
আহম্মেদ আল ইভান,
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার লেবানন প্রবাসী নারী দিপালী আক্তার (৩৪) ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর তার পরিবারে শোকের মাতম দেখা গেছে। গত ০৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বরুতে ইসরাইলী এয়ার ষ্ট্রাইক বোমা হামলায় উক্ত নারী নিহত হয়।
এ ঘটনার পর শনিবার (১১ই এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ দুর্গম চরাঞ্চলের শোকার্ত পরিবারে গিয়ে তাদের সান্তনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহত দিপালীর পরিবারকে সর্বাত্নক সহায়তা প্রদান এবং নিহতের লাশ দ্রুত ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। একই সাথে নিহতের পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও দুই বস্তা শুকনো খাবার সহায়তা দিয়েছন ইউএনও। এ সময় ইউএনও’র সাথে ছিলেন ফরিদপুর প্রবাসী কল্যান সংস্থার সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, নিহত দিপালী আক্তার উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরশালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই, তিন বোন ও বাবাকে নিয়ে তাদের পরিবার। বোনদের মধ্যে দিপালী আক্তার ছিলেন মেজ। দিপালীর মাতা রোজিনা খাতুন পাঁচ বছর আগে আকস্মিক বজ্রপাতের আঘাতে মারা যায়। এরপর থেকে দিপালী লেবানন দেশের রাজধানী বরুতে গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে, নিজ পরিবারের ব্যায় ভার মিটিয়ে আসছিল। পরিবারের দেন্যতার কারনে দিপালী আক্তার নিজে বিয়েও করেনি বলে জানা যায়।
শনিবার নিহত দিপালীর বৃদ্ধ পিতাঃ শেখ মোফাজ্জল (৭০) কান্নারত অবস্থায় বলে ওঠেন “আল্লাহ দিপালীর মাইরে নিলে ঠাডার তলে আর দিপালীরে নিলে বোমার তলে, এখন আমারে রাখছো ক্যান আমারেও নিয়ে যাও, আমি আর বাঁচতে চাই না”। দিপালী আক্তারের আরেক বোন লাইজু আক্তার আহাজারী করে ওঠেন “সংসার সংসার কইর্যা দিপালী আপা নিজের জীবনের সমস্ত -আহল্লাদ বিসর্জন দিছে। আমাগো খাওয়াতে পড়াতে যাইয়্যা শেষ পর্যন্ত বোমার তলে নিজের জীবনও দিয়ে দিলো। এখন আমরা দাড়ামু-খারামু কোথায়।
























