Dhaka , Thursday, 16 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুটে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন মিষ্টির দোকানে অনিয়ম ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: রায়পুরে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা। শ্রীপুরে ফিলিং স্টেশনে অনিয়মের অভিযোগ, ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধর করা পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার পাইকগাছায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ উদ্বোধন; কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত পাঁচলাইশ চসিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড়ে ভূমিদস্যুদের থাবা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ, লড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর আড়াইহাজারে শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সফল করতে পাঁচবিবিতে সমন্বয় সভা ৩ লক্ষ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দিবে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত মখলেছুর রহমান চৌধুরী- আলতাজ খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ ও এসএসসি বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসনে ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন : ইউএনও’র পরিদর্শন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বেড়েছে অনুপস্থিতি রামগঞ্জে ১৬১ প্রাথমিকবিদ্যালয়ের ৯২ টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য  নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আপেল, সম্পাদক বাবু বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন “স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে কাজ করছি”: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কাউখালীতে খাল পুর্ন-খনন কাজের উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম কর্তৃক প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর কেন্দ্র পরিদর্শন জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বর্ষার আগে বিশেষ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু করছে চসিক দুর্গাপুর সংবর্ধিত হলেন কণ্ঠশিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক নিরাপত্তা বলয়ে পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ইউএনও’র কেন্দ্র পরিদর্শন উচ্চশিক্ষার পথে বাধা দূর করল জেলা প্রশাসন: ঢাবি-জবিতে ভর্তির সুযোগ পেল ৬ অসচ্ছল মেধাবী বিগত ১৭ বছরে কিছু লোক এসেছিল তারা খেলার নামে রং তামাশা করেছে: মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ভাড়া বাসায় মদের কারবার,বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার-১ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড়ে ভূমিদস্যুদের থাবা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ, লড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:29:36 pm, Thursday, 16 April 2026
  • 5 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচলাইশ থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার আরএস ২৬৭০/৭২ (সম্পূর্ণ) ও ২৯৫৬ দাগের (আংশিক) প্রায় ১০.৬৪ একর পাহাড়টি এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানাধীন এই বিশাল পাহাড়টির একাংশ কেটে দখল করে আধাপাকা ঘর নির্মাণের পর এবার বাকি অংশ সাবাড় করার উৎসবে মেতেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র। মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চরম উদাসীনতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ও.আর. নিজাম আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় অবস্থিত এই পাহাড়টির বড় একটি অংশ ‘সোহেল’ নামক এক ব্যক্তি ইতিপূর্বে কেটে দখল করে নেন। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে সেমি-পাকা স্থাপনা। সম্প্রতি পুনরায় পাহাড় কাটার কাজ শুরু হলে এক সচেতন পরিবেশ কর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মুত্তাদির হাসানকে অবহিত করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠান পরিদর্শক অন্তর সাহা ও রুম্পা শিকদারকে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড় কাটার এবং অবৈধ দখলের সত্যতা পান কর্মকর্তারা।
অভিযুক্তের ঔদ্ধত্য ও সরকারি কাজে বাধা
অভিযান চলাকালীন অভিযুক্ত সোহেলকে পাহাড় কাটার দায়ে নোটিশ প্রদান করতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মকর্তারা থানা পুলিশের সহায়তায় আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবহেলা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০.৬৪ একরের এই বিশাল পাহাড়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা পাহাড় রক্ষার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্রের এত বড় একটি সম্পদ রক্ষায় খোদ মালিক পক্ষের এমন নির্লিপ্ততা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় এটি ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
জনবল সংকটে পরিবেশ অধিদপ্তর
পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরে বিশাল এলাকার পাহাড় রক্ষা বা ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। সীমিত লোকবল দিয়ে সব সময় তদারকি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পাহাড়খেকোরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে।
পরিবেশবিদদের শঙ্কা
পরিবেশবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি অতিদ্রুত তাদের নিজস্ব এই সম্পত্তি রক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না করে, তবে অচিরেই এই ১০ একর পাহাড়টি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। পুরো এলাকাটি পাহাড় কেটে আবাসিক প্লটে পরিণত করার পাঁয়তারা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)”র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবিলম্বে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুটে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড়ে ভূমিদস্যুদের থাবা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ, লড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর

আপডেট সময় : 06:29:36 pm, Thursday, 16 April 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচলাইশ থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার আরএস ২৬৭০/৭২ (সম্পূর্ণ) ও ২৯৫৬ দাগের (আংশিক) প্রায় ১০.৬৪ একর পাহাড়টি এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানাধীন এই বিশাল পাহাড়টির একাংশ কেটে দখল করে আধাপাকা ঘর নির্মাণের পর এবার বাকি অংশ সাবাড় করার উৎসবে মেতেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র। মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চরম উদাসীনতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ও.আর. নিজাম আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় অবস্থিত এই পাহাড়টির বড় একটি অংশ ‘সোহেল’ নামক এক ব্যক্তি ইতিপূর্বে কেটে দখল করে নেন। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে সেমি-পাকা স্থাপনা। সম্প্রতি পুনরায় পাহাড় কাটার কাজ শুরু হলে এক সচেতন পরিবেশ কর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মুত্তাদির হাসানকে অবহিত করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠান পরিদর্শক অন্তর সাহা ও রুম্পা শিকদারকে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড় কাটার এবং অবৈধ দখলের সত্যতা পান কর্মকর্তারা।
অভিযুক্তের ঔদ্ধত্য ও সরকারি কাজে বাধা
অভিযান চলাকালীন অভিযুক্ত সোহেলকে পাহাড় কাটার দায়ে নোটিশ প্রদান করতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মকর্তারা থানা পুলিশের সহায়তায় আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবহেলা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০.৬৪ একরের এই বিশাল পাহাড়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা পাহাড় রক্ষার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্রের এত বড় একটি সম্পদ রক্ষায় খোদ মালিক পক্ষের এমন নির্লিপ্ততা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় এটি ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
জনবল সংকটে পরিবেশ অধিদপ্তর
পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরে বিশাল এলাকার পাহাড় রক্ষা বা ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। সীমিত লোকবল দিয়ে সব সময় তদারকি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পাহাড়খেকোরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে।
পরিবেশবিদদের শঙ্কা
পরিবেশবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি অতিদ্রুত তাদের নিজস্ব এই সম্পত্তি রক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না করে, তবে অচিরেই এই ১০ একর পাহাড়টি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। পুরো এলাকাটি পাহাড় কেটে আবাসিক প্লটে পরিণত করার পাঁয়তারা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)”র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবিলম্বে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।