Dhaka , Saturday, 31 January 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান আগামী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান—শহিদুল আলম বাহাদুরের সমর্থনে ঈদগাঁওয়ে বিশাল গণমিছিল খুরুশকুলে ধানের শীষের বিশাল জনসভা: উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার লুৎফুর রহমান কাজলের বান্দরবানে আরআইসির অভিযানে শটগানের কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার রূপগঞ্জে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মুড়াপাড়ায় উঠান বৈঠক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পর্দা নামছে আজ শেষ মূহুর্তে লোকে লোকারণ্য ॥ মূল্যছাড়ে কেনাকাটার ধুম ॥ বিক্রেতারা খুশি পাঁচবিবি মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ সাভারে গার্মেন্টসে ভাঙচুর: ৭ নারীসহ ২৩ শ্রমিক গ্রেফতার আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর করা হবে চসিককে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অনির্বাচিত সরকার কখনও দেশের মানুষের আশা পূরণ করতে পারে না :- দক্ষিণ হালিশহরে গণসংযোগে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আসন্ন সংসদ নির্বাচন: দিনাজপুরে বিজিবি মোতায়েন ও ১৩টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন যারা শংকার সৃষ্টি করছে তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে:– দক্ষিণ আগ্রাবাদে গণসংযোগকালে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী… সিএমপি’র পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ৫২টি বিভিন্ন ব্রান্ডের চোরাই মোবাইল ফোন সহ ০৩ জন আসামী গ্রেফতার কটিয়াদীতে ভাতিজার টেটার আঘাতে বিএনপি সভাপতি কামাল মেম্বার নিহত,গ্রেপ্তার ২ আফতাবনগরে নাহিদ ইসলামের গণসংযোগে ভোটারদের দাবি, সুশাসনের বার্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নোয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ, আহত ১২ ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণ যাদের হাতে নিরাপদ নয়,ক্ষমতায় যাওয়ার পর আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে : ডা.শফিকুর রহমান ভোটের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন খালেদা জিয়া: মেয়র মজিবর রহমান সাতকানিয়ায় অগ্নিসংযোগ নাটক: পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর রহস্য লালমনিরহাটে ধানের শীষের সমর্থনে ছাত্রদলের মিছিল আদিতমারী সীমান্তে বিজিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও চিনি জব্দ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষ্যে বিয়ামে মতবিনিময় সভা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ জমি বিরোধের জেরে কক্সবাজারে মামার হাতে ভাগিনা খুন সংসদ নির্বাচন: অনলাইনে নয়, সাংবাদিক কার্ড ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে ইসি হরিপুরে ড্যাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সিলেটে সেনাবাহিনী প্রধানের মতবিনিময় সভা পাইকগাছায় দিনব্যাপী দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীর মতবিনিময় ও গণসংযোগ পাইকগাছায় ফ্রি চক্ষু ও ডেন্টাল চিকিৎসা পেল সাড়ে তিন শতাধিক রোগী আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর এখন চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ফরিদপুরে ঝোপঝাড় হতে থানা লুট হওয়া গ্রেনেড- কার্তুজ, পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১০

নীলফামারীতে সূর্যমুখী চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:19:58 pm, Wednesday, 22 December 2021
  • 292 বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে সূর্যমুখী চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা

আমিরুল হক,

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীর মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের উপযোগী। রোপণের ১১০-১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে ওঠে। বীজের বাম্পার ফলনের কথা জেনে গত বছর সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হন কৃষকেরা। কৃষি অফিস থেকে ন্যায্য দামে বীজ কেনার প্রতিশ্রæতিও ছিল। কিন্তু উৎপাদনের পর বিক্রির জন্য আর ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। ফলে চলতি বছর সূর্যমুখীর চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অধিকাংশ চাষি।

নীলফামারী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বিগত মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ১ হাজার ৯৯০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। এতে প্রতি বিঘায় ২৬৬ কেজি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। প্রতি কেজি বীজের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ৭০-৭৫ টাকা। এ হিসাবে প্রায় চার কোটি টাকার সূর্যমুখী বীজ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু উৎপাদিত বীজের ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসায় প্রতি কেজি বীজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন চাষিরা।

সৈয়দপুর উপজেলার কয়ামিস্ত্রিপাড়ার চাষি নির্মল রায় জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৪৫ শতক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেন। এতে পানি সেচ ও পরিচর্যায় খরচ হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। ৭ মণ বীজ ঘরে তোলেন। কৃষি অফিস প্রতি মণ ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে কেনার প্রতিশ্রæতি দিলেও উৎপাদনের পর তারা সে বীজ কিনতে রাজি হয়নি। পরে স্থানীয় একজন তেল ব্যবসায়ীর কাছে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। বিক্রির এ ঝামেলার কারণে তিনি আর সূর্যমুখীর চাষ করেননি।

কৃষি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সরকারের প্রণোদনায় সূর্যমুখী চাষের জন্য চাষিদের বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছিল। আশাতীত ফলন হলেও স্থানীয়ভাবে সূর্যমুখীর বীজ বিক্রি না হওয়ায় এর চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়েছেন চাষিরা। এবার গোটা জেলায় মাত্র ২৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

সূর্যমুখী চাষি কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বাবু জানান, তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বীজ বিক্রি করেছেন। অথচ এ জমিতে প্রতিবছর ভুট্টা চাষ করে এক লাখ টাকা আয় করতেন। কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট তৈরি করে সূর্যমুখীচাষিদের জিম্মি করে কৃষি বিভাগেই কম দামে বীজগুলো বিক্রি করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষিবিষয়ক শিক্ষক অশ্বিনী কুমার রায় জানান, সূর্যমুখী চাষ লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর আবাদ বাড়ছে। সূর্যমুখীর শস্যদানা থেকে উৎপাদিত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তেলের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর তেল ভাঙানোর মেশিন স্থাপনে উদ্যোক্তা নিলে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ সম্ভব, যা দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নীলফামারী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষি বিভাগ সূর্যমুখীচাষিদের উৎপাদিত বীজ ক্রয় করার বিষয়টি সত্য নয়। বাজারজাত করার জন্য চাষিদের সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ তা করেছে।

 

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

নীলফামারীতে সূর্যমুখী চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা

আপডেট সময় : 07:19:58 pm, Wednesday, 22 December 2021

আমিরুল হক,

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীর মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের উপযোগী। রোপণের ১১০-১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে ওঠে। বীজের বাম্পার ফলনের কথা জেনে গত বছর সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হন কৃষকেরা। কৃষি অফিস থেকে ন্যায্য দামে বীজ কেনার প্রতিশ্রæতিও ছিল। কিন্তু উৎপাদনের পর বিক্রির জন্য আর ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। ফলে চলতি বছর সূর্যমুখীর চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অধিকাংশ চাষি।

নীলফামারী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বিগত মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ১ হাজার ৯৯০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। এতে প্রতি বিঘায় ২৬৬ কেজি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। প্রতি কেজি বীজের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ৭০-৭৫ টাকা। এ হিসাবে প্রায় চার কোটি টাকার সূর্যমুখী বীজ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু উৎপাদিত বীজের ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসায় প্রতি কেজি বীজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন চাষিরা।

সৈয়দপুর উপজেলার কয়ামিস্ত্রিপাড়ার চাষি নির্মল রায় জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৪৫ শতক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেন। এতে পানি সেচ ও পরিচর্যায় খরচ হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। ৭ মণ বীজ ঘরে তোলেন। কৃষি অফিস প্রতি মণ ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে কেনার প্রতিশ্রæতি দিলেও উৎপাদনের পর তারা সে বীজ কিনতে রাজি হয়নি। পরে স্থানীয় একজন তেল ব্যবসায়ীর কাছে প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। বিক্রির এ ঝামেলার কারণে তিনি আর সূর্যমুখীর চাষ করেননি।

কৃষি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সরকারের প্রণোদনায় সূর্যমুখী চাষের জন্য চাষিদের বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছিল। আশাতীত ফলন হলেও স্থানীয়ভাবে সূর্যমুখীর বীজ বিক্রি না হওয়ায় এর চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়েছেন চাষিরা। এবার গোটা জেলায় মাত্র ২৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

সূর্যমুখী চাষি কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বাবু জানান, তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বীজ বিক্রি করেছেন। অথচ এ জমিতে প্রতিবছর ভুট্টা চাষ করে এক লাখ টাকা আয় করতেন। কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট তৈরি করে সূর্যমুখীচাষিদের জিম্মি করে কৃষি বিভাগেই কম দামে বীজগুলো বিক্রি করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষিবিষয়ক শিক্ষক অশ্বিনী কুমার রায় জানান, সূর্যমুখী চাষ লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর আবাদ বাড়ছে। সূর্যমুখীর শস্যদানা থেকে উৎপাদিত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তেলের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর তেল ভাঙানোর মেশিন স্থাপনে উদ্যোক্তা নিলে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ সম্ভব, যা দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নীলফামারী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষি বিভাগ সূর্যমুখীচাষিদের উৎপাদিত বীজ ক্রয় করার বিষয়টি সত্য নয়। বাজারজাত করার জন্য চাষিদের সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ তা করেছে।