
তৌহিদ বেলাল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।
ক্যান্সার আক্রান্ত ফজল করিম বাঁচতে চান। কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালির এই বাসিন্দা অর্থাভাবে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসেছেন। ৬ সন্তানের জনক, হতদরিদ্র ফজল করিমের শেষ ভরসা- সমাজের বিত্তশালী-দানশীলদের সহায়তা।
ফজল করিম (৫০) পোকখালি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পোকখালি এলাকার মৃত আশরাফ জামান ও ছুরত জামাল বেগমের পুত্র। চার বছর আগে তিনি মূত্রনালীতে ব্যথা অনুভব করেন। সেই থেকে শুরু। ধীরে ধীরে মূত্রনালী ও পুরো পুরুষাঙ্গে পঁচন ধরে। দিনমজুর ফজল করিম বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নেন। চকরিয়ার ম্যাক্স হাসপাতাল, মালুমঘাটের ডা. স্টিফেন বিশ্বাস, চট্টগ্রামের রয়্যাল হাসপাতালে দিনের পর দিন চিকিৎসা নিয়েও কোনো সুফল পাননি।
ফজল করিম বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. শিবা প্রাসাদ নন্দীর তত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই চিকিৎসক জানান- ফজল করিমের পুরুষাঙ্গে ক্যান্সারের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য শরীরের মাংস কেটে নিয়ে সেটি পরীক্ষার জন্য ভারতে পাঠানো হয়েছে।
সহসাই অপারেশন না করলে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করেন তিনি।
জানা যায়, ৪ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক ফজল করিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে হতদরিদ্র এই পরিবারের দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। সহায়সম্বলহীন ফজল করিমের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সমাজের হৃদয়বান-দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা ছাড়া ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য পরিবারটির কোনো উপায় নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান লুতু বলেন- ‘ফজল করিম একজন অতিদরিদ্র ব্যক্তি। চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে তিনি অনেক টাকা সুদে নিয়েছেন। বর্তমানে পাওনাদারেরাও প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন’।
ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া ফজল করিম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন- ‘স্ত্রী-সন্তানদের জন্য হলেও আমি বাঁচতে চাই। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চাই। মরলেও সুস্থতার সাথে মরতে চাই’।
এজন্য তিনি সমাজের বিত্তশালী, প্রবাসী ও সরকারি-বেসরকারি দাতা প্রতিষ্ঠানের সহানুভূতি ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পোকখালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন- ‘দরিদ্র ফজল করিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন’।
ক্যান্সার আক্রান্ত ফজল করিমকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্যের সুবিধার্থে তাঁর মেজভাই কালা মিয়া (০১৮২৯২৫৭৪৯৭) ও স্ত্রী মুর্শিদা বেগম (০১৮৩৭৪৫৪২৪৪) এর সাথে যোগাযোগের আবেদন জানানো হয়েছে
























