Dhaka , Saturday, 18 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুরে রথযাত্রা, অংশ নিলেন সহস্রাধিক ভক্ত গর্জনিয়ায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসে ঢাবি ছাত্রশিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টু আটক শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা :- বান্দরবানে ভুমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেয়া হবে, ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হবে: কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগেই রচিত হয়েছে দেশের রাজনীতির নতুন ধারা’:- ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাইকগাছা পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সাইট পরিদর্শন ইউএনওর উদ্যোগে দুই যুগের সংস্কারহীন সড়কের দুর্ভোগের অবসান; স্বস্তি এলাকাবাসীর রামগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার টানা বৃষ্টিতে রামগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি বিপাকে সাধারণ মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের ৮ মাস: তৃপ্তিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে আহাজারি মায়ের। বঙ্গোপসাগর উপকূলে নৌকাডুবি, ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিহত কক্সবাজারে স্কুলছাত্র অপহরণ : রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বাঁশখালীতে ড্যাব, চট্টগ্রাম এর খাবার ও ঔষধ বিতরণ জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম সিএমপি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচার সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবর পাইকগাছায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত মধুপুরে জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত সম্পদের লোভে ওমান প্রবাসীর ওপর পৈশাচিকতা: ৫ দিন ঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন। জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার: পুলিশ সুপার জনগণের প্রতি সরকার শতভাগ দায়বদ্ধ, বাঘাইছড়িতে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নগরীর মুরাদপুরে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে চরভদ্রাসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ছাত্রলীগের মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে -লক্ষ্মীপুরে মামুনুল হক।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:37:36 pm, Saturday, 26 October 2024
  • 151 বার পড়া হয়েছে

ছাত্রলীগের মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে -লক্ষ্মীপুরে মামুনুল হক।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবে আর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই- সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে তারা প্রমাণ করেছে- আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনীতি ছিল সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি। আমরা বলতে চাই- শুধু ছাত্রলীগ নয়- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেও বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। 
  লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীর লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে গতকাল  তিনি এ সব কথা বলেন। ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন- যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মৃত্যুপুরী করেছে- সারা বাংলার ৫৫ হাজার বর্গ মাইলকে এ দেশের সন্তানদের রক্ত দ্বারা লাল করেছে- সে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
মামুনুল হক বলেন- ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের নবীপ্রেমী তৌহিদী জনতার ওপর পরিচালিত গণহত্যায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই গণহত্যার জন্য ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এবং খুনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে হবে। সে মামলায় বিচার করতে হবে। বাংলার মানুষ ইতিহাসের জঘন্যতম খুনির বিচার দেখতে চায়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন- যে দেশে ফ্যাসিবাদ উৎখাতের জন্য স্বৈরাচার পতনের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে- শুধু ১ জুলাই থেকে আগস্টের সর্বশেষ রিপোর্ট পর্যন্ত এক হাজার ৬৩২ জন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও কত অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছে- তাদের লাশের হদিস পরিবারের কাছে নেই। এভাবে বিগত ১৫ বছরে কত হাজার মানুষকে হত্যা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মসনদকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল।
শেখ হাসিনা বিগত ৫০ বছর ধরে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছেন বলে সমালোচনা করেন মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করেছিল। সে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। এমনকি নিজের দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তার ধারণা ছিল ১৯৭৫ সালে তার বাবাকে খুন করেছে এদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ। এজন্য সে ঘোষণা দিয়েছিল- যারা তার বাবার হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করেছে, সে এ জাতির কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। এরপর বিগত ৫০ বছর ধরে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করে গেছে। এভাবে সে প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করার যত আয়োজন সবগুলো সে করেছে। সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায়নি, চেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হতে।
মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে জানিয়ে খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে তারা। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করাই ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতি। অন্য আরেকটি দেশের সেবাদাসী হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদকে কুক্ষিগত করে এদেশের মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে সে রাজনীতি করে গেছে।
মামুনুল হক আরও বলেন, ১৫ বছর পর্যন্ত ভারত শুধু শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। আর এ সম্পর্ক রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতাকে তার দুপায়ের নিচে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে সারা পৃথিবী- আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মানুষকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিকারহারা করেছে। আর তারা -ভারত- তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেছিল।
তিনি বলেন- এখন খুনি শেখ হাসিনা- যার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, বাংলাদেশের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একজন খুনি, একজন হত্যাকারী- গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই- যে কোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহযোগিতা নিয়ে হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করে খুনি শেখ হাসিনাসহ তার সব দোসরকে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে।
ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন- আমরা চাই একটি বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ গড়তে- ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে। বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে মানব রচিত তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আল্লাহ প্রদত্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। সে বন্দোবস্ত হলো খেলাফত ব্যবস্থা৷ আমরা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে আমাদের যাত্রা থামিয়ে দিতে চাই না৷ আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে।
গণ সমাবেশে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ- মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন- মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি- সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল- মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল- মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা ওজায়ের আমিন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ক মো. বায়েজিদসহ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরে রথযাত্রা, অংশ নিলেন সহস্রাধিক ভক্ত

ছাত্রলীগের মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করতে হবে -লক্ষ্মীপুরে মামুনুল হক।।

আপডেট সময় : 02:37:36 pm, Saturday, 26 October 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবে আর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই- সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে তারা প্রমাণ করেছে- আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনীতি ছিল সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি। আমরা বলতে চাই- শুধু ছাত্রলীগ নয়- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেও বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। 
  লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীর লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে গতকাল  তিনি এ সব কথা বলেন। ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন- যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মৃত্যুপুরী করেছে- সারা বাংলার ৫৫ হাজার বর্গ মাইলকে এ দেশের সন্তানদের রক্ত দ্বারা লাল করেছে- সে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
মামুনুল হক বলেন- ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের নবীপ্রেমী তৌহিদী জনতার ওপর পরিচালিত গণহত্যায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই গণহত্যার জন্য ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এবং খুনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে হবে। সে মামলায় বিচার করতে হবে। বাংলার মানুষ ইতিহাসের জঘন্যতম খুনির বিচার দেখতে চায়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন- যে দেশে ফ্যাসিবাদ উৎখাতের জন্য স্বৈরাচার পতনের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে- শুধু ১ জুলাই থেকে আগস্টের সর্বশেষ রিপোর্ট পর্যন্ত এক হাজার ৬৩২ জন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আরও কত অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছে- তাদের লাশের হদিস পরিবারের কাছে নেই। এভাবে বিগত ১৫ বছরে কত হাজার মানুষকে হত্যা করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মসনদকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল।
শেখ হাসিনা বিগত ৫০ বছর ধরে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছেন বলে সমালোচনা করেন মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করেছিল। সে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। এমনকি নিজের দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। তার ধারণা ছিল ১৯৭৫ সালে তার বাবাকে খুন করেছে এদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ। এজন্য সে ঘোষণা দিয়েছিল- যারা তার বাবার হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করেছে, সে এ জাতির কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। এরপর বিগত ৫০ বছর ধরে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি করে গেছে। এভাবে সে প্রতিশোধ ও বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ধ্বংস করার যত আয়োজন সবগুলো সে করেছে। সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায়নি, চেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হতে।
মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে জানিয়ে খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ যাতে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে তারা। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করাই ছিল শেখ হাসিনার রাজনীতি। অন্য আরেকটি দেশের সেবাদাসী হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদকে কুক্ষিগত করে এদেশের মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে সে রাজনীতি করে গেছে।
মামুনুল হক আরও বলেন, ১৫ বছর পর্যন্ত ভারত শুধু শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। আর এ সম্পর্ক রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতাকে তার দুপায়ের নিচে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে সারা পৃথিবী- আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মানুষকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অধিকারহারা করেছে। আর তারা -ভারত- তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেছিল।
তিনি বলেন- এখন খুনি শেখ হাসিনা- যার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, বাংলাদেশের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একজন খুনি, একজন হত্যাকারী- গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই- যে কোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহযোগিতা নিয়ে হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করে খুনি শেখ হাসিনাসহ তার সব দোসরকে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে।
ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন- আমরা চাই একটি বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ গড়তে- ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে। বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে মানব রচিত তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আল্লাহ প্রদত্ত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। সে বন্দোবস্ত হলো খেলাফত ব্যবস্থা৷ আমরা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে আমাদের যাত্রা থামিয়ে দিতে চাই না৷ আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে।
গণ সমাবেশে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ- মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন- মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি- সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল- মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল- মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা ওজায়ের আমিন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ক মো. বায়েজিদসহ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম।