
চঞ্চল,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তঘেষা জেলা লালমনিরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন মুখরিত। বিশেষ করে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এখন জনসমর্থনের তুঙ্গে। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখানে সাধারণ মানুষ তাঁকে স্রেফ একজন নেতা নয়, বরং ঘরের আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছে।
বিশাল নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও প্রতিদ্বন্দ্বী চিত্র
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮০৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য এ আসনে মোট ৯৪টি ভোট কেন্দ্র এবং ৫৯৫টি ভোট কক্ষ রয়েছে।
এই আসনে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু’র প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আবু তাহের (সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও জামায়াত প্রার্থী), জাহিদ হাসান (জাতীয় পার্টি), দীপক কুমার রায় (গণসংহতি আন্দোলন), মধুসূদন রায় (সিপিবি) এবং মো. আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন)। তবে জনমত জরিপে ধানের শীষের প্রার্থী এককভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
তরুণদের উদ্দীপনা ও আচরণবিধি প্রতিপালন
এবারের নির্বাচনে বিশেষ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে তরুণ সমাজ। যারা গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু–কে নিয়ে বিপুল উৎসব-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি জানান, “আমরা দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ‘ ও নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলছি এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ”।
জনগণের কণ্ঠস্বর: “লালমনিরহাটের ভাগ্যবদল ও অধ্যক্ষ দুলু”
মাঠ পর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বললে তাঁরা কোনো রাখঢাক না রেখেই তাঁদের মনের কথা প্রকাশ করছেন:
“সার্বিকভাবে, লালমনিরহাটের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করে একটি সমৃদ্ধ আগামীর নিশ্চয়তা দিতে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষ প্রতীকে তাঁর বিজয় মানেই লালমনিরহাটের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ এবং উন্নয়নের পথে এক নতুন যাত্রার শুরু।”
কেন তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী? ভোটারদের সরাসরি মন্তব্য:
· পরিচিতি ও আপনজন: ভোটারদের ভাষ্যমতে, “মাঠে আরও যারা প্রার্থী আছেন, তাঁদের অনেককেই আমরা চিনি না। লালমনিরহাটের উন্নয়নে তাঁদের কোনো দৃশ্যমান অবদান নেই।”
· সুখে-দুখে পাশে থাকা: স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগ বা বিপদে অন্য কাউকে দেখা যায় না, কিন্তু অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সবসময় সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে ছুটে গেছেন।
· সকলের নেতা: তিনি যেমন ভিক্ষুক, রবিদাস ও নরসুন্দরসহ সকল শ্রমিকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, এমন মানবিক গুণ অন্য কোনো নেতার মাঝে নেই।
· নিশ্চিত বিজয়: তৃণমূলের মানুষের মতে, তাঁর জয় এখন শতভাগ নিশ্চিত।
আদর্শিক নেতৃত্ব ও উন্নয়নের রূপকার
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপকার হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর সময়ে সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপন এবং শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার হয়েছিল। এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের বিপরীতে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন ছাড়াই শত শত মেধাবীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরি প্রদান করে তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিস্তা আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তিস্তা পাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি এক অবিচল সেনানি। তাঁর নেতৃত্বে ও ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে আয়োজিত ‘৪৮ ঘণ্টাব্যাপী লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি’ এই অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আগামীর লালমনিরহাট গড়তে তাঁর অঙ্গীকারনামার প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও স্থায়ী নদী শাসন, মোগলহাট স্থলবন্দর ও চেকপোস্ট সচলকরণ, পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালুকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন ও বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক-যৌতুক-ক্যাসিনোসহ ১৩টি সামাজিক অপরাধ নির্মূল করে ‘শান্তির নীড়’ গড়ে তোলা, আধুনিক শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তরুণদের আউটসোর্সিংয়ে দক্ষ করে তোলা।
সবশেষে, লালমনিরহাটের প্রতিটি প্রান্তের ভোটাররা এখন উন্মুখ হয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁদের প্রিয় ‘দুলু ভাই‘কে জয়যুক্ত করতে।
























