
মাহবুবুর রহমান (শান্ত),
সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে “বিভ্রান্তিকর ও অপমানজনক” বলে দাবি করেছেন অভিন নামের এক যুবক। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের কারণে তিনি ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আত্মসম্মান রক্ষায় পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে পরিষ্কার করা জরুরি মনে করছেন তিনি।
অভিনের দাবি, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংশ্লিষ্ট নারী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাদের বিয়েটি মোবাইল ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে তার পরিবার রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের বিষয়টি সম্পন্ন হয়।
পূর্বের একটি সম্পর্কের বিষয়ে অভিন জানান, তিনি আগে প্রেম করে একটি বিয়ে করেছিলেন। তবে মেয়ের পরিবারের অসহযোগিতার কারণে মাত্র তিন মাসের মাথায় সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। তার দাবি, এ বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ট নারী দুইবার বাংলাদেশে এসে তাদের সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
পরকীয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিন বলেন, তার সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট নারীর কাছে থাকলেও ওই নারীর অ্যাকাউন্টে তার কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। তার অভিযোগ, ওই নারী তার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং এ বিষয়ে কিছু স্ক্রিনশট তার কাছে রয়েছে।
অভিন আরও অভিযোগ করেন, ইতালিতে অবস্থানকালে ওই নারী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং তাকে নিয়েও মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি।
ব্যাংক লেনদেন সংক্রান্ত একটি অভিযোগকে তিনি “সাজানো নাটক” বলে উল্লেখ করেন। অভিনের দাবি, তার ইমেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অন্য কেউ তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠিয়ে পরে সেই লেনদেনের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট নারীকে মাদকাসক্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন, যা দেখে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন।
বিয়ের কাবিননামা প্রসঙ্গে অভিন বলেন, “যদি কেউ সত্যিই ধনী পরিবারের দাবি করে, তাহলে কেন মাত্র দুই লাখ টাকা কাবিনে তড়িঘড়ি করে ভিডিও কলে বিয়ে দেওয়া হলো—এ প্রশ্নের উত্তর সবার ভাবা উচিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিনের অভিযোগ, ইতালি থেকে দেশে এসে সংশ্লিষ্ট নারী ৮–৯ জন লোক নিয়ে তার কর্মস্থলে গিয়ে তাকে মারধর করেন। এ ঘটনার কিছু ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি তার কর্মস্থলেও যেতে পারছেন না বলে জানান।
সবশেষে অভিন বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে চাই না। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। আমি চাই মানুষ পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করুক।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্য জানতে দৈনিক আজকের বাংলা থেকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
























