
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
মাদক, চুরি ও কিশোর গ্যাং-এর দৌরাত্ম্য রুখতে আয়োজন করা হয়েছিল এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভার। সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে সবাই যখন একজোট হওয়ার কথা বলছেন, ঠিক তখনই সেই মঞ্চে দেখা মিললো এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর!
চট্টগ্রাম মহানগরীর ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের সি-ইউনিট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উঠান বৈঠকে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে এখন তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে সাধারণ মানুষের মনে। ব্যানারে স্পষ্ট লেখা-মাদক ও কিশোর গ্যাং-এর সামাজিক অশান্তি প্রতিরোধে এই মতবিনিময় সভা।

মঞ্চে উপস্থিত আছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।
অথচ, এই সচেতনতামূলক সভার ঠিক মঞ্চে সদর্পে বসে থাকতে দেখা গেছে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শওকত নেওয়াজকে।

পুলিশের নিজস্ব নথিপত্র বা পিসিপিআর (PCPR) রেকর্ড কী বলছে? নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, মৃত নাজির আহাম্মদের ছেলে শওকত নেওয়াজের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে, ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই কোতোয়ালী থানার ২১ নম্বর মামলায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় আরও একটি মাদক মামলা (মামলা নং ৮১) দায়ের হয়।
এমনকি ২০২১ সালের মে মাসেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ওয়ারেন্ট ও মামলা (মামলা নং ৮৬) রুজু হয়।
যাঁর অপরাধের খতিয়ান এতোটাই দীর্ঘ, যিনি সমাজকে মাদকের বিষে নীল করছেন, তিনি কীভাবে মাদকবিরোধী সভায় প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ান?
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, যেখানে খোদ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, সেখানে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি কীভাবে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়? কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হলো না? ইদানিং কালে নগরীতে বিভিন্ন মাদক, কিশোর গ্যাং বিরোধী মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশে মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের উপস্থিতি দেখা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকবিরোধী সভায় মাদক ব্যবসায়ীর এমন উপস্থিতি স্থানীয় বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছাকেও সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত সমাজ গড়তে হলে অপরাধীদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। একই সাথে প্রশাসনের এমন নীরব ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। এলাকাবাসীর দাবি-মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে শুধু মুখে বুলি নয়, চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হোক।
























