Dhaka , Wednesday, 20 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক মৌমাছি দিবস পালিত দিনাজপুরে র‍্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান: লাইসেন্সবিহীন দুটি ইটভাটা ধ্বংস চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশকে সড়কে মৃত্যু প্রতিরোধে গতিসীমা নির্দেশিকা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ প্রদান বার্ষিক সাধারণ সভার পর দাপ্তরিক কাজেও আদালতের স্হিতিবস্হা ও নিষেধাজ্ঞা পাইকগাছায় পুশ বিরোধী অভিযানে ৪ ব্যবসায়ীর জরিমানা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক বিভাগের অধীন PICU ডা: শাহনাজের উপর মিথ্যা অপবাদ ও দোষারোপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চরভদ্রাসনে নামধারী পীরের বিরুদ্ধে ভাইয়ের পরিবারে বর্বর হামলা ও ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘর মেরামত কাজেও বাধার অভিযোগ। পলাশে শিশু হত্যার প্রাধান আসামি সবুজ গ্রেফতার দীর্ঘ ২৩ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাফিতি ইস্যুতে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান: ড্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অনলাইন হ্যারাসমেন্ট ঠেকাতে মাঠে নেমেছে তরুণ প্রজন্ম ঝালকাঠিতে গ্রাম আদালত কার্যক্রমে প্রথম রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাফিতি ইস্যুতে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান পেশাজীবি পরিষদের নোয়াখালীতে গৃহবধূর মরদেহ উদ্বার রামগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উদ্বোধন, অগ্নি নির্বাপন মহড়া অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের কবলে লালমনিরহাটের তামাক বাজার: ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত চাষিরা, তামাক চাষী সমিতির তীব্র প্রতিবাদ জনপ্রিয় নেতাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে জেন-জি লালমনিরহাটের তীব্র নিন্দা মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা মধুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন পাইকগাছায় ৬২ অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল বিতরণ রূপগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা গাজীপুরে আনসার একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ জাজিরায় মাদক ও চুরির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, খলিল-লাকি দম্পতির বিচারের দাবি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম ক্ষেত্র হল জনবান্ধব ভূমিসেবা: বিভাগীয় কমিশনার সিলেট টেস্টে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ : শন টেইট ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে জাতীয় দলে ফিরতে চান সাব্বির

সালথায় বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সনদ জাল ও ভুয়া।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:04:14 pm, Monday, 25 November 2024
  • 197 বার পড়া হয়েছে

সালথায় বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সনদ জাল ও ভুয়া।।

মামুন মিঞা

 
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর।।

   

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সনদ জালিয়াতি ও  ভুয়া কাগজপত্রাদি’ জমা দিয়ে চাকুরি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে

একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়- ১৯৮৩ সালে ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় পশ্চিম বিভাগদী গ্রামে আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসা স্থাপিত হয়।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি নীতিমালা বহির্ভূতভাবে এমপিওভুক্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে- তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত পরিমান শিক্ষার্থী ও সরকারের দেওয়া নিয়মানুযায়ী জমি না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়- ইবতেদায়ী শাখায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষের ভেতরে ক্লাস নিচ্ছেন সাবিনা পারভিন নামে একজন শিক্ষিকা।

এছাড়া প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ২৪ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিত দেখা যায়।

সালথা উপজেলাধীন পশ্চিম বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক -শরীর চর্চা- হালিমা খাতুন- সহকারী মৌলভি শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভি শিক্ষক আবু জাফর।

এসব বিষয়ে নিয়ে বৃহস্পতিবার -২১ নভেম্বর – সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। এদের মধ্যে একাধিক শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ ও শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

যার কারণে তাঁরা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে সার্টিফিকেট ও নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজ-পত্র জমা দেননি। তাছাড়া কোনো পত্রিকায় এদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও নেই। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশন ও নিয়োগে-ডিজি-প্রতিনিধির চিঠিও নেই। কিন্তু পরবর্তীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমা দেয়া হয়েছে বলে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
জানা যায়- সহকারী শিক্ষক-শরীর চর্চা- হালিমা খাতুন ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি যোগদান করেন। অথচ তৎকালীন তার দাখিলকৃত বিপিএড পরীক্ষার সনদ যেটিতে উল্লেখ রয়েছে যে হালিমা খাতুন ২০০৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্ভুক্ত গোপালগঞ্জের সাবেরা রউফ শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বি পি এড পরীক্ষা অংশ গ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যা ২৪ অক্টোবর ১৯৯৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -মাদ্রাসাসমূহ- নীতিমালা বহির্ভূত।

এছাড়া ওই সনদে উল্লেখিত রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যাচাই করে দেখা যায় যে-সনদটির কোনো হদিস নেই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এই শিক্ষক জানান,২০০০ সালে চাকুরিতে যোগদান করলেও ২০১৩ সালে কুষ্টিয়া আলাউদ্দিন ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে বিপিএড পাশ করেছেন। এছাড়া ২০০৪ সালের জমাকৃত বিপিএড সনদের বিষয়ে কিছুই জানা নেই দাবি করে বলেন- আমার নামে কে বা কারা এটি জমা দিয়েছে- আমি কিছুই জানি না।

এছাড়া ২০১৩ সালের বিপিএড পাশ নীতিমালা বর্হিভূত কি-না জানতে চাইলে বলেন- বিষয়টি তখন আমি জানতাম না। পরবর্তীতে আমাকে বিপিএড করার সুযোগ দেয়া হয় এবং ওই সনদ পাওয়ার পর থেকেই বিল উত্তোলন করি।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিনয় কুমার চাকী বলেন-কোনোভাবেই সহকারী শিক্ষক -শরীরচর্চা- পদে বিপিএড পাশ ছাড়া আবেদন করা সম্ভব নয়।

এছাড়া ২৪ অক্টোবর ১৯৯৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-মাদ্রাসা-সমূহ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সহকারী মৌলভি শিক্ষক আবু জাফর জাল সনদে চাকুরিতে যোগদান করেন। নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী মৌলভি শিক্ষকদের দুইটি ২য় বিভাগসহ একটি পরিক্ষায় ৩য় বিভাগ থাকলে হবে। দুটি পরিক্ষায় ৩য় বিভাগ ও একটি সনদে ২য় বিভাগ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার সাবেক এক সুপার বলেন, আবু জাফরের শিক্ষা সনদে দুটি পরিক্ষায় ৩য় বিভাগ ও একটি সনদে ২য় বিভাগ রয়েছে। অথচ তিনি জালিয়াতি করে ৩য় বিভাগকে ২য় বিভাগ করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এছাড়া একাধিকবার সনদ ও নিয়োগপত্রের কাগজপত্র মাদ্রাসায় জমা দেয়ার কথা বলা হলেও তিনি জমা দেননি বলে জানান ওই সুপার।

যেটি মাদ্রাসার রেজ্যুলেশন কপিতে উল্লেখ করা রয়েছে। 

তবে বিষয়টি নিয়ে আবু জাফর দাবি করেন, তাঁর সনদ সঠিক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমিসহ আমাদের মাদ্রাসার কারো জাল সনদ নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, জাল সনদ প্রমাণিত হলে চাকুরি ছেড়ে দিব। এগুলো নিয়ে বহুবার কথা উঠেছে, তদন্ত হয়েছে কিছুই হয়নি।’
অপরদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীদের মাসিক সরকারি অনুদান সংক্রান্ত বিল বিবরণীতে দেখা যায়, মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম ২০০৪ সালের ০১ নভেম্বর ওই মাদ্রাসায় যোগদান করেন। কিন্তু তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৮৫ সালের ০৫ মার্চ।

সে হিসেবে তখন চাকুরিতে যোগদানের বয়স মাত্র ১৯ বছর। সে ফাজিল পাস করে ওই পদে যোগদান করেন। তবে তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত মাদ্রাসায় কোনো কাগজপত্র আজও জমা দেননি বলে সাবেক ওই সুপার জানিয়েছেন।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন- তৎকালীন সময়ে আমাদের মাদ্রাসায় নিয়োগের বিষয়ে কোনো সরকারী বিধি অনুসরণ করা হয়নি। তখন আমাদের কোন জায়গায় নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি- কোনো -ডিজি-প্রতিনিধি ছিলনা-পত্রিকায়ও কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ওই সময়েই কামরুল ইসলামকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় ।

তবে কামরুল ইসলাম দাবি করে বলেন- আমি ২০০০ সালে দাখিল -এসএসসি সমমান- এবং ২০০২ সালে আলিম -এইচএসসি- পাশ করি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ফাজিল (বিএ সমমান) সম্পন্ন করেই চাকুরীতে যোগদান করি।

এসব বিষয়ে ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আবু নাছের আহমাদ বলেন- আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়গুলো আমার জানা নেই। এছাড়া উল্লেখিত শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রাদি ও সনদ মাদ্রাসায় জমা আছে কি-না সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। 

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনিছুর রহমান বালি বলেন- বিষয়টি নিয়ে আজ একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক মৌমাছি দিবস পালিত

সালথায় বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সনদ জাল ও ভুয়া।।

আপডেট সময় : 12:04:14 pm, Monday, 25 November 2024

মামুন মিঞা

 
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর।।

   

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সনদ জালিয়াতি ও  ভুয়া কাগজপত্রাদি’ জমা দিয়ে চাকুরি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে

একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়- ১৯৮৩ সালে ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় পশ্চিম বিভাগদী গ্রামে আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসা স্থাপিত হয়।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি নীতিমালা বহির্ভূতভাবে এমপিওভুক্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে- তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত পরিমান শিক্ষার্থী ও সরকারের দেওয়া নিয়মানুযায়ী জমি না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়- ইবতেদায়ী শাখায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষের ভেতরে ক্লাস নিচ্ছেন সাবিনা পারভিন নামে একজন শিক্ষিকা।

এছাড়া প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ২৪ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিত দেখা যায়।

সালথা উপজেলাধীন পশ্চিম বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক -শরীর চর্চা- হালিমা খাতুন- সহকারী মৌলভি শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভি শিক্ষক আবু জাফর।

এসব বিষয়ে নিয়ে বৃহস্পতিবার -২১ নভেম্বর – সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। এদের মধ্যে একাধিক শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ ও শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

যার কারণে তাঁরা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে সার্টিফিকেট ও নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজ-পত্র জমা দেননি। তাছাড়া কোনো পত্রিকায় এদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও নেই। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশন ও নিয়োগে-ডিজি-প্রতিনিধির চিঠিও নেই। কিন্তু পরবর্তীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমা দেয়া হয়েছে বলে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
জানা যায়- সহকারী শিক্ষক-শরীর চর্চা- হালিমা খাতুন ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি যোগদান করেন। অথচ তৎকালীন তার দাখিলকৃত বিপিএড পরীক্ষার সনদ যেটিতে উল্লেখ রয়েছে যে হালিমা খাতুন ২০০৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্তর্ভুক্ত গোপালগঞ্জের সাবেরা রউফ শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বি পি এড পরীক্ষা অংশ গ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যা ২৪ অক্টোবর ১৯৯৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -মাদ্রাসাসমূহ- নীতিমালা বহির্ভূত।

এছাড়া ওই সনদে উল্লেখিত রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যাচাই করে দেখা যায় যে-সনদটির কোনো হদিস নেই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এই শিক্ষক জানান,২০০০ সালে চাকুরিতে যোগদান করলেও ২০১৩ সালে কুষ্টিয়া আলাউদ্দিন ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে বিপিএড পাশ করেছেন। এছাড়া ২০০৪ সালের জমাকৃত বিপিএড সনদের বিষয়ে কিছুই জানা নেই দাবি করে বলেন- আমার নামে কে বা কারা এটি জমা দিয়েছে- আমি কিছুই জানি না।

এছাড়া ২০১৩ সালের বিপিএড পাশ নীতিমালা বর্হিভূত কি-না জানতে চাইলে বলেন- বিষয়টি তখন আমি জানতাম না। পরবর্তীতে আমাকে বিপিএড করার সুযোগ দেয়া হয় এবং ওই সনদ পাওয়ার পর থেকেই বিল উত্তোলন করি।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিনয় কুমার চাকী বলেন-কোনোভাবেই সহকারী শিক্ষক -শরীরচর্চা- পদে বিপিএড পাশ ছাড়া আবেদন করা সম্ভব নয়।

এছাড়া ২৪ অক্টোবর ১৯৯৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-মাদ্রাসা-সমূহ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সহকারী মৌলভি শিক্ষক আবু জাফর জাল সনদে চাকুরিতে যোগদান করেন। নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী মৌলভি শিক্ষকদের দুইটি ২য় বিভাগসহ একটি পরিক্ষায় ৩য় বিভাগ থাকলে হবে। দুটি পরিক্ষায় ৩য় বিভাগ ও একটি সনদে ২য় বিভাগ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার সাবেক এক সুপার বলেন, আবু জাফরের শিক্ষা সনদে দুটি পরিক্ষায় ৩য় বিভাগ ও একটি সনদে ২য় বিভাগ রয়েছে। অথচ তিনি জালিয়াতি করে ৩য় বিভাগকে ২য় বিভাগ করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এছাড়া একাধিকবার সনদ ও নিয়োগপত্রের কাগজপত্র মাদ্রাসায় জমা দেয়ার কথা বলা হলেও তিনি জমা দেননি বলে জানান ওই সুপার।

যেটি মাদ্রাসার রেজ্যুলেশন কপিতে উল্লেখ করা রয়েছে। 

তবে বিষয়টি নিয়ে আবু জাফর দাবি করেন, তাঁর সনদ সঠিক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমিসহ আমাদের মাদ্রাসার কারো জাল সনদ নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, জাল সনদ প্রমাণিত হলে চাকুরি ছেড়ে দিব। এগুলো নিয়ে বহুবার কথা উঠেছে, তদন্ত হয়েছে কিছুই হয়নি।’
অপরদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীদের মাসিক সরকারি অনুদান সংক্রান্ত বিল বিবরণীতে দেখা যায়, মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম ২০০৪ সালের ০১ নভেম্বর ওই মাদ্রাসায় যোগদান করেন। কিন্তু তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৮৫ সালের ০৫ মার্চ।

সে হিসেবে তখন চাকুরিতে যোগদানের বয়স মাত্র ১৯ বছর। সে ফাজিল পাস করে ওই পদে যোগদান করেন। তবে তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত মাদ্রাসায় কোনো কাগজপত্র আজও জমা দেননি বলে সাবেক ওই সুপার জানিয়েছেন।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন- তৎকালীন সময়ে আমাদের মাদ্রাসায় নিয়োগের বিষয়ে কোনো সরকারী বিধি অনুসরণ করা হয়নি। তখন আমাদের কোন জায়গায় নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি- কোনো -ডিজি-প্রতিনিধি ছিলনা-পত্রিকায়ও কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ওই সময়েই কামরুল ইসলামকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় ।

তবে কামরুল ইসলাম দাবি করে বলেন- আমি ২০০০ সালে দাখিল -এসএসসি সমমান- এবং ২০০২ সালে আলিম -এইচএসসি- পাশ করি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ফাজিল (বিএ সমমান) সম্পন্ন করেই চাকুরীতে যোগদান করি।

এসব বিষয়ে ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আবু নাছের আহমাদ বলেন- আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়গুলো আমার জানা নেই। এছাড়া উল্লেখিত শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রাদি ও সনদ মাদ্রাসায় জমা আছে কি-না সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। 

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনিছুর রহমান বালি বলেন- বিষয়টি নিয়ে আজ একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।