Dhaka , Sunday, 31 August 2025
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
উখিয়ায় ভুয়া আর্মি অফিসার আটক রাজাপুরে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর খাল থেকে কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার নির্বাচনের আগেই গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান চাই, র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি বাঁকখালী নদী দখল ও দূষণমুক্ত  করতে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে চবির নতুন প্রশাসনের উদ্যোগে ৩৬ বছরের অচলাবস্থার অবসান মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধূলা খেলাধুলার বিকল্প নেই: ইউ এন ও মোশারফ হোসেন উখিয়ায় সাগরে মাছ ধরতে নেমে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ মায়ের চরণে সন্তানের ভালোবাসা, রামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো মাতৃপূজা রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ -১ আসনের নির্বাচনী দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত  জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ধানের শীষের দাওয়াত পৌছে দিতে হবে- কাজল চন্দনাইশে মাইক্রোবাসের ধাক্কায়  প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুকুরে ভেসে থাকা সালমান নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ শরীয়তপুরে জোড়া খুন: বিএনপি নেতা হত্যার আসামি আলমাছের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার সাতকানিয়ায় ডিগ্রীহীন দাঁতের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান তিনজনকে জরিমানা  দল নমিনেশন দিক বা না দিক রাঙ্গুনিয়াবাসীর গোলামী করে যাবো :- হুমাম কাদের চৌধুরী মানবতার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে : মুহাম্মদ আবদুল জব্বার নৈতিকতা ও সামাজিক জীবনধারায় ওসি নাজমুল আলম জনগণের পাশে  সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি রাজাপুরে নবাগত ইউএনওকে যুবদল ও ইসলামি আন্দোলনের শুভেচ্ছা সাতকানিয়ায় ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার সাভার আশুলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৯ জন রূপগঞ্জে প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত পাবনায় ১শ ৮০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ” মাসকলাই বীজ ও সার” বিতরণ জামায়াতে ইসলামী  নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে : বকুল কালিয়াকৈরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  সদরপুরে বাইশরশি শিব সুন্দরী একাডেমীতে দুঃসাহসিক চুরি  সিলেটে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ রূপগঞ্জে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাসান আলীর সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে গ্যাসের চার শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্লাস্টিকের স্রোতে ভাসছে উপকূল- সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:58:50 pm, Tuesday, 22 April 2025
  • 58 বার পড়া হয়েছে

প্লাস্টিকের স্রোতে ভাসছে উপকূল- সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে মানুষ

শওকত আলম, কক্সবাজার

    

বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে উপচে পড়ছে বোতল, ব্যাগ, মোড়কসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে যেমন হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জীবনযাপনও। সম্প্রতি উপকূলীয় একটি সৈকতে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একাই সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করছেন। এই একক প্রচেষ্টা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি তা আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতিফলনও।

জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর সমুদ্রে প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক পড়ে। এর বড় একটি অংশ আসে অব্যবস্থাপনার কারণে। প্লাস্টিকের এই বিষাক্ত জাল ফাঁদে পড়ে যায় মাছ, কচ্ছপ, পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ—নদীর সঙ্গে সমুদ্রেও পৌঁছে যাচ্ছে শহর থেকে আসা অব্যবস্থাপিত বর্জ্য।

কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, মহেশখালী, ভোলা, খুলনার দ্বীপাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সৈকতের চিত্র প্রায় এক—যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে গেছে বালুকাবেলা। অতিরিক্ত পর্যটক প্রবাহ ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে দূষণের মাত্রা।

প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। এই প্রাণীগুলো মানুষের খাদ্য তালিকায় থাকায়, পরোক্ষভাবে এই বিষাক্ত কণাগুলো মানবদেহেও প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, হরমোনজনিত সমস্যা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সত্ত্বেও, মানুষ থেমে নেই। ছবির ওই ব্যক্তি, এবং তার মতো অনেকেই নিজ উদ্যোগে সৈকত পরিষ্কারে নামছেন। বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। “সেভ দ্য বে”, “ক্লিন কক্সবাজার”, “গ্রিন বাংলাদেশ” ইত্যাদি সংগঠন নিয়মিত পরিষ্কার অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করে আসছে।

পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কিছু কার্যকর উদ্যোগ:

প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ: সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব বিকল্প: পাট, কাগজ, কাঁচের তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহর ও উপকূলে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ ও রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা।

আইন প্রয়োগ: পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর মনোভাব।

সচেতনতা: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি।

প্লাস্টিক দূষণ শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়—এটি স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। একক বা ব্যক্তি উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপ। এখনই সময়, নিজেদের জীবন ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে আমরা সবাই যেন দায়িত্ব নিই—অন্যথায়, দূষণের ঢেউয়ে একদিন হয়তো আমাদের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় ভুয়া আর্মি অফিসার আটক

প্লাস্টিকের স্রোতে ভাসছে উপকূল- সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসছে মানুষ

আপডেট সময় : 12:58:50 pm, Tuesday, 22 April 2025

শওকত আলম, কক্সবাজার

    

বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে উপচে পড়ছে বোতল, ব্যাগ, মোড়কসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে যেমন হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জীবনযাপনও। সম্প্রতি উপকূলীয় একটি সৈকতে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একাই সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করছেন। এই একক প্রচেষ্টা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি তা আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতিফলনও।

জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর সমুদ্রে প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক পড়ে। এর বড় একটি অংশ আসে অব্যবস্থাপনার কারণে। প্লাস্টিকের এই বিষাক্ত জাল ফাঁদে পড়ে যায় মাছ, কচ্ছপ, পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ—নদীর সঙ্গে সমুদ্রেও পৌঁছে যাচ্ছে শহর থেকে আসা অব্যবস্থাপিত বর্জ্য।

কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, মহেশখালী, ভোলা, খুলনার দ্বীপাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সৈকতের চিত্র প্রায় এক—যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে গেছে বালুকাবেলা। অতিরিক্ত পর্যটক প্রবাহ ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে দূষণের মাত্রা।

প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। এই প্রাণীগুলো মানুষের খাদ্য তালিকায় থাকায়, পরোক্ষভাবে এই বিষাক্ত কণাগুলো মানবদেহেও প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, হরমোনজনিত সমস্যা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সত্ত্বেও, মানুষ থেমে নেই। ছবির ওই ব্যক্তি, এবং তার মতো অনেকেই নিজ উদ্যোগে সৈকত পরিষ্কারে নামছেন। বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। “সেভ দ্য বে”, “ক্লিন কক্সবাজার”, “গ্রিন বাংলাদেশ” ইত্যাদি সংগঠন নিয়মিত পরিষ্কার অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করে আসছে।

পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কিছু কার্যকর উদ্যোগ:

প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ: সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব বিকল্প: পাট, কাগজ, কাঁচের তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহর ও উপকূলে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহ ও রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা।

আইন প্রয়োগ: পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর মনোভাব।

সচেতনতা: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি।

প্লাস্টিক দূষণ শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়—এটি স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। একক বা ব্যক্তি উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপ। এখনই সময়, নিজেদের জীবন ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে আমরা সবাই যেন দায়িত্ব নিই—অন্যথায়, দূষণের ঢেউয়ে একদিন হয়তো আমাদের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে।