
সজল চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই শিক্ষক। ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা কারণ দেখিয়ে তাঁরা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। রোববার দুপুরে তাঁদের পদত্যাগপত্র প্রক্টর কার্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়।
পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান এবং উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পারভীন আক্তার। গত বছরের ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ তাঁরা সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জমা দেন। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়নি। পরবর্তীতে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পারভীন আক্তারও পদত্যাগপত্র জমা দিলে দুটি আবেদন একসঙ্গে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
পদত্যাগের বিষয়ে অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, “অধ্যাপক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় নানা দায়িত্ব রয়েছে। গবেষণার কাজ ও বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের কারণে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ ছাড়া আমি শহরে থাকি, যার ফলে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে অব্যাহতিপত্র দিয়েছি।”
প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণমাধ্যমে বলেন, “দুই সহকারী প্রক্টর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন। মো. বজলুর রহমান ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করলেও এত দিন তা রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠানো হয়নি। প্রক্টরিয়াল বডির কাজের চাপের কারণে বিলম্ব হয়েছে। আজ দুজনের অব্যাহতিপত্র একসঙ্গে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, “পবিত্র রমজানের আগেই অব্যাহতিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আমার কাছে কোনো পত্র পৌঁছায়নি।”
প্রক্টর কার্যালয়ের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনা হয় এবং এই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর দুইজন সহ-উপাচার্য নিয়োগের পাশাপাশি পাঁচজন শিক্ষককে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান ও অধ্যাপক পারভীন আক্তারও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁদের মেয়াদ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দলে ছয়জন শিক্ষক সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা হলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. কোরবান আলী, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আককাছ আহমেদ, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ বিন কামাল, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. নুরুল হামিদ, নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক মো. খাইরুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মীর হোসেন মজুমদার।
























