Dhaka , Wednesday, 11 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কে ইসলাম ফাহিমের উদ্যোগে এতিমখানায় ইফতার আয়োজন পাইকগাছায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত পাইকগাছায় সার ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযান; ৪ জনকে জরিমানা মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় এখন নদী ভাঙন রোধ করা যাচ্ছেনা: বন ও পরিবেশ মন্ত্রী পাঁচবিবিতে পাম্পে মিলছে না তেল, কোথাও মিললেও বাইকে মাত্র ২ লিটার যানবাহনের দীর্ঘ সারি সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সমন্বয়য়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম মধুপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ উদযাপন ট্রাসকো এপারেলস লি. শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বৈঠক, মঙ্গলবার কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত ঈদে যাতায়াত নিরাপদ রাখতে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ সভা সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান: বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, ২২ জন আটক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: রংপুরে ধরা পড়লো হাতীবান্ধার মামুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে : ড. মঈন খান রূপগঞ্জে মুক্তিপণের জন্য সাংবাদিককে অপহরণ, ৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার সাভারে ঈদকে ঘিরে র‌্যাবের বিশেষ অভিযান: হাতে-নাতে ৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার চট্টগ্রাম-১৪ আসনের ব্যালট সংরক্ষণে হাইকোর্টের নির্দেশ গভীর রাতে মন্ত্রীর কুকুরছানা উদ্ধার অভিযান জোড়া শালিক আর স্মৃতির ভায়োলিন নারী-পুরুষ সমঅধিকারেই টেকসই উন্নয়ন জয়পুরহাটে স্ট্রবেরি চাষে কৃষকের বিঘায় লাভ আড়াই লাখ ৩৭৮ বছরের মল্লিকপুর জামে মসজিদ সংরক্ষণের অভাবে হারাচ্ছে মোগল ঐতিহ্য আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানিতে চাকরি ইন্টারনেট নীতিমালা নিয়ে চলছে বৈশ্বিক আলোচনা উপবৃত্তির টাকা বিতরণে বড় পদক্ষেপ সরকারের দুই সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় ডিআরইউ’র নিন্দা শেষ দশকে যেসব ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে বললেন সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু ইফতারে ফলের সালাদ তৈরির রেসিপি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি এফ এম সিদ্দিকী

বিল্ডিং কোড না মেনে শিল্পকারখানা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ অব্যাহত, রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে ঝুঁকিতে ভবন ॥ ধস ও প্রাণহানীর আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:34:21 pm, Tuesday, 25 November 2025
  • 31 বার পড়া হয়েছে
মোঃ আবু কাওছার মিঠু, (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনেই শিল্পকারখানা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২১নভেম্বর ভূমিকম্পে শিল্পকারখানা ভবনের দেয়াল, ঘরবাড়িসহ স্থাপনার দেয়াল ফেটে যাওয়া অংশ জোড়া-তালি দিয়ে ব্যাবহার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে ভূমিকম্প হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও দেয়াল ধসে প্রাণহানীর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় এক হাজারের অধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। শিল্প কারখানাকে কেন্দ্র করে এখানে জীবন মান উন্নয়নের পাশাপাশি বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। অধিকাংশ শিল্প কারখানা ও বাড়িঘর বিল্ডিং কোড না মেনেই নির্মাণ করা হচ্ছে।
গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পে বেশকয়েকটি শিল্প কারখানা, বাড়িঘর ও মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া ইসলামবাগ এলাকায় দশ মাস বয়সী ফাতেমা আক্তার নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসী জানায়, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ধসে পড়তে পারে কয়েক হাজার ভবন ও শিল্প-কারখানা। নকশা বহির্ভূত শিল্প কারখানা ও বাড়ির ভবন গুলোতে দায়সারা অভিযান চালায় প্রশাসন ও রাজউক। ভবনের নকশা, নির্মাণ, পরিবর্তন, নিয়মনীতি হচ্ছে বিল্ডিং কোডের মানদন্ডের সেট। এর মাধ্যমে জনসাধারণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা যেমন ভবন ধস ও ক্ষতি প্রতিরোধ করা। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সঠিক নকশা, উন্নত মানের রড, ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
 কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো ভবন নির্মাণ করছে। গত শুত্রবারের ভূমিকম্পে ভবনটির পলেস্তরা খসে পড়তে দেখা গেছে।
ভূমিকম্পে রূপগঞ্জের এওয়ান পোলার, আবুল খায়ের গ্রুপের রবিনটেক্স কারখানা ও ম্যাক্স স্যুয়েটারসহ বেশকয়েকটি শিল্প কারখানার ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাটি দিয়ে তৈরি করা ঘরের দেয়ালেও ফাটল দেখা গেছে।
এদিকে ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল একটি ভূমিকম্প হয় যার উৎপত্তিস্থল ছিল রূপগঞ্জের তারাবো। রিখটার স্কেলে এটি ছিল ৪ মাত্রার। একই বছরের ১৭ এপ্রিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল রূপগঞ্জের ডহরগাঁও। সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ মাত্রা। এ কারণে রূপগঞ্জ উপজেলাও বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে শিল্প কারখানার ভবন ধসে বড় ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।
ভবন নির্মাণের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, সঠিক নকশা ও জরুরী সিঁড়ি ও আবাসিক অনুমোদন থাকা জরুরী। রূপগঞ্জে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বহুতল ভবন রয়েছে। এদের মধ্যে তারাবো পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের বহুতল ভবনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসকল এলাকার ভবন নির্মাণের মানা হয়নি কোন প্রকার নিয়ম নীতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিল্ডিং কোড না মেনে যেভাবে অপরিকল্পিত উপায়ে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে তাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও একটু বেশি সময় স্থায়ী হলে ঘটে যেতে পারে বড় ধ্বংসযজ্ঞ। কাজেই এ ব্যাপারে অবহেলা করার সুযোগ নেই। সবার আগে ভেঙে ফেলতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। তারপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মহড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, রূপগঞ্জে অনেক পুরানো ভবন রয়েছে। তারাবো চনপাড়া ঘনবসতিপূর্ন এলাকা। এগুলোর প্রায় সিংহভাগই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন অনেক ভবনও ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা ছাড়া নির্মাণ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহারে ভবনগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, ‘যেসব ভবন রেট্রোফিটিং করে ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে। যে সকল ভবন টেকনিক্যালি ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব নয়, সেগুলো ভাঙতে ফেলতে হবে।
     তারাবো পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ নিগার সুলতানা বলেন, অবৈধভাবে ভবন নির্মাণে আমরা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করি। নানা প্রতিকূলতায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করা যাচ্ছে না।
রূপগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা বলেন, ভূমিকম্পে করণীয় বিষয় নিয়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মানুষদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে।
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিটন সরকার বলেন, নকশা ও অনুমোদনবিহীন ভবন তৈরির পাশাপাশি নির্দিষ্ট মাপের জায়গা না রেখেই অনেকে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই অভিযান চলমান রয়েছে। কিন্তু সুফল হচ্ছে না।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পে ফেটে যাওয়া ভবন সরকারি ও বেসকারি প্রকৌশলী দলের পরিদর্শন অব্যাহত রয়েছে। ভবনের কোন কোন অংশে ফাটল দেখা দিলেও কাঠামোগতভাবে জুঁকিপূর্ণ নয়। ধর্য্য ও তথ্যের সততা যাচাই দুর্যোগে আমাদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। যাচাই-বাচাই ছাড়া কোন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বন্ধ করতে হবে। গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করা দন্ডনীয় অপরাধ। গুজব দুর্যোগের চেয়েও ভয়াভহ। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কে ইসলাম ফাহিমের উদ্যোগে এতিমখানায় ইফতার আয়োজন

বিল্ডিং কোড না মেনে শিল্পকারখানা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ অব্যাহত, রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে ঝুঁকিতে ভবন ॥ ধস ও প্রাণহানীর আশঙ্কা

আপডেট সময় : 06:34:21 pm, Tuesday, 25 November 2025
মোঃ আবু কাওছার মিঠু, (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনেই শিল্পকারখানা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২১নভেম্বর ভূমিকম্পে শিল্পকারখানা ভবনের দেয়াল, ঘরবাড়িসহ স্থাপনার দেয়াল ফেটে যাওয়া অংশ জোড়া-তালি দিয়ে ব্যাবহার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে ভূমিকম্প হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও দেয়াল ধসে প্রাণহানীর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় এক হাজারের অধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। শিল্প কারখানাকে কেন্দ্র করে এখানে জীবন মান উন্নয়নের পাশাপাশি বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। অধিকাংশ শিল্প কারখানা ও বাড়িঘর বিল্ডিং কোড না মেনেই নির্মাণ করা হচ্ছে।
গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পে বেশকয়েকটি শিল্প কারখানা, বাড়িঘর ও মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া ইসলামবাগ এলাকায় দশ মাস বয়সী ফাতেমা আক্তার নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসী জানায়, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ধসে পড়তে পারে কয়েক হাজার ভবন ও শিল্প-কারখানা। নকশা বহির্ভূত শিল্প কারখানা ও বাড়ির ভবন গুলোতে দায়সারা অভিযান চালায় প্রশাসন ও রাজউক। ভবনের নকশা, নির্মাণ, পরিবর্তন, নিয়মনীতি হচ্ছে বিল্ডিং কোডের মানদন্ডের সেট। এর মাধ্যমে জনসাধারণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা যেমন ভবন ধস ও ক্ষতি প্রতিরোধ করা। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সঠিক নকশা, উন্নত মানের রড, ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
 কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো ভবন নির্মাণ করছে। গত শুত্রবারের ভূমিকম্পে ভবনটির পলেস্তরা খসে পড়তে দেখা গেছে।
ভূমিকম্পে রূপগঞ্জের এওয়ান পোলার, আবুল খায়ের গ্রুপের রবিনটেক্স কারখানা ও ম্যাক্স স্যুয়েটারসহ বেশকয়েকটি শিল্প কারখানার ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাটি দিয়ে তৈরি করা ঘরের দেয়ালেও ফাটল দেখা গেছে।
এদিকে ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল একটি ভূমিকম্প হয় যার উৎপত্তিস্থল ছিল রূপগঞ্জের তারাবো। রিখটার স্কেলে এটি ছিল ৪ মাত্রার। একই বছরের ১৭ এপ্রিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল রূপগঞ্জের ডহরগাঁও। সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ মাত্রা। এ কারণে রূপগঞ্জ উপজেলাও বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে শিল্প কারখানার ভবন ধসে বড় ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।
ভবন নির্মাণের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, সঠিক নকশা ও জরুরী সিঁড়ি ও আবাসিক অনুমোদন থাকা জরুরী। রূপগঞ্জে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বহুতল ভবন রয়েছে। এদের মধ্যে তারাবো পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের বহুতল ভবনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসকল এলাকার ভবন নির্মাণের মানা হয়নি কোন প্রকার নিয়ম নীতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিল্ডিং কোড না মেনে যেভাবে অপরিকল্পিত উপায়ে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে তাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও একটু বেশি সময় স্থায়ী হলে ঘটে যেতে পারে বড় ধ্বংসযজ্ঞ। কাজেই এ ব্যাপারে অবহেলা করার সুযোগ নেই। সবার আগে ভেঙে ফেলতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো। তারপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মহড়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, রূপগঞ্জে অনেক পুরানো ভবন রয়েছে। তারাবো চনপাড়া ঘনবসতিপূর্ন এলাকা। এগুলোর প্রায় সিংহভাগই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন অনেক ভবনও ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা ছাড়া নির্মাণ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহারে ভবনগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, ‘যেসব ভবন রেট্রোফিটিং করে ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে। যে সকল ভবন টেকনিক্যালি ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব নয়, সেগুলো ভাঙতে ফেলতে হবে।
     তারাবো পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ নিগার সুলতানা বলেন, অবৈধভাবে ভবন নির্মাণে আমরা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করি। নানা প্রতিকূলতায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করা যাচ্ছে না।
রূপগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা বলেন, ভূমিকম্পে করণীয় বিষয় নিয়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মানুষদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে।
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিটন সরকার বলেন, নকশা ও অনুমোদনবিহীন ভবন তৈরির পাশাপাশি নির্দিষ্ট মাপের জায়গা না রেখেই অনেকে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই অভিযান চলমান রয়েছে। কিন্তু সুফল হচ্ছে না।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পে ফেটে যাওয়া ভবন সরকারি ও বেসকারি প্রকৌশলী দলের পরিদর্শন অব্যাহত রয়েছে। ভবনের কোন কোন অংশে ফাটল দেখা দিলেও কাঠামোগতভাবে জুঁকিপূর্ণ নয়। ধর্য্য ও তথ্যের সততা যাচাই দুর্যোগে আমাদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। যাচাই-বাচাই ছাড়া কোন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বন্ধ করতে হবে। গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করা দন্ডনীয় অপরাধ। গুজব দুর্যোগের চেয়েও ভয়াভহ। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।