Dhaka , Thursday, 30 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সদরপুরে হত্যা চেষ্টা মামলায় বিতর্ক, আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র রূপগঞ্জে মাদকসেবীদের হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যালয়ের চাল উড়ে গেল, পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ ২ জন কারাগারে ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পাইকগাছায় রাতে দোকান খোলা রাখায় জরিমানা পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত গাজীপুরে ৬৪ কেজি গাঁজা ও ১২ বোতল বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ গণসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে শব্দদূষণ প্রতিরোধ সম্ভব : বিভাগীয় কমিশনার নরসিংদী বৃষ্টির মধ্যে হাঁটু পানির নিচে সড়ক ঢালাই, এলাকাবাসীর ক্ষোভ শিট না আনায় ক্লাস থেকে বের করে দেয় শিক্ষক, প্যানিক অ্যাটাকে মেডিকেলে এক শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে রামু থেকে ৩২ লাখ টাকা চুরি ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনের দ্রুত পদক্ষেপে জলাবদ্ধতা কমে স্বস্তি ফিরেছে নগরীতে রাজনগরে বন্যায় প্লাবিত দুই গ্রাম, দুর্ভোগে মানুষ চন্দনাইশে মমতা’র আয়োজনে উত্তম ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ প্রাণিসম্পদ উৎপাদন প্রশিক্ষণ বারবার স্থগিত চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনী ভাগ্য কোন পথে? গাজীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৩০ কক্সবাজারে ডিএসকে’র উদ্যোগে যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত নরসিংদী পারিবারিক কলহের জেরে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ কালীগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যানের বন্ধ কক্ষ থেকে সরকারি সম্পদ উধাও: তোলপাড় রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে নিম্নমানের বাসি দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিবেশনে অনিয়মের অভিযোগ \ শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ১৫ বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: সাড়ে ৪ লাখ টাকার মাদক ও মালামাল জব্দ মধুপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাইক বাজিয়ে আ.লীগের স্লোগান, সেই যুবক আটক কালীগঞ্জে র‍্যাবের জালে ৩ মাদক কারবারি: ঘর তল্লাশি করে ৬১১ বোতল মাদক উদ্ধার রূপগঞ্জে ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের ৫ম দিন পালিত রূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণ অভিযান নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা নিয়ে সিএনজি চালক জান্নাত উল্লাহ সাঈদ আটক : গাড়ি জব্দ

চট্টগ্রামের বায়েজিদে মাদকের অঘোষিত সাম্রাজ্য, নিয়ন্ত্রণে দুই ভাই সাইফুল ও টুটুল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:03:33 pm, Saturday, 7 March 2026
  • 25 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বায়েজিদে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচনায় দুই ভাই,এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত আইনের আওতায় আনুন

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা,চাঁদাবাজি, ভূমিধস্য মারামারি ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর সাইফুল ও টুটুলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি,টেক্সটাইল আলামিন মসজিদ এলাকা, চন্দননগর,নাগিন পাহাড়,বাংলাবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে তারা একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী,এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আ জ ম নাছির উদ্দিন এর প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।স্থানীয়রা বলছেন,তারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তার করেছে এবং সেই প্রভাবের জোরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি,দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মাদক বিক্রির একটি সু-সংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।টেক্সটাইল আলামিন মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, চন্দননগর, নাগিন পাহাড় এবং বাংলাবাজারকে কেন্দ্র করে এই মাদক কারবার পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক বাসিন্দা।তাদের অভিযোগ,এসব এলাকায় দিনের পর দিন মাদক লেনদেন চললেও প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাইফুল ও টুটুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করতে গেলেও অনেক সময় চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ শোনা যায়।

একজন স্থানীয় সমাজসেবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। আমাদের বয়সও অনেক হয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি। এখন এলাকায় যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা খুবই উদ্বেগজনক। সাইফুল ও টুটুলের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। মাদক কারবার, মারামারি, এমনকি হত্যার ঘটনাতেও তাদের নাম এসেছে বলে শোনা যায়। তাদের নামে রয়েছে একাধিক মামলাও।এসব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন,আমাদের এলাকার তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অনেক তরুণ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকার যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। একজন ব্যবসায়ী বলেন, এই দুই ভাই এবং তাদের আরেক ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে আমরা শুনে আসছি। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনেকেই তাদেরকে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় স্থানীয় থানা পুলিশও জানে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে আমরা সাধারণ মানুষ হওয়ায় প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারি না। কারণ এসব বিষয়ে কথা বললে অনেক সময় নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সাইফুল ও টুটুলের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মারামারি, হত্যা,মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই ভাই নিজেদেরকে চট্টগ্রাম মহানগরের একটি বড় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচয় দেন। বিশেষ করে সাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সক্রিয় রয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এখনও মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেকুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধান বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন। কিন্তু বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার কিছু স্থানে এখনও মাদক ব্যবসা চলার অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, মাদক ব্যবসা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড বা বড় ধরনের সহিংসতা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুক। যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক। কয়েক বছর জেল হাজতে থাকলে হয়তো তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই দাবি। এলাকায় শান্তি ফিরে আসুক। মাদক ব্যবসা বন্ধ হোক এবং তরুণ প্রজন্মকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করা হোক।
এদিকে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রতিবেদক একাধিকবার সাইফুল ও টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। ফোন ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

তবে স্থানীয়দের আশা,প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সামাজিক পরিবেশ আরও অবনতি ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী মনে করেন,একটি এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা আশা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সদরপুরে হত্যা চেষ্টা মামলায় বিতর্ক, আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের বায়েজিদে মাদকের অঘোষিত সাম্রাজ্য, নিয়ন্ত্রণে দুই ভাই সাইফুল ও টুটুল

আপডেট সময় : 08:03:33 pm, Saturday, 7 March 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বায়েজিদে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচনায় দুই ভাই,এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত আইনের আওতায় আনুন

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা,চাঁদাবাজি, ভূমিধস্য মারামারি ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর সাইফুল ও টুটুলের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি,টেক্সটাইল আলামিন মসজিদ এলাকা, চন্দননগর,নাগিন পাহাড়,বাংলাবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে তারা একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী,এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আ জ ম নাছির উদ্দিন এর প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।স্থানীয়রা বলছেন,তারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তার করেছে এবং সেই প্রভাবের জোরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি,দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মাদক বিক্রির একটি সু-সংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।টেক্সটাইল আলামিন মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, চন্দননগর, নাগিন পাহাড় এবং বাংলাবাজারকে কেন্দ্র করে এই মাদক কারবার পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক বাসিন্দা।তাদের অভিযোগ,এসব এলাকায় দিনের পর দিন মাদক লেনদেন চললেও প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাইফুল ও টুটুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করতে গেলেও অনেক সময় চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ শোনা যায়।

একজন স্থানীয় সমাজসেবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। আমাদের বয়সও অনেক হয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি। এখন এলাকায় যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা খুবই উদ্বেগজনক। সাইফুল ও টুটুলের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। মাদক কারবার, মারামারি, এমনকি হত্যার ঘটনাতেও তাদের নাম এসেছে বলে শোনা যায়। তাদের নামে রয়েছে একাধিক মামলাও।এসব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন,আমাদের এলাকার তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অনেক তরুণ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকার যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। একজন ব্যবসায়ী বলেন, এই দুই ভাই এবং তাদের আরেক ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে আমরা শুনে আসছি। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনেকেই তাদেরকে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় স্থানীয় থানা পুলিশও জানে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে আমরা সাধারণ মানুষ হওয়ায় প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারি না। কারণ এসব বিষয়ে কথা বললে অনেক সময় নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সাইফুল ও টুটুলের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মারামারি, হত্যা,মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই ভাই নিজেদেরকে চট্টগ্রাম মহানগরের একটি বড় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচয় দেন। বিশেষ করে সাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সক্রিয় রয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এখনও মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেকুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধান বিভিন্ন সময় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন। কিন্তু বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার কিছু স্থানে এখনও মাদক ব্যবসা চলার অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, মাদক ব্যবসা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড বা বড় ধরনের সহিংসতা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুক। যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক। কয়েক বছর জেল হাজতে থাকলে হয়তো তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই দাবি। এলাকায় শান্তি ফিরে আসুক। মাদক ব্যবসা বন্ধ হোক এবং তরুণ প্রজন্মকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করা হোক।
এদিকে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রতিবেদক একাধিকবার সাইফুল ও টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। ফোন ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যায়নি।

তবে স্থানীয়দের আশা,প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সামাজিক পরিবেশ আরও অবনতি ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী মনে করেন,একটি এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা আশা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।