
তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি
চলতি মৌসুমে তথা ২০২৫ সালে হিমাগারের মালিকরা সংরক্ষিত আলুর বস্তার ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীবৃন্দ। এছাড়াও তারা রাস্তায় আলু ফেলে বসে পড়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
১ মার্চ “শনিবার” সকাল ১১টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে অবস্থিত লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী মহাসড়কে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভ প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলে। ফলে রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে হিমাগারের মালিকরা হুট করে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের জন্য দাম বাড়িয়ে ৮ টাকা নির্ধারণ করেন। যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়াও হিমাগারের সামনে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দেয়া হয়। আলু সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধিতে তারা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। গত বছর আলুর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর অনেক কৃষকই আলুর চাষ করেছেন। এর ফলে হিমাগারে সবাই আলু সংরক্ষণ করতে পারবে কিনা সেই বিষয় নিয়েও তাদের শঙ্কা রয়েছে। আলু চাষের খরচ ও হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান হতে পারে এই ভেবে তারা খুবই উদ্বিগ্ন। তাই হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে তারা একত্রিত হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা “ওসি” মো. নূরনবী। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ আমাদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা আছেন। যেমন আমাদের ডিসি, এসপি ও ইউএনও স্যাররা। অপরদিকে কোল্ড স্টোরেজগুলোর পক্ষে মালিকরা রয়েছেন। তাদের একটি সংগঠনও রয়েছে। তাই আমি ডিসি ও এসপি মহোদয়কে বলবো যেন তারা কোল্ড স্টোরেজের মালিকদের সাথে কথা বলে কবে বৈঠক করবেন সেই সিদ্ধান্ত জানান। আমি এখনই ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানাচ্ছি।“
এরপর তিনি সকলের সামনে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল দিয়ে তাকে বিষয়টি অবগত করেন এবং ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ জানান।
কিছুক্ষণ পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ”ভারপ্রাপ্ত” অভিজিত চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “কাল রবিবার সব পক্ষকে নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। আমি সেই মিটিংয়ে আপনাদেরকে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আশাকরি ওই সভায় একটি সমাধান হবে।“
ইউএনও’র দেয়া আশ্বাসে কৃষকরা বিক্ষোভ ও অবরোধ কার্যক্রম স্থগিত করে রাস্তা ছেড়ে দেন।
সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা “ভারপ্রাপ্ত” কৃষকদেরকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ বা স্মারকলিপি জমা দেয়ার পরামর্শ দেন।

























