোদ্ধার নাম খোদাই করে লেখা আছে।

 বর্তমানে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় সড়কদ্বীপে মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর স্মৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভাস্কর্যটি, কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় সেই জাগ্রত চৌরঙ্গী আজ অরক্ষিত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুটে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন

১৯ মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গাজীপুরবাসীর কৃতিত্ব চির অম্লান

আপডেট সময় : 12:38:03 pm, Tuesday, 18 March 2025
মো.ইমরান হোসেন  ,স্টাফ রিপোর্টার

ডান হাতে তাজা গ্রেনেড আমার, বাম হাতে রাইফেল। বিদ্রোহী আমি মুক্তিপিয়াসী, প্রাণ সদা উদ্বেল। আমি তোমাদের চেনা, আমি যে মুক্তিসেনা ” । রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারক ভাস্কর্য-জাগ্রত চৌরঙ্গী, সেই দীর্ঘ অর্ধশত বছর পূর্বের স্বাধীনতা সংগ্রামের অজানা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশে সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্যে শত স্মৃতি ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান উঠেছিল জয়দেবপুরের পথ ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর। উল্লেখ্য, ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বেই ১৯ মার্চ ঐতিহাসিক জয়দেবপুরে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। 

এ জয়দেবপুর থেকেই গর্জে উঠেছিল পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য সরাসরি বন্দুকযুদ্ধ। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জয়দেবপুর তথা গাজীপুরবাসীর কৃতিত্বপূর্ণ এবং গৌরবময় ভূমিকা চির অম্লান। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম গাজীপুরবাসীর অস্ত্র গর্জে ওঠে। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাসের কঠিন আর কঠোর রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামে লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা অর্জন করেছি বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিজয়ের তাৎপর্যে আজও গাজীপুরের জয়দেবপুরের স্মৃতি জাগ্রত চৌরঙ্গী সূর্যালোকের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে আছে আমাদের জাতীয় জীবনে। 
১৯ মার্চ ঐতিহাসিক দিনগুলোর ঘটনা ব্যাপক এবং এর সূচনা ১ মার্চ থেকে। গাজীপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান নিয়েছিল দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্ট। এ রেজিমেন্টে ৩০ জন ব্যতীত সবাই বাঙালি সৈনিক ও অফিসার ছিলেন। লে. কর্নেল মাসুদুল হোসেন খান ছিলেন দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক (সিও) এবং সহঅধিনায়ক ছিলেন মেজর শফিউল্লাহ। দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সবাই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৭১-এর ১৫ মার্চ ঢাকা সেনা সদর থেকে খবর আসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের ৩০৩ কেলিবার রাইফেলগুলো সদর দফতরে জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সদর দফতরে অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকার করায় ১৯ মার্চ ঢাকার পাঞ্জাবিব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জাহানজের খান নিজেই অস্ত্র জমা নিতে আসেন। রাজবাড়ীতে পৌঁছেই দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সতর্কাবস্থা দেখেই পাক ব্রিগেডিয়ার জাহানজের খান হতাশ হয়ে পড়েন। 
বিক্ষুব্ধরা জয়দেবপুরের চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টি ব্যারিকেড স্থাপন করে। এদিকে চৌরাস্তায় বিক্ষুব্ধ জনতার মুহুর্মুহু স্লোগানে আকাশ-বাতাস যখন প্রকম্পিত তখন দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ৩ টনি ট্রাক টাঙ্গাইল থেকে জয়দেবপুরে ফিরছিল। ট্রাকে সিদ্দিকুর-এর নেতৃত্বে ৫ বাঙালি সৈনিক ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল এসএমজি। জনগণের প্রতিরোধের মনোভাব বুঝতে পেরে তাদের সঙ্গে সৈনিকরা একাত্মতা ঘোষণা করে পাক সেনাদের সরাসরি গুলিবর্ষণ শুরু করেন। ফলে শুরু হয় পাল্টা গুলি। পাক সেনাদের বিরুদ্ধে এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র গুলিবর্ষণের ঘটনা। 

 

 

জানা যায়, ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ স্লোগানে ১৯৭১-এর ১৯ মার্চ প্রথম পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন গাজীপুরের মানুষ। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে দেশে এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ। এ যুদ্ধে  পাকিস্তানি সেনার গুলিতে শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা। আহত হন শাহজাহান, সন্তোষসহ নাম না জানা আরও  অনেকে। 

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধে শহীদ ও আহত বীরদের অসামান্য আত্মত্যাগ স্মরণে দেশের খ্যাতিমান ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক তৈরি করেছিলেন এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকর্ম। গাজীপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী বীর বিক্রম ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। জাগ্রত চৌরঙ্গীর প্রকৌশলী ছিলেন আবদুর রশিদ। তাঁর সহকারী ছিলেন এম আহমদ ও আবদুল হক। নির্মাণ তত্ত্বাবধানে ছিলেন আসলুল হক ও আবদুল হক। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুবেদার খন্দকার মতিউর রহমান বীর বিক্রম। আলোকসজ্জার দায়িত্বে ছিল গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। ১৯৭২ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে। বেদিসহ জাগ্রত চৌরঙ্গীর উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। ২৪ ফুট ৫ ইঞ্চি বেদির ওপর এটি স্থাপিত। উদোম গায়ে পেশিবহুল এক যুবক খালি পায়ে মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর ডান হাতে তাজা গ্রেনেড আর বাম হাতে রাইফেল। ভাস্কর্যটির দুপাশের ফলকে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ এবং ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন শহীদ সেনা ও মুক্তিযোদ্ধার নাম খোদাই করে লেখা আছে।

 বর্তমানে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় সড়কদ্বীপে মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর স্মৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভাস্কর্যটি, কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় সেই জাগ্রত চৌরঙ্গী আজ অরক্ষিত।