
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আসন্ন বর্ষাকে সামনে রেখে রবিবার থেকে খাল-নালা খননে ৪১ ওয়ার্ড জুড়ে কার্যক্রম শুরু করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
নগরজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু করে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
বুধবার নগরীর টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, আগামী রবিবার জামালখান লিচুবাগান, এনায়েত বাজার ওয়ার্ড এবং আন্দরকিল্লা সেবক কলোনিসহ তিনটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মেয়র জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নালাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজারদের সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। একইসঙ্গে পুরো কার্যক্রম তদারকিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। এ অর্থ পেলে তা ব্যয়ে ছোট নালার জন্য অন্তত ৫০০টি নালা পরিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
“গত বছর ১৪৮টি নালা পরিষ্কার করা হয়েছিল, যার ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসে। এবার আমরা আরও বড় পরিসরে কাজ করব, অন্তত ৫০০টি নালা পরিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।” বলেন মেয়র।
পরিবেশ ও সবুজায়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, “বর্ষা মৌসুম গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। প্রতিটি ওয়ার্ডে নেওয়া সবুজায়নের কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও গাছের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বৃন্দ সবুজায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। ”
তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বর্ষাকালে নালা-খালে দর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বেষ্টনী স্থাপন করারও নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিটি ওয়ার্ডের যে সমস্ত ম্যানহোলে ঢাকনা ও স্ল্যাব নেই এগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নালা-ড্রেনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পিলারের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন মেয়র।
সড়ক উন্নয়ন বিষয়ে মেয়র বলেন, “রাস্তা সংস্কারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি। পুরনো রাস্তার ওপর নতুন করে স্তর বসানোর পরিবর্তে পুরনো রাস্তা অপসারণ করে নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে রাস্তা উঁচু হয়ে আশপাশের এলাকা নিচু হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়ায়।”
তিনি আরও বলেন, বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ে কাজ চলছে। এ অর্থ পাওয়া গেলে নগর উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মেয়র সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, যেসব নালার সরাসরি খালের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, সেগুলোর জলপ্রবাহ সচল রাখতে হবে এবং বদ্ধ নালাগুলোতে বিশেষ নজর দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, স্পেশাল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, বারইপাড়া খাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা, মেয়রের একান্ত সহকারি মারুফুল হক চৌধুরী, পরিচ্ছন্ন বিভাগের জোনাল ইনচার্জবৃন্দ।
























