Dhaka , Tuesday, 10 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন রামগঞ্জে এসএইচটিসি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ রাজাপুরে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ভোটের ছুটিতে সাভার-আশুলিয়া ছাড়ছেন পোশাক শ্রমিকরা, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর  সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকায় যৌথবাহিনীর ফুট পেট্রোল মহড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মৌলভীবাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং নিরাপত্তার অঙ্গীকার: লালমনিরহাটে ৫ সহস্রাধিক আনসার-ভিডিপি সদস্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি সমাবেশ শ্রীপুরে উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতির বিএনপিতে যোগদান ৬ মাসেই অক্সিজেনের ভাঙা সেতু পুননির্মাণ করেছে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম–৯ আসনে আবু সুফিয়ান’র সমর্থনে সনাতনী র‍্যালি রংপুর বিভাগে নির্বাচন ঘিরে র‍্যাব ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ মহড়া কিশোরগঞ্জে উপজেলা পর্যায়ে কড়া নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করেছে এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিকদের গ্রেফতার-নিপীড়নে উদ্বেগ পেশাজীবি পরিষদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কালিগঞ্জে জাতীয় পার্টির বিশাল জনসভা ঝালকাঠি-১ আসনে হাতপাখার ইব্রাহিম আল হাদীর নির্বাচনী গণমিছিল বেগমগঞ্জে র‍্যাবের রোবাস্ট পেট্রোল মহড়া ও চেকপোস্ট স্থাপন এবং আকস্মিক তল্লাশি অভিযান জোরদার ঢাকা-১৯ আসনে জমজমাট লড়াই, ভোটের অপেক্ষায় ভোটাররা বিএনপি প্রার্থী মেয়র মজিবর রহমানের সহধর্মিণী মুন্নীর  উঠান বৈঠকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি  ঝালকাঠি-১ আসনের রাজাপুরে জামায়াত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের নির্বাচনী গণমিছিল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে চন্দনাইশ উপজেলা মাদ্রাসা “শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান” নির্বাচিত হয়েছেন মোজাহেরুল কাদের। রূপগঞ্জে বিএনপির ৩০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান নরসিংদীর ৫টি আসনের ৬৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে দুর্নীতির জায়গা থাকবে না; মাওঃ আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছায় গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ রূপগঞ্জ পূর্বাচলে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত ॥ আহত এক রূপগঞ্জে নির্বাচনের হালচাল ভোটাররাই পাল্টে দিবেন নির্বাচনী সমীকরণ 

সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:11:49 pm, Tuesday, 10 February 2026
  • 4 বার পড়া হয়েছে
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেছেন, যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন, যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রক্ত দিয়েছেন—আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, আমি যদি নির্বাচিত হই, আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি কোনো কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য এখানে আসি নাই, আমি কোনো চাঁদাবাজকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য এখানে আসি নাই, আমি কোনো মাস্তান নিয়ে এখানে রাজনীতি করার জন্য আসি নাই, কোনো সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস করার জন্য এখানে আসি নাই, আমি সরকারি চাকরির দপ্তরী নিয়োগ দেওয়ার জন্য যে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয় সেই নিয়োগ বাণিজ্য প্রতিহত করার জন্য এসেছি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এসেছি জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে, আমি এসেছি খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে, আমি এসেছি তারেক রহমানের আদর্শ নিয়ে। আমি যদি এখানে নির্বাচিত হই তাহলে এই জনপদ হবে বাংলাদেশের সকল জনগণের জন্য। এই জনপদে থাকবে না কোনো মাদক কারবারি। এই জনপদকে বিএনপির আদর্শে, জিয়াউর রহমানের আদর্শে, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে, তারেক রহমানের আধুনিক বাংলাদেশ, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, আধুনিক উন্নয়নমূলক বাংলাদেশ গড়াই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কারণে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটানোর মধ্য দিয়ে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানরা ঐতিহাসিক জুলাই ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নব্ব্য স্বৈরাচারের পতন ঘটনার মধ্যে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের মানুষ একটি সুষ্ঠ আবার নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছি। যে স্বপ্ন ১৯৭১ সালে একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঁশের লাঠি দিয়ে এদেশের মানুষকে স্বাধীন করেছে। ১২ ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেকটি নতুন ঐতিহাসিক ইতিহাস রচনা হবে। ১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করা হয়েছে এ নির্বাচনে তারাই আমাদের প্রতিপক্ষ। এই নির্বাচনে তাদেরকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে হারিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন ইতিহাস করবে। বাঙালি জাতি কখনো হারতে শেখেনি।
তিনি আরো বলেন, আমি কোনো চাঁদাবাজের সঙ্গ দিতে আসিনি, আমি কোনো মাস্তানদের নিয়ে রাজনীতি করতে এখানে আসি নাই। আমি কোনো সন্ত্রাস সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস করার সুযোগ দিতে আসেনি। আমি স্কুল কলেজে দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতে এখানে এসেছি। কন্ট্রাক্টরের পার্সেন্টেজ নিতে আসিনি—জিয়াউর রহমানের আদর্শ আধুনিক বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে এসেছি। এই জনপদে কোনো মাদকের আগ্রাসন থাকবে না। জিয়ার স্বপ্ন সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। মা-বোনদের কাছ থেকে যে বার্তা পেয়েছি, আগামী ১৩ ই ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় উৎসব পালন করব। অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে আগামী তিনটি দিন অনিদ্রা দিন কাটাতে হবে।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আগামীর ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু এই দেশে নয়, পৃথিবীর বুকে এক ইতিহাস তৈরি হয়ে যাবে—কারণ সেই ইতিহাস তৈরি হবে আজ থেকে ৫৪ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল যাদেরকে আমরা বিতাড়িত করেছিলাম তারা আজকে আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটা ইতিহাস তৈরি হবে। বাংলাদেশের মানুষ যে ইতিহাস তৈরি করতে জানে এটা পৃথিবীর সবাই জানে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরা কখনো হারতে শিখিনি—আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম তখন আমরা বিজয়ী হয়েছি। আজকে আবার আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান বীরের বেশে বাংলাদেশে ফেরার মধ্য দিয়ে আমরা সবচেয়ে বড় ইতিহাস তৈরি করব ১২ ই ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। আমরা জানি আমরা কাদের বিরুদ্ধে লড়ছি—তারা ছিল নরপিশাচ যারা আমাদের নিরীহ মানুষকে ধরে ধরে গুলি করে হত্যা করেছিল যার সাক্ষী হিসেবে এখনো আমাদের অনেক বধ্যভূমি রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আজকে আবার আমরা যুদ্ধে নেমেছি। তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছিল এবং ইজ্জত নিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীরা আর ওরা উপভোগ করেছিল আনন্দ। ইনশাল্লাহ আমরা সেই রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আগামী ১২ তারিখ সকালে আপনারা ভোট সেন্টারে থাকবেন। তারেক রহমান যে ৩১ দফা দিয়েছেন সেই ৩১ দফা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে গড়া একটি কল্যাণকর দেশের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক বাংলাদেশ, একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য। আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে—সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আগামী ১৩ তারিখ আমরা বিজয় মিছিল করব এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক কারবারি এই রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় থেকে ছাড়তে হবে। সন্ত্রাস মোকাবেলা করার জন্য প্রত্যেক কেন্দ্রে পাহারাদার থাকতে হবে। কোনো পোলিং প্রিজাইডিং কেন্দ্র থেকে বাইরে বের হতে পারবে না—ভোট শেষে ভোট গণনা করে আপনারা রেজাল্ট নিয়ে আসবেন যাতে ওই ষড়যন্ত্রকারীরা বহুমুখী ষড়যন্ত্র করতে না পারে। এই তিনটি দিন আপনাদের কষ্ট করতে হবে—ইনশাল্লাহ আমরা ১৩ তারিখ বিজয় নিয়ে বিজয় উৎসব করব।
রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্ন। বক্তব্য রাখেন রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হক নান্টু, উপজেলার শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তালুকদার শামীম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব সোহাগ, রাজাপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ ও সদস্য সচিব সৈয়দ নাজমুল হক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় ৮৮ ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮ বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল

আপডেট সময় : 05:11:49 pm, Tuesday, 10 February 2026
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেছেন, যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন, যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রক্ত দিয়েছেন—আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, আমি যদি নির্বাচিত হই, আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি কোনো কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য এখানে আসি নাই, আমি কোনো চাঁদাবাজকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য এখানে আসি নাই, আমি কোনো মাস্তান নিয়ে এখানে রাজনীতি করার জন্য আসি নাই, কোনো সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস করার জন্য এখানে আসি নাই, আমি সরকারি চাকরির দপ্তরী নিয়োগ দেওয়ার জন্য যে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয় সেই নিয়োগ বাণিজ্য প্রতিহত করার জন্য এসেছি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এসেছি জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে, আমি এসেছি খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে, আমি এসেছি তারেক রহমানের আদর্শ নিয়ে। আমি যদি এখানে নির্বাচিত হই তাহলে এই জনপদ হবে বাংলাদেশের সকল জনগণের জন্য। এই জনপদে থাকবে না কোনো মাদক কারবারি। এই জনপদকে বিএনপির আদর্শে, জিয়াউর রহমানের আদর্শে, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে, তারেক রহমানের আধুনিক বাংলাদেশ, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, আধুনিক উন্নয়নমূলক বাংলাদেশ গড়াই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কারণে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটানোর মধ্য দিয়ে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানরা ঐতিহাসিক জুলাই ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নব্ব্য স্বৈরাচারের পতন ঘটনার মধ্যে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের মানুষ একটি সুষ্ঠ আবার নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছি। যে স্বপ্ন ১৯৭১ সালে একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঁশের লাঠি দিয়ে এদেশের মানুষকে স্বাধীন করেছে। ১২ ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেকটি নতুন ঐতিহাসিক ইতিহাস রচনা হবে। ১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করা হয়েছে এ নির্বাচনে তারাই আমাদের প্রতিপক্ষ। এই নির্বাচনে তাদেরকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে হারিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন ইতিহাস করবে। বাঙালি জাতি কখনো হারতে শেখেনি।
তিনি আরো বলেন, আমি কোনো চাঁদাবাজের সঙ্গ দিতে আসিনি, আমি কোনো মাস্তানদের নিয়ে রাজনীতি করতে এখানে আসি নাই। আমি কোনো সন্ত্রাস সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস করার সুযোগ দিতে আসেনি। আমি স্কুল কলেজে দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতে এখানে এসেছি। কন্ট্রাক্টরের পার্সেন্টেজ নিতে আসিনি—জিয়াউর রহমানের আদর্শ আধুনিক বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে এসেছি। এই জনপদে কোনো মাদকের আগ্রাসন থাকবে না। জিয়ার স্বপ্ন সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। মা-বোনদের কাছ থেকে যে বার্তা পেয়েছি, আগামী ১৩ ই ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় উৎসব পালন করব। অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে আগামী তিনটি দিন অনিদ্রা দিন কাটাতে হবে।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আগামীর ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু এই দেশে নয়, পৃথিবীর বুকে এক ইতিহাস তৈরি হয়ে যাবে—কারণ সেই ইতিহাস তৈরি হবে আজ থেকে ৫৪ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল যাদেরকে আমরা বিতাড়িত করেছিলাম তারা আজকে আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটা ইতিহাস তৈরি হবে। বাংলাদেশের মানুষ যে ইতিহাস তৈরি করতে জানে এটা পৃথিবীর সবাই জানে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরা কখনো হারতে শিখিনি—আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম তখন আমরা বিজয়ী হয়েছি। আজকে আবার আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান বীরের বেশে বাংলাদেশে ফেরার মধ্য দিয়ে আমরা সবচেয়ে বড় ইতিহাস তৈরি করব ১২ ই ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। আমরা জানি আমরা কাদের বিরুদ্ধে লড়ছি—তারা ছিল নরপিশাচ যারা আমাদের নিরীহ মানুষকে ধরে ধরে গুলি করে হত্যা করেছিল যার সাক্ষী হিসেবে এখনো আমাদের অনেক বধ্যভূমি রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আজকে আবার আমরা যুদ্ধে নেমেছি। তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছিল এবং ইজ্জত নিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীরা আর ওরা উপভোগ করেছিল আনন্দ। ইনশাল্লাহ আমরা সেই রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আগামী ১২ তারিখ সকালে আপনারা ভোট সেন্টারে থাকবেন। তারেক রহমান যে ৩১ দফা দিয়েছেন সেই ৩১ দফা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে গড়া একটি কল্যাণকর দেশের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক বাংলাদেশ, একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য। আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে—সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আগামী ১৩ তারিখ আমরা বিজয় মিছিল করব এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক কারবারি এই রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় থেকে ছাড়তে হবে। সন্ত্রাস মোকাবেলা করার জন্য প্রত্যেক কেন্দ্রে পাহারাদার থাকতে হবে। কোনো পোলিং প্রিজাইডিং কেন্দ্র থেকে বাইরে বের হতে পারবে না—ভোট শেষে ভোট গণনা করে আপনারা রেজাল্ট নিয়ে আসবেন যাতে ওই ষড়যন্ত্রকারীরা বহুমুখী ষড়যন্ত্র করতে না পারে। এই তিনটি দিন আপনাদের কষ্ট করতে হবে—ইনশাল্লাহ আমরা ১৩ তারিখ বিজয় নিয়ে বিজয় উৎসব করব।
রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্ন। বক্তব্য রাখেন রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হক নান্টু, উপজেলার শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তালুকদার শামীম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব সোহাগ, রাজাপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ ও সদস্য সচিব সৈয়দ নাজমুল হক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।