Dhaka , Thursday, 16 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক নিরাপত্তা বলয়ে পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ইউএনও’র কেন্দ্র পরিদর্শন উচ্চশিক্ষার পথে বাধা দূর করল জেলা প্রশাসন: ঢাবি-জবিতে ভর্তির সুযোগ পেল ৬ অসচ্ছল মেধাবী বিগত ১৭ বছরে কিছু লোক এসেছিল তারা খেলার নামে রং তামাশা করেছে: মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ভাড়া বাসায় মদের কারবার,বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার-১ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল তুরাগের আকস্মিক পানি বৃদ্ধি রুখে কৃষকের স্বস্তি: রাতভর বাঁধ নির্মাণে রক্ষা পেল হাজারো বিঘা ফসল নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় আজ ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫,৫০০ লিটার তেল জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সৌদি ফেরত নোয়াখালীর  সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিমানবন্দরে আটক রূপগঞ্জে কিশোরীর আত্মহত্যা উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ রূপগঞ্জে ৪২০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ ঐতিহ্য রক্ষায় সাংগ্রাই উৎসবের ভূমিকা অপরিসীম:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাপেন্ডিসাইটিস: অবহেলা বয়ে আনতে পারে মারাত্মক ঝুঁকি পহেলা বৈশাখে উৎসবে ভাসলো রায়পুর: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৪৩৩-কে স্বাগত। কালীগঞ্জে র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান: গোয়ালঘর থেকে মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পাইকগাছায় নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন : প্রতিমন্ত্রী আড়াইহাজারে মাদ্রাসার ঝুঁকিপূর্ণ বাউন্ডারি দেয়াল, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও পথচারী ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে পহেলা বৈশাখ: মঙ্গল শোভাযাত্রায় নবযাত্রার স্বপ্নে ঢাকাবাসী এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার অন্তরের অত্যন্ত কাছের, কারন আমার বাবা-মা দুজনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন: নববর্ষে চবিতে মীর হেলাল শ্রীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন বছর সাজানোর আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল কুড়িগ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হাতীবান্ধা ও নাগেশ্বরী সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে পৌনে ২ লাখ টাকার মালামাল জব্দ মধুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রূপগঞ্জে বাংলা নববর্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি আনন্দ উৎসবে বোয়ালী ইউনিয়নে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

ছাত্রলীগের মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে -লক্ষ্মীপুরে মামুনুল হক।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:37:36 pm, Saturday, 26 October 2024
  • 118 বার পড়া হয়েছে

ছাত্রলীগের মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে -লক্ষ্মীপুরে মামুনুল হক।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবে আর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই- সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে তারা প্রমাণ করেছে- আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনীতি ছিল সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি। আমরা বলতে চাই- শুধু ছাত্রলীগ নয়- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেও বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। 
  লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীর লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে গতকাল  তিনি এ সব কথা বলেন। ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন- যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মৃত্যুপুরী করেছে- সারা বাংলার ৫৫ হাজার বর্গ মাইলকে এ দেশের সন্তানদের রক্ত দ্বারা লাল করেছে- সে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
মামুনুল হক বলেন- ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের নবীপ্রেমী তৌহিদী জনতার ওপর পরিচালিত গণহত্যায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই গণহত্যার জন্য ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এবং খুনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে হবে। সে মামলায় বিচার করতে হবে। বাংলার মানুষ ইতিহাসের জঘন্যতম খুনির বিচার দেখতে চায়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন- যে দেশে ফ্যাসিবাদ উৎখাতের জন্য স্বৈরাচার পতনের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে- শুধু ১ জুলাই থেকে আগস্টের সর্বশেষ রিপোর্ট পর্যন্ত এক হাজার ৬৩২ জন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও কত অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছে- তাদের লাশের হদিস পরিবারের কাছে নেই। এভাবে বিগত ১৫ বছরে কত হাজার মানুষকে হত্যা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মসনদকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল।
শেখ হাসিনা বিগত ৫০ বছর ধরে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছেন বলে সমালোচনা করেন মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করেছিল। সে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। এমনকি নিজের দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তার ধারণা ছিল ১৯৭৫ সালে তার বাবাকে খুন করেছে এদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ। এজন্য সে ঘোষণা দিয়েছিল- যারা তার বাবার হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করেছে, সে এ জাতির কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। এরপর বিগত ৫০ বছর ধরে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করে গেছে। এভাবে সে প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করার যত আয়োজন সবগুলো সে করেছে। সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায়নি, চেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হতে।
মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে জানিয়ে খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে তারা। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করাই ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতি। অন্য আরেকটি দেশের সেবাদাসী হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদকে কুক্ষিগত করে এদেশের মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে সে রাজনীতি করে গেছে।
মামুনুল হক আরও বলেন, ১৫ বছর পর্যন্ত ভারত শুধু শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। আর এ সম্পর্ক রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতাকে তার দুপায়ের নিচে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে সারা পৃথিবী- আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মানুষকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিকারহারা করেছে। আর তারা -ভারত- তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেছিল।
তিনি বলেন- এখন খুনি শেখ হাসিনা- যার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, বাংলাদেশের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একজন খুনি, একজন হত্যাকারী- গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই- যে কোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহযোগিতা নিয়ে হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করে খুনি শেখ হাসিনাসহ তার সব দোসরকে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে।
ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন- আমরা চাই একটি বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ গড়তে- ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে। বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে মানব রচিত তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আল্লাহ প্রদত্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। সে বন্দোবস্ত হলো খেলাফত ব্যবস্থা৷ আমরা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে আমাদের যাত্রা থামিয়ে দিতে চাই না৷ আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে।
গণ সমাবেশে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ- মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন- মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি- সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল- মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল- মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা ওজায়ের আমিন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ক মো. বায়েজিদসহ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক

ছাত্রলীগের মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে -লক্ষ্মীপুরে মামুনুল হক।।

আপডেট সময় : 02:37:36 pm, Saturday, 26 October 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবে আর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই- সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে তারা প্রমাণ করেছে- আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনীতি ছিল সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি। আমরা বলতে চাই- শুধু ছাত্রলীগ নয়- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেও বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। 
  লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীর লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে গতকাল  তিনি এ সব কথা বলেন। ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন- যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মৃত্যুপুরী করেছে- সারা বাংলার ৫৫ হাজার বর্গ মাইলকে এ দেশের সন্তানদের রক্ত দ্বারা লাল করেছে- সে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
মামুনুল হক বলেন- ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের নবীপ্রেমী তৌহিদী জনতার ওপর পরিচালিত গণহত্যায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই গণহত্যার জন্য ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এবং খুনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে হবে। সে মামলায় বিচার করতে হবে। বাংলার মানুষ ইতিহাসের জঘন্যতম খুনির বিচার দেখতে চায়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন- যে দেশে ফ্যাসিবাদ উৎখাতের জন্য স্বৈরাচার পতনের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে- শুধু ১ জুলাই থেকে আগস্টের সর্বশেষ রিপোর্ট পর্যন্ত এক হাজার ৬৩২ জন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও কত অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছে- তাদের লাশের হদিস পরিবারের কাছে নেই। এভাবে বিগত ১৫ বছরে কত হাজার মানুষকে হত্যা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মসনদকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল।
শেখ হাসিনা বিগত ৫০ বছর ধরে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছেন বলে সমালোচনা করেন মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করেছিল। সে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। এমনকি নিজের দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তার ধারণা ছিল ১৯৭৫ সালে তার বাবাকে খুন করেছে এদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ। এজন্য সে ঘোষণা দিয়েছিল- যারা তার বাবার হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করেছে, সে এ জাতির কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। এরপর বিগত ৫০ বছর ধরে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করে গেছে। এভাবে সে প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করার যত আয়োজন সবগুলো সে করেছে। সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায়নি, চেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হতে।
মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে জানিয়ে খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে তারা। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করাই ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতি। অন্য আরেকটি দেশের সেবাদাসী হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদকে কুক্ষিগত করে এদেশের মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে সে রাজনীতি করে গেছে।
মামুনুল হক আরও বলেন, ১৫ বছর পর্যন্ত ভারত শুধু শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। আর এ সম্পর্ক রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতাকে তার দুপায়ের নিচে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে সারা পৃথিবী- আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মানুষকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিকারহারা করেছে। আর তারা -ভারত- তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেছিল।
তিনি বলেন- এখন খুনি শেখ হাসিনা- যার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, বাংলাদেশের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একজন খুনি, একজন হত্যাকারী- গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই- যে কোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহযোগিতা নিয়ে হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করে খুনি শেখ হাসিনাসহ তার সব দোসরকে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে।
ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন- আমরা চাই একটি বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ গড়তে- ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে। বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে মানব রচিত তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আল্লাহ প্রদত্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। সে বন্দোবস্ত হলো খেলাফত ব্যবস্থা৷ আমরা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে আমাদের যাত্রা থামিয়ে দিতে চাই না৷ আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে।
গণ সমাবেশে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ- মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন- মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি- সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল- মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল- মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা ওজায়ের আমিন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ক মো. বায়েজিদসহ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।