
মোঃ বিজয় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর ডেমরা আমুলিয়া মডেল টাউনের এইচ ব্লক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে সাবান ও তেল উৎপাদনের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবিকুন নাহারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদন ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ ছাড়াই সাবান ও ভোজ্যতেল সদৃশ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল। পণ্যের মোড়কে সঠিক লেবেলিং, উৎপাদন তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ব্যাচ নম্বর উল্লেখ না থাকার মতো অনিয়মও লক্ষ্য করা যায়।
অভিযান চলাকালে কারখানার ভেতর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। অপরিষ্কার যন্ত্রপাতি, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং মাননিয়ন্ত্রণের কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকায় ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আরোপ করা হয়।
বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, মানহীন ও অনুমোদনবিহীন পণ্য উৎপাদন ও বিপণন দেশের ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য যেমন সাবান ও তেল সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এসব পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
তারা আরও বলেন, বাজারে মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, বাজারে নকল ও নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আইন মেনে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তারা।
ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

























