Dhaka , Saturday, 28 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
আইসিটি খাতে ১০লাখ লোকের কর্মসংস্থান করা হবে: তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ঝালকাঠিতে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোচালক নিহত নোয়াখালীতে নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা আমেনা (২০) বেতন ভাতা, শ্রমিক নির্যাতন ও ছাটাই এর প্রতিবাদে রূপগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ, শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০, ৫ ঘন্টা ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৮ কিমি যানজট নারায়নগঞ্জ আইন কলেজের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহাফিল কাজে বের হয়ে প্রাণ হারালেন ওয়ালটন ব্যবস্থাপক; মহাসড়কে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী গাজীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড,ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস এমপি মজিবুর রহমান বেতাগী ১০০ একর জমিতে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন -খুশি কৃষক  কালীগঞ্জে ১৫ বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান; গাঁজা ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ কুড়িগ্রাম সীমান্তে দুই ভারতীয় নাগরিক আটক; বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি দুর্গাপুরে আল-খিদমাহ স্বেচ্ছাসেবক যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসংস্থান গড়ে তোলা নির্বাচিত সরকারের বড় কর্মসূচি:- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ইসলামের শিক্ষার আলোকে সম্প্রীতির চট্টগ্রাম গড়তে চাই:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প, পাইকগাছায় স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি আড়াইহাজারে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আহত-৩ নিজ জেলা মাগুরায় প্রথম সফরে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী- চাঁদাবাজি-দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী কঠোর বার্তা কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ৪৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মুল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ। ঝালকাঠিতে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশালে প্রেরণ ঝালকাঠি: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন, পায়ে ডান্ডাবেড়ি চন্দনাইশে গরু লুটে বাধা দেয়ায় খামারিকে গুলি করে হত্যা, ৩ টি গরু লুট ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শরীয়তপুরে ঢাকা পোস্টের সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা পাইকগাছায় নিসচার উদ্যোগে তিন প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ পাইকগাছায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্বোধন নিরাপদ পানি নিশ্চিতে পাইকগাছায় উদ্যোক্তাদের সমন্বয় সভা পাইকগাছায় বাজার পরিদর্শন ও মশক নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন হিলিতে অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

লক্ষ্মীপুরে এখনো ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী আবারো প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পরে গ্রাম।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 09:42:43 am, Sunday, 15 September 2024
  • 109 বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে এখনো ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী আবারো প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পরে গ্রাম।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
   
   
গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে লক্ষ্মীপুরে আবারো গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির আগে কিছু এলাকার পানি কমলেও তা এখন আবার পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে লক্ষ্মীপুর বাসী দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার কবলে পড়ছে।এখনো প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে আছে। 
  বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঘরে ফিরলেও এখনো প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বানভাসি এসব মানুষের অভিযোগ- তারা পর্যাপ্ত ত্রাণও পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত মৎস্য- কৃষি- গবাদিপশুসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।
লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ছকিনা বেগম- শাহেদ আলীসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন- ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছি। বন্যার প্রথম দিকে দিনে তিনবার খাবার পেতাম। 
দুবেলা ভাত ও খিচুড়ি এবং এক বেলা শুকনো খাবার। এখন আর আগের মতো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে দিন কাটছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কীভাবে সামনের দিন যাবে। সব অন্ধকার দেখছি।
এমন অভিযোগ মিলেছে বাঙ্গাখা উচ্চবিদ্যালয়- রশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রামগঞ্জ ও রায়পুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ত্রাণের জন্য তাদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।
সদর উপজেলার হোগল ডহুরী গ্রামের শাহেদ মিয়া ও কুলছুম বেগম বলেন- রাস্তার পাশে যারা রয়েছে। তারা বেশ কয়েকবার ত্রাণ পেয়েছে। আর যারা কিছু দূরে পানিতে ভাসছে, তাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে কেউ যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত একবারও ত্রাণ বা কোনো সহায়তা পাইনি। অর্ধাহারে ও অনাহারে খুবই কষ্টের মধ্যে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটছে। কবে এসব দুর্ভোগ কমবে। বন্যার পানিতে ২৫ দিন ধরে বন্দী রয়েছি। এখন পর্যন্ত হাঁটুর ওপরে পানি। ৩০ বছরেও এমন কষ্টের মধ্যে পড়েননি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সদর উপজেলায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছে বন্যা। এর আগে ভারী বৃষ্টিপাতে আরও ৫ দিনের বেশি সময় ধরে ছিল ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। আবার জেলার কমলনগর এবং রামগতি উপজেলার পূর্বাংশে এক মাস আগ থেকেই জলাবদ্ধতা শুরু হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় উজানের ঢলের পানি। জেলার রায়পুর এবং রামগঞ্জের অধিকাংশ  এলাকাই বন্যাকবলিত। এতে দেখা যায়, জেলার কোথাও এক মাসের বেশি সময় ধরে লোকজন পানিবন্দী হয়ে সীমাহীন কষ্টে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে- ৮ লাখের বেশি লোক পানিবন্দী ছিল। এখনো পানিবন্দী প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন- ১৯৮ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। এখনো ২৫ হাজারের মতো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তবে তাদের খাবারের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ টন চাল ও নগদ ৫৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছেছে। হয়তোবা যেভাবে সবাই আশা করছে- সেভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর খোঁজখবর নিচ্ছি। 
এ দিকে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সে সব কেন্দ্রে সরকারি ভাবে কোন ত্রাণই আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিটি খাতে ১০লাখ লোকের কর্মসংস্থান করা হবে: তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

লক্ষ্মীপুরে এখনো ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী আবারো প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পরে গ্রাম।।

আপডেট সময় : 09:42:43 am, Sunday, 15 September 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
   
   
গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে লক্ষ্মীপুরে আবারো গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির আগে কিছু এলাকার পানি কমলেও তা এখন আবার পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে লক্ষ্মীপুর বাসী দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার কবলে পড়ছে।এখনো প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে আছে। 
  বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঘরে ফিরলেও এখনো প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বানভাসি এসব মানুষের অভিযোগ- তারা পর্যাপ্ত ত্রাণও পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত মৎস্য- কৃষি- গবাদিপশুসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।
লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ছকিনা বেগম- শাহেদ আলীসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন- ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছি। বন্যার প্রথম দিকে দিনে তিনবার খাবার পেতাম। 
দুবেলা ভাত ও খিচুড়ি এবং এক বেলা শুকনো খাবার। এখন আর আগের মতো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে দিন কাটছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কীভাবে সামনের দিন যাবে। সব অন্ধকার দেখছি।
এমন অভিযোগ মিলেছে বাঙ্গাখা উচ্চবিদ্যালয়- রশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রামগঞ্জ ও রায়পুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ত্রাণের জন্য তাদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।
সদর উপজেলার হোগল ডহুরী গ্রামের শাহেদ মিয়া ও কুলছুম বেগম বলেন- রাস্তার পাশে যারা রয়েছে। তারা বেশ কয়েকবার ত্রাণ পেয়েছে। আর যারা কিছু দূরে পানিতে ভাসছে, তাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে কেউ যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত একবারও ত্রাণ বা কোনো সহায়তা পাইনি। অর্ধাহারে ও অনাহারে খুবই কষ্টের মধ্যে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটছে। কবে এসব দুর্ভোগ কমবে। বন্যার পানিতে ২৫ দিন ধরে বন্দী রয়েছি। এখন পর্যন্ত হাঁটুর ওপরে পানি। ৩০ বছরেও এমন কষ্টের মধ্যে পড়েননি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সদর উপজেলায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছে বন্যা। এর আগে ভারী বৃষ্টিপাতে আরও ৫ দিনের বেশি সময় ধরে ছিল ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। আবার জেলার কমলনগর এবং রামগতি উপজেলার পূর্বাংশে এক মাস আগ থেকেই জলাবদ্ধতা শুরু হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় উজানের ঢলের পানি। জেলার রায়পুর এবং রামগঞ্জের অধিকাংশ  এলাকাই বন্যাকবলিত। এতে দেখা যায়, জেলার কোথাও এক মাসের বেশি সময় ধরে লোকজন পানিবন্দী হয়ে সীমাহীন কষ্টে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে- ৮ লাখের বেশি লোক পানিবন্দী ছিল। এখনো পানিবন্দী প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন- ১৯৮ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। এখনো ২৫ হাজারের মতো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তবে তাদের খাবারের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ টন চাল ও নগদ ৫৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছেছে। হয়তোবা যেভাবে সবাই আশা করছে- সেভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর খোঁজখবর নিচ্ছি। 
এ দিকে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সে সব কেন্দ্রে সরকারি ভাবে কোন ত্রাণই আসেনি।