
নুর মোহাম্মদ, কক্সবাজার:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি কাঁচা দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বাজারে একটি দোকানে জ্বালানো মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশেপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে মুদির দোকান, চায়ের দোকান, ফার্নিচারের দোকান, পানের দোকান এবং রাবার মজুদের দুটি দোকানসহ মোট ছয় দোকান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে রাবার ব্যবসায়ী মো. জসিম ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমার দোকানে আড়াই টন রাবার, ৪১ বস্তা চাল, ৩২টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার, ৪টি এসিড ট্যাংক, রাবার গাছ কাটার চাকো ভর্তি ১ কার্টুন, রাবার গাছ থেকে রস সংগ্রহের দেড় হাজারের বেশি পাত্র (বাটি) ও ঝুলানোর হ্যাঙ্গারসহ আরও অনেক মালামাল ছিল। সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমি পুরোপুরি পথে বসে গেলাম।
অগ্নি নির্বাপনে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ১ জন সাব-অফিসার, ২ জন ড্রাইভার ও ৭ জন ফায়ার ফাইটার কাজ করেন। স্টেশনটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. শাহিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের উৎস ছিল মশার কয়েল। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে।
তিনি আরও বলেন, শীতকাল ও শুকনো মৌসুমে বাজার এবং বসতবাড়িতে আগুনের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সবাইকে সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বাইশারী ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান, তাহার ছোট ভাই শহিদুল ইসলামের মুদির দোকানটির সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বলতে গেলে সে একবারে নি:স্ব হয়ে গেছে। পাশাপাশি তাহার ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

























