Dhaka , Friday, 15 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জামায়াত আমির ও ইইউ রাষ্ট্রদূতের মধ্যে কী আলোচনা হলো হামে আক্রান্ত যমজ শিশু হাসান-হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে হোটেলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৬ গ্যাস বিস্ফোরণে বাবার পর একে একে মারা গেল ৩ ভাইবোন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলায় রাজাপুরের বালক-বালিকা দল চ্যাম্পিয়ন অফিসে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ অভিযোগের ৬ ঘণ্টার মধ্যে ৩৫ লাখ টাকার চুরি যাওয়া থ্রি-পিস উদ্ধার ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড, ঘোষণা করল দল হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮ জনের শরীরে অ্যান্ডিজ ভাইরাস শনাক্ত: ডব্লিউএইচও কত বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন জানালেন ফজলুর রহমান মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সমন্বিত প্রয়াসের আহ্বান- হাটহাজারীতে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি কাউখালীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত বিএসএফ-এর গুলিতে হাতীবান্ধা সীমান্তে যুবক নিহত: দায় অস্বীকার করলেও প্রতিবাদ বিজিবির ফতুল্লায় ডিশ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চকরিয়ার খুটাখালীর থেকে এক মসজিদের ইমাম এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কক্সবাজারে “মাদক নিয়ন্ত্রণ ও যুব সমাজের সম্পৃক্ততা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত ভাঙ্গায় দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ, নিহত ২ জ্বর ঠোসা কেন হয়, হলে করণীয় কী, জানালেন তাসনিম জারা শি’কে ‘মহান নেতা’ বলে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী হতে হবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে: শি জিনপিং শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে আনা হলো দীপু মনি, ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ঢাকাসহ ১০ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আভাস, নৌবন্দরে সতর্কতা ঢাবি মসজিদে সাদিক কায়েমের বিয়ে পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত স্পেনের অভিজাত এলাকায় ১৬৫ কোটিতে মেসির সাম্রাজ্য হাজী সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন নোয়াখালীতে দুই ডেন্টাল ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা লাখ টাকা মাদক বিরোধী অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারই সেরা রাজাপুরে দুইটি এইচবিবি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি জামাল পাইকগাছায় বৃদ্ধা চাচিকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতর অভিযোগ

হরিপুর রাজবাড়ি ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী ও সংস্কৃতির কাজ চলমান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:54:52 pm, Sunday, 15 June 2025
  • 72 বার পড়া হয়েছে
নয়ন হোসেন,
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা, যা  হরিপুর থানা হিসেবেও পরিচিত। বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং ঠাকুরগাঁও জেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। যা হরিপুর রাজবাড়ী নামে পরিচিত।
হরিপুর রাজবাড়ি ছিল একটি প্রাসাদোপম অট্টালিকা, যা ১৮৯৩ সালে নির্মিত হয়। দ্বিতল ভবনের লতাপাতার নকশা ও পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি ছিল। রাজবাড়িতে একটি বড় পাঠাগার, শিব মন্দির ও নাট মন্দির ছিল। বর্তমানে রাজবাড়িটির অধিকাংশ অংশ অযত্ন ও অবহেলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়রা রাজবাড়ির সংরক্ষণে উদ্যোগী হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহায়তা প্রয়োজন।
হরিপুর উপজেলা প্রশাসনিকভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে হরিপুর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অবস্থিত। স্থানীয়রা শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় আগ্রহী, যা রাজবাড়ির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
শিব মন্দির ও নাট মন্দির: ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান। স্থানীয় গ্রাম ও বাজার: গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক।
প্রাচীন ইতিহাস।
হরিপুরের ইতিহাস প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুণ্ডু নামে এক ব্যবসায়ী হরিপুরে এণ্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে আসেন। তখন মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম নারী এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। তার জমিদারির কিছু অংশ খাজনা অনাদায়ে নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুণ্ডু তা কিনে নেন।
ঘনশ্যামের বংশধর রাঘবেন্দ্র রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে হরিপুর রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তার পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘রাজর্ষি’ উপাধিতে ভূষিত হন। রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি ছিল।
রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী গড়ে তুলেছিলেন একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার অনুরাগের পরিচায়ক। ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির ছিল। রাজবাড়িতে ছিল একটি বড় পাঠাগার, যার অস্তিত্ব এখন নেই। রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল তাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
হরিপুর থানা বা উপজেলা ঠাকুরগাঁও জেলার একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। হরিপুর রাজবাড়ি, শিব মন্দির, নাট মন্দির ও অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এই অঞ্চলের গৌরবময় অতীতের সাক্ষী। যদি এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমির ও ইইউ রাষ্ট্রদূতের মধ্যে কী আলোচনা হলো

হরিপুর রাজবাড়ি ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী ও সংস্কৃতির কাজ চলমান

আপডেট সময় : 01:54:52 pm, Sunday, 15 June 2025
নয়ন হোসেন,
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা, যা  হরিপুর থানা হিসেবেও পরিচিত। বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং ঠাকুরগাঁও জেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। যা হরিপুর রাজবাড়ী নামে পরিচিত।
হরিপুর রাজবাড়ি ছিল একটি প্রাসাদোপম অট্টালিকা, যা ১৮৯৩ সালে নির্মিত হয়। দ্বিতল ভবনের লতাপাতার নকশা ও পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি ছিল। রাজবাড়িতে একটি বড় পাঠাগার, শিব মন্দির ও নাট মন্দির ছিল। বর্তমানে রাজবাড়িটির অধিকাংশ অংশ অযত্ন ও অবহেলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়রা রাজবাড়ির সংরক্ষণে উদ্যোগী হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহায়তা প্রয়োজন।
হরিপুর উপজেলা প্রশাসনিকভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে হরিপুর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অবস্থিত। স্থানীয়রা শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় আগ্রহী, যা রাজবাড়ির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
শিব মন্দির ও নাট মন্দির: ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান। স্থানীয় গ্রাম ও বাজার: গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক।
প্রাচীন ইতিহাস।
হরিপুরের ইতিহাস প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুণ্ডু নামে এক ব্যবসায়ী হরিপুরে এণ্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে আসেন। তখন মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম নারী এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। তার জমিদারির কিছু অংশ খাজনা অনাদায়ে নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুণ্ডু তা কিনে নেন।
ঘনশ্যামের বংশধর রাঘবেন্দ্র রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে হরিপুর রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তার পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘রাজর্ষি’ উপাধিতে ভূষিত হন। রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি ছিল।
রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী গড়ে তুলেছিলেন একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার অনুরাগের পরিচায়ক। ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির ছিল। রাজবাড়িতে ছিল একটি বড় পাঠাগার, যার অস্তিত্ব এখন নেই। রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল তাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
হরিপুর থানা বা উপজেলা ঠাকুরগাঁও জেলার একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। হরিপুর রাজবাড়ি, শিব মন্দির, নাট মন্দির ও অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এই অঞ্চলের গৌরবময় অতীতের সাক্ষী। যদি এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।