Dhaka , Sunday, 8 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লালমনিরহাটে বিরল বন্যপ্রাণী উদ্ধার: ডিবির জালে ৩টি তক্ষক লালমনিরহাটে নাটকীয় মোড়: জামিন পেয়ে আদালত চত্বর ছাড়ার আগেই ডিবির জালে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী লক্ষ্মীপুরে ঈদের বাজার করতে এসে দেওয়াল ধ্বসে যুবকের মৃত্যু মধুপুরে এক সেবনকারীকে ১ বছরের কারাদণ্ড মধুপুরে চাঞ্চল্যকর অটো চুরির মামলার রহস্য উদঘাটন চোর গ্রেফতার পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত সাংবাদিকদের সম্মানে ছাত্রশিবিরের ইফতার ও মতবিনিময় সভা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ বন্ধে ড্রেনেজ আটকে রূপগঞ্জের স্কুলে ময়লা পানির সয়লাব, মানববন্ধন জলাবদ্ধতা কমাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সিএমপি ‘র উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিসিটিভি কার্যক্রমের উদ্বোধন অপরাধ দমনে কোনো ছাড় নয়, দলমত নির্বিশেষে জিরো টলারেন্স: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল টেকনাফে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযান: ৩২ জন মালয়েশিয়াগামী উদ্ধার লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত: রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান অংশীদারিত্বের আহ্বান রংপুরে র‍্যাবের জোড়া অভিযান: লালমনিরহাটসহ তিন জেলার ৫ মাদক কারবারি আটক লালমনিরহাটে জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা কাঁঠালিয়ার তালগাছিয়া দরবার শরীফে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পীরগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সভা বাংলাদেশ–সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক জোরদারে কাজ করার আশাবাদ: রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে :সড়ক ও সেতুমন্ত্রী সাড়ে পাঁচ মাসে কোরআনে হাফেজ ১০ বছরের জুবায়ের ​হরিপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত ইবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষায় দারুল কুরআন নুরানী মাদ্রাসার উজ্জ্বল সাফল্য সাভারে ভেজাল তেল ও ডিটারজেন্ট কারখানা সিলগালা, ব্যবস্থাপক কারাদণ্ড ও জরিমানা। ডাক্তার দেখানোর ছদ্মবেশে ইয়াবা বিক্রি, নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পূর্বাচল প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার ও দুস্থ্যদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মোটরসাইকেল যোগে ছিনতাইকালে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে এক ছিনতাইকারী নিহত। দিনাজপুরের বিরল সীমান্তে বিজিবি–র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ২৯৯ বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাপসহ আটক ২ কক্সবাজারের উন্নয়ন: সমস্যা-সম্ভাবনা ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসনে ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল। মমতা’র উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাজে অপরাধ দমন ও অপরাধী গ্রেফতারে সরকার সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছে: মীর হেলাল

চবি ল্যাবরেটরী কলেজের ১১ শিক্ষককে অমানবিকভাবে অপসারণ, প্রশ্নবিদ্ধ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া   

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:16:16 pm, Saturday, 14 February 2026
  • 18 বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আইইআর) এর আওতাধীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক একটি দলের প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়ম সহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর আদেশ অমান্য করে এবং মহামান্য হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত বিচারকার্য চলমান থাকা অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখার অভিযোগ করেছেন কলেজটি থেকে অপসারিত ১১ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
জানা যায়, ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখ প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মাধ্যমিক শাখায় ১১টি ও উচ্চমাধ্যমিক শাখায় ১১টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ৮ মে ২০২৫ তারিখে ইউজিসি এক নির্দেশনায় উক্ত সকল প্রকার নিয়োগ স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করেন এবং একই সঙ্গে ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউজিসি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ “ইউজিসি কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ ও প্রভাষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতি প্রসঙ্গে” লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইউজিসির স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরোনো বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই অস্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থায়ীভাবে নিয়োগপত্র প্রদান করে। যদিও উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় প্রভাষক পদে ১১টি শূন্যপদের বিপরীতে ৯ জনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউজিসি পুনরায় নির্দেশনা দেয় নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঐ নির্দেশনা অমান্য করে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পূর্বের স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে ৮ জন এবং অফিস সময়ের বাহিরে গিয়ে আরও ১ জন (পদার্থবিজ্ঞান) প্রভাষকের যোগদান সম্পন্ন করা হয়। এবংকি যোগদানপত্রে ত্রুটি থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এবং বর্তমান প্রশাসনের স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত ৯ প্রভাষক হলেন- ১/ মোঃ আল আমিন, ২/ মোঃ তরিকুল ইসলাম, ৩/ হামেদ হাসান আলব্বী, ৪/ ফারজানা শিরিন, ৫/ শাহরিয়ার মাহমুদ, ৬/ মিশকাত কবির আজাদ, ৭/ আয়েশা আক্তার, ৮/ নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, ৯/ ফয়সাল আল ফাহাদ।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ১৬ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ আবদুল কাইয়ুমকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের আপন ভাই বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির ৪৫ তম সভায় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যে, উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় খন্ডকালীন ও মাধ্যমিক শাখায় এডহক ভিত্তিতে নিয়োজিত সকল শিক্ষকদের বয়স থাকা সাপেক্ষে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বা অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে শূন্য পদ গুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে। এবংকি জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়েও ছয় দফায় প্রতিষ্ঠানটির ১১ জন খণ্ডকালীন শিক্ষকের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যারা গত ৩ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ থেকে প্রায় অর্ধেক পারিশ্রমিকে সারে ৪ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটিতে পূর্ণকালীন শিক্ষকের মতোই সম্পূর্ণ কলেজের পাঠ কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির ৫০ তম সভায় ভুক্তভোগী ১১ জন শিক্ষকের খন্ডকালীন মেয়াদ ৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সর্বশেষ, পূর্বে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থায়ীকরণের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে। এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের অপসারণ করা হয়, যা ভুক্তভোগীদের ভাষায় নিয়মবহির্ভূত ও অমানবিক। অপসারিত ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হলেন- ১/ মোঃ মুরাদ হোসেন চৌধুরী, ২/ আয়েশা ফেরদৌস, ৩/ আবদুল মামুন, ৪/ মোঃ ইসমাইল হোসেন, ৫/ মোঃ পারভেজ, ৬/ মোঃ ওমর ফারুক, ৭/ জান্নাতুল নাঈম, ৮/ সজীব রুদ্র, ৯/ শরিফুল ইসলাম, ১০/ অনুপম রুদ্র, ১১/ মোঃ ওসমান গনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে ও মহামান্য হাইকোর্টে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তড়িঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই অবৈধ বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসিমা পারভীন বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর তাগিদ দেওয়ার পরেও দুঃখজনকভাবে তাদেরকে অপসারণ করা হলো। কিন্তু কলেজটি এতদিন তারাই চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউজিসি বলছে যে, এতোদিন যেভাবে চলেছে সেভাবেই চলুক, চূড়ান্ত অর্গেনোগ্রাম পাস হওয়ার পরে বাজেট আসার পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নেওয়া হোক। কিন্তু এই প্রশাসন এটা মানে নাই। তিনি দুঃখের সাথে আরও বলেন, কিন্তু ওরা (চবি প্রশাসন) এই দোনটা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন এবং অত্যন্ত অমানবিকভাবে যারা এতদিন কলেজটি চালিয়েছে তাদেরকে অবসায়ন পত্র দিয়ে বের করে দিয়েছে। সেই সাথে আমিও।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে জামাতিকরণ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছে। প্রথমে গভর্নিং বডি পুরোটা দখল করে প্রোভিসি। পরে অমানবিকভাবে কলেজে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শিক্ষকদের চাকরীচ্যুত করে সাবেক শিবির কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। প্রিন্সিপাল হিসাবে বেছে নেয়া হয়েছে দূর্নীতিগ্রস্ত একজনকে, যে রেজিস্ট্রারের আপন ছোটভাই। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার নামে যে নাটক করা হয়েছে, তার প্রশ্ন প্রোভিসি শামীম উদ্দিন খান নিজস্ব তত্বাবধানে নিজস্ব লোক ও প্রার্থীদের সমন্বয় করে নির্বাচন করে নিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে বিরল বন্যপ্রাণী উদ্ধার: ডিবির জালে ৩টি তক্ষক

চবি ল্যাবরেটরী কলেজের ১১ শিক্ষককে অমানবিকভাবে অপসারণ, প্রশ্নবিদ্ধ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া   

আপডেট সময় : 06:16:16 pm, Saturday, 14 February 2026
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আইইআর) এর আওতাধীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক একটি দলের প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়ম সহ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর আদেশ অমান্য করে এবং মহামান্য হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত বিচারকার্য চলমান থাকা অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখার অভিযোগ করেছেন কলেজটি থেকে অপসারিত ১১ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
জানা যায়, ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখ প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মাধ্যমিক শাখায় ১১টি ও উচ্চমাধ্যমিক শাখায় ১১টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ৮ মে ২০২৫ তারিখে ইউজিসি এক নির্দেশনায় উক্ত সকল প্রকার নিয়োগ স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করেন এবং একই সঙ্গে ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউজিসি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ “ইউজিসি কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ ও প্রভাষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতি প্রসঙ্গে” লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইউজিসির স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরোনো বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই অস্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থায়ীভাবে নিয়োগপত্র প্রদান করে। যদিও উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় প্রভাষক পদে ১১টি শূন্যপদের বিপরীতে ৯ জনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউজিসি পুনরায় নির্দেশনা দেয় নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঐ নির্দেশনা অমান্য করে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পূর্বের স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে ৮ জন এবং অফিস সময়ের বাহিরে গিয়ে আরও ১ জন (পদার্থবিজ্ঞান) প্রভাষকের যোগদান সম্পন্ন করা হয়। এবংকি যোগদানপত্রে ত্রুটি থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এবং বর্তমান প্রশাসনের স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত ৯ প্রভাষক হলেন- ১/ মোঃ আল আমিন, ২/ মোঃ তরিকুল ইসলাম, ৩/ হামেদ হাসান আলব্বী, ৪/ ফারজানা শিরিন, ৫/ শাহরিয়ার মাহমুদ, ৬/ মিশকাত কবির আজাদ, ৭/ আয়েশা আক্তার, ৮/ নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, ৯/ ফয়সাল আল ফাহাদ।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ১৬ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ আবদুল কাইয়ুমকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের আপন ভাই বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির ৪৫ তম সভায় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যে, উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় খন্ডকালীন ও মাধ্যমিক শাখায় এডহক ভিত্তিতে নিয়োজিত সকল শিক্ষকদের বয়স থাকা সাপেক্ষে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বা অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে শূন্য পদ গুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে। এবংকি জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়েও ছয় দফায় প্রতিষ্ঠানটির ১১ জন খণ্ডকালীন শিক্ষকের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যারা গত ৩ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ থেকে প্রায় অর্ধেক পারিশ্রমিকে সারে ৪ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটিতে পূর্ণকালীন শিক্ষকের মতোই সম্পূর্ণ কলেজের পাঠ কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির ৫০ তম সভায় ভুক্তভোগী ১১ জন শিক্ষকের খন্ডকালীন মেয়াদ ৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সর্বশেষ, পূর্বে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থায়ীকরণের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে। এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের অপসারণ করা হয়, যা ভুক্তভোগীদের ভাষায় নিয়মবহির্ভূত ও অমানবিক। অপসারিত ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হলেন- ১/ মোঃ মুরাদ হোসেন চৌধুরী, ২/ আয়েশা ফেরদৌস, ৩/ আবদুল মামুন, ৪/ মোঃ ইসমাইল হোসেন, ৫/ মোঃ পারভেজ, ৬/ মোঃ ওমর ফারুক, ৭/ জান্নাতুল নাঈম, ৮/ সজীব রুদ্র, ৯/ শরিফুল ইসলাম, ১০/ অনুপম রুদ্র, ১১/ মোঃ ওসমান গনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে ও মহামান্য হাইকোর্টে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তড়িঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই অবৈধ বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসিমা পারভীন বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর তাগিদ দেওয়ার পরেও দুঃখজনকভাবে তাদেরকে অপসারণ করা হলো। কিন্তু কলেজটি এতদিন তারাই চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউজিসি বলছে যে, এতোদিন যেভাবে চলেছে সেভাবেই চলুক, চূড়ান্ত অর্গেনোগ্রাম পাস হওয়ার পরে বাজেট আসার পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নেওয়া হোক। কিন্তু এই প্রশাসন এটা মানে নাই। তিনি দুঃখের সাথে আরও বলেন, কিন্তু ওরা (চবি প্রশাসন) এই দোনটা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন এবং অত্যন্ত অমানবিকভাবে যারা এতদিন কলেজটি চালিয়েছে তাদেরকে অবসায়ন পত্র দিয়ে বের করে দিয়েছে। সেই সাথে আমিও।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে জামাতিকরণ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছে। প্রথমে গভর্নিং বডি পুরোটা দখল করে প্রোভিসি। পরে অমানবিকভাবে কলেজে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শিক্ষকদের চাকরীচ্যুত করে সাবেক শিবির কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। প্রিন্সিপাল হিসাবে বেছে নেয়া হয়েছে দূর্নীতিগ্রস্ত একজনকে, যে রেজিস্ট্রারের আপন ছোটভাই। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার নামে যে নাটক করা হয়েছে, তার প্রশ্ন প্রোভিসি শামীম উদ্দিন খান নিজস্ব তত্বাবধানে নিজস্ব লোক ও প্রার্থীদের সমন্বয় করে নির্বাচন করে নিয়েছেন।