Dhaka , Sunday, 3 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে মায়ের সামনে ড্রামট্রাকের নিচে প্রাণ গেল শিশুর রাজাপুরে ইয়াবাসহ বিএনপি সভাপতির ছেলে আটক টিসিবির পণ্য গুদামে, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নোয়াখালীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যের আহ্বান সাবেক এমপিকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল, সম্পাদক রাহান কাউখালীতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তিন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রূপগঞ্জে মাদক সেবনকালে আটক ২ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড মধুপুর ফুলবাগচালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন মাসুদ রানা লক্ষ্মীপুরে ১৪ মাস পর কৃষক দল নেতার লাশ উত্তোলন হাতীবান্ধা ও ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ “জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই” :- চসিক মেয়র উপকূলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হলেন অ্যাডভোকেট সোহেল খান ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন কিশোরগঞ্জের খাইরুল ইসলাম। মধুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত রূপগঞ্জে ছাত্তার জুট মিলস্ মডেল হাই স্কুল পূনঃনামকরণের প্রস্তাব জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ অপসারণ করা হচ্ছে, দ্রুতই হবে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি:- মেয়র ডা. শাহাদাত রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্যক্রম শুরু পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুূদ্ধ করতে হবে :- আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ মাগুরার ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে”:- চসিক মেয়র ডা.শাহদাত হোসেন ​হরিপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে আটক পাইকগাছায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে গদাইপুর ব্লাড ব্যাংকের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এক ঝড়ে উড়ে গেল ঘর, খোলা আকাশেই দিন-রাত হত্যা করলো রামগঞ্জে লাশ মিললো হাজিগঞ্জে রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি উদ্যোগে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির সমন্বয়ে সদস্য সংগ্রহ ও আলোচনা সভা লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে সীমান্তে মাদকের বড় চালান জব্দ: গাঁজা ও সিরাপ উদ্ধার রূপগঞ্জে গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে খেলাধুলার বিকল্প নেই: মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু পাওনা টাকা চাওয়ায় রূপগঞ্জে ভাবি-ভাতিজাকে কুপিয়ে জখম

টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে লাল সোনা 

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:38:56 pm, Thursday, 15 January 2026
  • 77 বার পড়া হয়েছে
উৎপল রক্ষিত,
টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে মিলেছে বিরল ও মূল্যবান রক্ত চন্দন গাছ। ধীর গতিতে বেড়ে ওঠা রক্ত চন্দন গাছ আন্তর্জাতিক ভাবে ” লাল সোনা ” নামে পরিচিত। মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানের বাংলোর সামনে রক্ত চন্দন গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন মধুপুর গড় এলাকার লাল মাটি ও শুষ্ক পরিবেশরক্ত চন্দন গাছের জন্য উপযোগী। ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা রক্ত চন্দন গাছটি মধুপুরের বনভূমিতে নতুন সম্ভাবনা।
মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানে কর্মরত স্হানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল  চিচাম জানান, আমরা স্হানীয়রা অনেকে আগেই  জেনেছি এটি রক্ত চন্দন গাছ। মূল্যবান গাছটির ক্ষতি হতে পারে ভেবে কারো কাছে প্রকাশ করিনি। কিন্ত সম্প্রতি রক্ত চন্দন গাছের কথা প্রচারিত হওয়ায় দূর  – দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসেন।
রক্ত চন্দন কাঠ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা পার্বনে রক্ত  চন্দনের গুঁড়া তিলক ব্যবহার করা হয়। মন্দিরে দেবমূর্তি সাজাতে চন্দনের ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্টানে শুভ ও পবিত্র হিসাবে গন্য করা হয়। এ ছাড়াও আয়ুর্বেদ ওষুধ, সুগন্ধি দ্রব্য, কাঠের গুঁড়া ও নির্যাস ঔষধ, প্রসাধনী, ধর্মীয় আচার, বাদ্যযন্ত্র তৈরি, মূল্যবান আসবাব পএ, হস্তশিল্প যুগ যুগ ধরে ধনী মানুষ ব্যবহার করে আসছে।
উদ্ভিদবিদদের মতে, রক্ত চন্দন ( বৈজ্ঞানিক নাম Pterocarpus santalinus) মূলত রক্ত চন্দন গাঢ লাল রঙের কাঠের জন্য পরিচিত।  রক্তচন্দন কাঠের চাহিদা বিশ্ববাজারে ব্যাপক রয়েছে। রক্ত চন্দন গাছ একটি বিরল, মূল্যবান ও ব্যবহার যোগ্য বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত । রক্ত চন্দন ভারতের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জন্মালেও ,বাংলাদেশে এই গাছের উপস্থিতি অত্যান্ত বিরল।
বিশেষজ্ঞদের মতে,  রক্ত চন্দন গাছ  ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় ও পরিপক্ব হতে দীর্ঘ সময় লাগে। একটি রক্ত চন্দন গাছ পরিপক্ক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে ।
মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানের গেটম্যান বোলাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রক্তচন্দন গাছটিকে এ অবস্হায় দেখে আসছি। স্হায়ীরা অনেকেই  জানতেন না এটি রক্ত চন্দন গাছ। সম্প্রতি রক্ত চন্দন গাছের কথা প্রকাশ পাবার পর থেকে দূর দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ গাছটি দেখতে আসেন। রক্ত চন্দন গাছে খোঁচা দিলে গাছ থেকে লাল রস বের হয়।  বর্তমানে গাছটি সংরক্ষণের উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে এখনো রক্ত চন্দন গাছের বানিজ্যিক চাষ অনুমোদিত নয়। বাংলাদেশে রক্ত চন্দন গাছ রোপণ, সংরক্ষন, সঠিক ব্যবস্হাপনায় এই মূল্যবান গাছ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, রক্ত চন্দন শুধু  অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে রক্ত চন্দন গাছ ভবিষ্যতে দেশের বন সম্পদে নতুন মাএা যোগ করতে পারে। রক্ত চন্দন গাছ বাংলাদেশের মাটিতে সঠিক যত্ন, গবেষণা ও সচেতনতার মাধ্যমে দেশের বনভূমিতে একদিন  রত্ন হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশে রক্ত চন্দন গাছকে কেন্দ্র করে কোনো আলাদা নীতিমালা, নিরাপত্তা, জরুরি সংরক্ষন পরিকল্পনা চোখে পড়ে না।
মধুপুরে রক্ত চন্দন গাছ একদিকে যেমন জীববৈচিএ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বনসম্পদে যুক্ত হতে পারে এক নতুন সম্ভাবনা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে মায়ের সামনে ড্রামট্রাকের নিচে প্রাণ গেল শিশুর

টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে লাল সোনা 

আপডেট সময় : 03:38:56 pm, Thursday, 15 January 2026
উৎপল রক্ষিত,
টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে মিলেছে বিরল ও মূল্যবান রক্ত চন্দন গাছ। ধীর গতিতে বেড়ে ওঠা রক্ত চন্দন গাছ আন্তর্জাতিক ভাবে ” লাল সোনা ” নামে পরিচিত। মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানের বাংলোর সামনে রক্ত চন্দন গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন মধুপুর গড় এলাকার লাল মাটি ও শুষ্ক পরিবেশরক্ত চন্দন গাছের জন্য উপযোগী। ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা রক্ত চন্দন গাছটি মধুপুরের বনভূমিতে নতুন সম্ভাবনা।
মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানে কর্মরত স্হানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল  চিচাম জানান, আমরা স্হানীয়রা অনেকে আগেই  জেনেছি এটি রক্ত চন্দন গাছ। মূল্যবান গাছটির ক্ষতি হতে পারে ভেবে কারো কাছে প্রকাশ করিনি। কিন্ত সম্প্রতি রক্ত চন্দন গাছের কথা প্রচারিত হওয়ায় দূর  – দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসেন।
রক্ত চন্দন কাঠ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা পার্বনে রক্ত  চন্দনের গুঁড়া তিলক ব্যবহার করা হয়। মন্দিরে দেবমূর্তি সাজাতে চন্দনের ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্টানে শুভ ও পবিত্র হিসাবে গন্য করা হয়। এ ছাড়াও আয়ুর্বেদ ওষুধ, সুগন্ধি দ্রব্য, কাঠের গুঁড়া ও নির্যাস ঔষধ, প্রসাধনী, ধর্মীয় আচার, বাদ্যযন্ত্র তৈরি, মূল্যবান আসবাব পএ, হস্তশিল্প যুগ যুগ ধরে ধনী মানুষ ব্যবহার করে আসছে।
উদ্ভিদবিদদের মতে, রক্ত চন্দন ( বৈজ্ঞানিক নাম Pterocarpus santalinus) মূলত রক্ত চন্দন গাঢ লাল রঙের কাঠের জন্য পরিচিত।  রক্তচন্দন কাঠের চাহিদা বিশ্ববাজারে ব্যাপক রয়েছে। রক্ত চন্দন গাছ একটি বিরল, মূল্যবান ও ব্যবহার যোগ্য বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত । রক্ত চন্দন ভারতের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জন্মালেও ,বাংলাদেশে এই গাছের উপস্থিতি অত্যান্ত বিরল।
বিশেষজ্ঞদের মতে,  রক্ত চন্দন গাছ  ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় ও পরিপক্ব হতে দীর্ঘ সময় লাগে। একটি রক্ত চন্দন গাছ পরিপক্ক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে ।
মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানের গেটম্যান বোলাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রক্তচন্দন গাছটিকে এ অবস্হায় দেখে আসছি। স্হায়ীরা অনেকেই  জানতেন না এটি রক্ত চন্দন গাছ। সম্প্রতি রক্ত চন্দন গাছের কথা প্রকাশ পাবার পর থেকে দূর দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ গাছটি দেখতে আসেন। রক্ত চন্দন গাছে খোঁচা দিলে গাছ থেকে লাল রস বের হয়।  বর্তমানে গাছটি সংরক্ষণের উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে এখনো রক্ত চন্দন গাছের বানিজ্যিক চাষ অনুমোদিত নয়। বাংলাদেশে রক্ত চন্দন গাছ রোপণ, সংরক্ষন, সঠিক ব্যবস্হাপনায় এই মূল্যবান গাছ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, রক্ত চন্দন শুধু  অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে রক্ত চন্দন গাছ ভবিষ্যতে দেশের বন সম্পদে নতুন মাএা যোগ করতে পারে। রক্ত চন্দন গাছ বাংলাদেশের মাটিতে সঠিক যত্ন, গবেষণা ও সচেতনতার মাধ্যমে দেশের বনভূমিতে একদিন  রত্ন হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশে রক্ত চন্দন গাছকে কেন্দ্র করে কোনো আলাদা নীতিমালা, নিরাপত্তা, জরুরি সংরক্ষন পরিকল্পনা চোখে পড়ে না।
মধুপুরে রক্ত চন্দন গাছ একদিকে যেমন জীববৈচিএ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বনসম্পদে যুক্ত হতে পারে এক নতুন সম্ভাবনা।