
মাকসুদুল হোসেন তুষার,
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেছেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে অস্বীকার করে সরকার একদলীয় দুঃশাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, দেশের প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষ গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে, কিন্তু ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে কাঁচপুরে ১১ দলীয় ঐক্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আয়োজিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার, এবি পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আহ্বায়ক মো. শাহজাহান বেপারী, জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এমদাদুল্লাহ, এনসিপি জেলার সদস্য সচিব জুবায়ের আহমদ তামজিদ, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আবদুল গণি এবং জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের তুমুল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। এটি কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, বরং দেশের আপামর জনগণের মুক্তির আন্দোলন। প্রায় দুই হাজার শহীদের আত্মত্যাগ ও ত্রিশ হাজার মানুষের অঙ্গহানির বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে আর কোনো স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে আবারও একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে। তারা বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় প্রয়োজনে জনগণ আবার রাজপথে নামবে।”
সমাবেশ থেকে ১৯৭২ সালের সংবিধান সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশসহ জুলাই সনদের সকল প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া বক্তারা জ্বালানি তেল সংকট প্রসঙ্গে বলেন, সরকার একদিকে সংকট না থাকার কথা বললেও বাস্তবে পরিবহন, যোগাযোগ, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল কাঁচপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
























