
মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে যাওয়া বসতঘর থেকে ও একই এলাকার জানখার কান্দি থেকে উদ্ধারকৃত বিপুল অর্ধশতাধিক ককটেল বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে বিলাসপুর ইউনিয়নের মোল্লা ব্রিজ এলাকায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে উদ্ধারকৃত ককটেল বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোররাতে ওই এলাকায় একটি বসতঘরে ককটেল তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যায় এবং সোহান বেপারী ও নবীন হোসেন নামে দুই যুবক নিহত হন। এছাড়া গুরুতর আহত একজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর শুক্রবার পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পটাশ, গান পাউডার, জদ্দার টিনের কৌটা, মার্বেল, তারকাটা, কসটেপ, পাথরের গুড়ো, ধানের তুষ, পাউডার মেশানোর ব্লেন্ডারসহ ককটেল তৈরির বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া এসব বিস্ফোরক দিয়ে কয়েক শতাধিক ককটেল তৈরি করা সম্ভব ছিল বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা আর সংরক্ষণ না করে নিরাপদ স্থানে নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিশেষ পদ্ধতিতে এসব ককটেল বোমা ধ্বংস করে।
এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিমের পুলিশ ইন্সপেক্টর শংকর কুমার ঘোষ বলেন, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল। নির্ধারিত নিরাপদ প্রক্রিয়ায় সব ককটেল বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ককটেল বিস্ফোরণ ও বিস্ফোরক মজুতের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক দুজনকে নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড আপস) তানভীর হোসেন বলেন, বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ককটেল বোমা ও বিস্ফোরক সামগ্রী বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে জন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

























