
এন.রহমান নয়ন, চন্দনাইশ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলায় গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে তারুণ্যের উৎসব-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে পিঠা উৎসবে মেতে উঠেছিল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বানানো রকমারি পিঠার স্বাদ নিতে ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগ ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।গত সোমবার (১৯শে জানুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া বলেন, ‘পিঠা উৎসব আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করা। তারুণ্যের পিঠা উৎসব এই প্রচেষ্টারই একটি উদাহরণ। এরকম আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে।’
পিঠা উৎসবে ১২টি স্টলে প্রায় ৪০ প্রকারের বেশি পিঠার প্রদর্শনী ও বিক্রির আয়োজন করা হয়। নকশি পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠাসহ নানা স্বাদের পিঠার ঘ্রাণে মুখরিত ছিল পুরো প্রাঙ্গণ। পিঠা প্রদর্শনী ও বিক্রির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কলজের শিক্ষার্থীদের স্টল, চন্দনাইশ উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন বিএনসিসি, সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধন, রেডক্রিসেন্ট, এবং রোভার স্কাউটস। এসব স্টলে বিভিন্ন ধরনের পিঠা প্রদর্শিত হয়, যার মধ্যে ভাপা, চিতই, দুধপিঠা, পাটিসাপটা এবং নারকেল পুলির মতো ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলো উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসব স্টল সাজিয়ে পরিবেশন করেন পিঠার স্বাদ। শুধু পিঠার প্রদর্শনী নয়, উৎসবকে আরও রঙিন করে তোলে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা। পিঠা উৎসবে বি.এস এস ডিগ্রী ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা বলেন, এই উৎসব আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও মজবুত করেছে। পাশাপাশি, আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এবং তা উদযাপন করতে পেরে আমরা গর্বিত। সেই সাথে এ ধরনের উৎসব তারুণ্যের মধ্যে ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে। এটি আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার একটি সুন্দর উপায়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘তরুণদের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া পিঠা সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ করতেই এই উৎসব। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।’ উপস্থিত অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎসবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ধরনের উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন তারা।
এ অনুষ্ঠানে কলেজের বার্ষিক বিভিন্ন ইভেন্ট প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয় । তারুণ্যের এই পিঠা উৎসব বাংলা সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তারা আশা করেন। পিঠা উৎসবে তারুণ্যের উদ্দীপনায় মুখরিত ছিল গাছবাড়িয়া কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উদ্যোগ এই আয়োজনকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলে। তারুণ্যের প্রাণশক্তি ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন এ উৎসবকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে।

























