Dhaka , Tuesday, 30 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় জনগুরুত্বপূর্ণ বাইনতলা-খড়িয়া সড়ক সংস্কারহীন; চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী চন্দনাইশ প্রবাসী সমিতি-দাম্মাম এর সহযোগিতায় বরকল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান কিশোর বয়সে প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আশেকানে গাউছিয়া সুলতানপুরী পরিষদ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মধুপুরে পরিত্যক্ত গর্ত থেকে ছাগল তুলতে গিয়ে বাবা-ছেলে – মামা সহ প্রাণ গেল ৪ জনের রায়পুরে বর্ণমালা একাডেমীতে ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিতেই গড়ে উঠবে সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল কঠিন সময়ে সতীর্থকে পাশে পাচ্ছেন রোনালদো ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তা ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে কালো অধ্যায়’ মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে খুশি করতে মিথ্যা সংবাদ লেখার প্রয়োজন নেই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্নের নিউক্লিয়াস বদলে যাওয়া ভিনি নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার সরাইলে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিই উন্নয়নের চাবিকাঠি: ড. মঈন খান সাতকানিয়ার আমিলাইশে রাতের অন্ধকারে বাড়িতে আগুন নন্দিনী হত্যার বিচার হবে দ্রুততম সময়ে, ফলিমারীতে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে ত্রাণমন্ত্রী দুলুর ঘোষণা ক্যাবের চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে বিশেষ অভিযান বিপুল পরিমাণ অবৈধ তিতাস গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ মধুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা জেল, জরিমানা ঘাটাইলে ব্র্যাকের বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ রূপগঞ্জের অপহৃত ব্যবসায়ী ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি রূপগঞ্জ বালু নদের কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতু আগামী এক বছরের মধ্যে চালু করা হবে – প্রতিমন্ত্রী নারী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রূপগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মা সমাবেশ রূপগঞ্জে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধারের দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন খুনিয়াপালংয়ের ছাদিরকাঠার সড়ক বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী, দুর্ভোগে পথচারীরা

এসএসসি পাশ না করেও ২১ বছর যাবৎ দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাকিম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:55:21 pm, Friday, 24 January 2025
  • 97 বার পড়া হয়েছে

এসএসসি পাশ না করেও ২১ বছর যাবৎ দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাকিম

শওকত আলম, কক্সবাজার

   

সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়মে পর্যুদস্ত কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের আওতাধীন চৌফলদন্ডী ইসলামিয়া তা’লিমুল কুরআন বালিকা দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও নিয়ম-নীতির কোন বালাই নেই। অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মাও: নুরুল হাকিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও। তিনি দাখিল-এসএসসি পাশ না হলেও কিভাবে তিনি প্রধান শিক্ষক হয়েছেন এটা যেমন জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে, তেমনি সরকারী বিধিমালার কোন তোয়াক্কা না করে কিভাবে সবকিছুই তার মৌখিক স্বীকৃতিতে চলে এটা নিয়েও রয়েছে জনমনে নানান প্রতিক্রিয়া। প্রশাসনিক অননুমোদিত এই প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের নাকের ডগায় গত ২১বছর যাবৎ কিভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দেশব্যাপী সংস্কার চলছে- তবে এই প্রতিষ্ঠানটি এখনো কিছু অশিক্ষিত স্থানীয় প্রভাবশালী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরে ভরপুর কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিম যেনো সব নিয়ম ভেঙ্গে অনিয়ম চালুর কারিগর! তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির চিহ্ন লুকাতে দীর্ঘ ২১বছর যাবৎ শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রায় সকল কাজ মৌখিক ভাবেই করে থাকেন তিনি। তার রয়েছে নিজস্ব প্রভাবশালী সিন্ডিকেট! তাদের মাধ্যমে সমস্ত অনিয়ম কে নিয়ম করে নেন তিনি।

২১শতকের এই শিল্প-বিপ্লবের যুগে এসেও দাখিল-এসএসসি পাশ না করা ব্যক্তি কিভাবে একটা দাখিল মাদ্রাসায় ২১ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বহাল রয়েছে তা নিয়ে এলাকজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নুরুল হাকিম সহ প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের যতসব অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছে না কেউ।

প্রশাসনিক কোনো অনুমোদন না থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য  সরকারীভাবে বই-পুস্তক বরাদ্দ না থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক প্রভাবশালী কর্মচারি কে ম্যানেজ করে প্রতিবছর বই সংগ্রহ করেন মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুল হাকিম। কিন্তু সরকারি এই পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও-টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পুস্তক সরবরাহ করেন বলে অভিভাবকসূত্রে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- আওয়ামী দোসরে পরিপূর্ণ মাদ্রাসাটির কমিটির লোকজন দিয়ে মাওলানা নুরুল হাকিম শিক্ষকদেরকে কথা শোনান ও লাঞ্ছিত করান। সরকারী কোনো বিধিমালার তোয়াক্কা না করে মৌখিকভাবে করা কমিটিতে কখন কে কোন পদে আসীন হয় তা প্রধান শিক্ষক ছাড়া কেউ জানে না বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

শুধু প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিম’ই নয় বরং উক্ত প্রতিষ্টানের পরিচালনা কমিটি নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ। জানা যায়, সমসাময়িক বিষয়াদি বিবেচনা করে পরিচালনা কমিটিতে পছন্দ মতো সভাপতি/সেক্রেটারি নির্বাচিত করেন স্বয়ং প্রধান শিক্ষকই। এছাড়াও সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্টানের পরিচালনা কমিটিতে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। তবে এই নিয়মটিও ডিঙ্গিয়ে নিজ পছন্দ মতো প্রভাবশালী লোকদের সাথে আতাত করে পরিচালনা কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি পুরো নিজের জিম্মায় রাখেন নুরুল হাকিম। এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষক নুরুল হাকিমের এমন অপব্যাবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী পরিচালনা কমিটি দ্বারা তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চিত করেন পরিশেষে চাকরিচ্যুত করেন।

তারই ন্যায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কোনধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়া পর্যায়ক্রমে দুইজন শিক্ষককে বরখাস্ত  করেন তা’লিমুল কুরআন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার প্রভাবশালী মৌখিক কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি ।

স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি বদরুল আলম (বদরু বহদ্দার) হঠাৎ এসে উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মৌলভী নুরুল আবছারকে তার বেতনের হিসাব-নিকাশ করে চলে যেতে বলেন। কোনধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া চলে যেতে বলায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান মৌলভী নুরুল আবছার। এমতবস্থায় আরো কয়েকজন  উপস্থিত শিক্ষক সভাপতি বদরুল আলমের কাছ থেকে চলে যেতে বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন “আমাদের যখন ভালো লাগে আমরা রাখি আর ভালো না লাগলে তাড়িয়ে দিই”।

এর কয়েকদিন পর একই কায়দায় মাদ্রাসার সেক্রেটারী পদ দাবিদার ছৈয়দ আলম (মুন্সি) উক্ত মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মৌলানা এহসানুল হককে বরখাস্ত করেন। তখন তিনিও কারণ জানতে চাইলে সেক্রেটারি ছৈয়দ আলম মুন্সি বলেন “উপরের নির্দেশ আছে”।

এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, উনি প্রতিবেদককে শুক্রবার মাদ্রাসা বন্ধের দিনে অফিসে আমন্ত্রণ জানান। এবং চা নাস্তা ও যাতায়াতের খরচ বহন করবেন বলেও জানান।

এই বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দাবিদার বদরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তার সৎউত্তর দিতে ব্যার্থ হন।

এবং সাধারণ সম্পাদক দাবিদার ছৈয়দ আলম মুন্সি বলেন, নুরানী প্রতিষ্টাকালীন সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নুরুল হাকিম। এবং প্রতিষ্ঠানটি এলাকাভিত্তিক হওয়ায় এলাকার ব্যাক্তিবর্গের পরামর্শে তারা পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের এসএসসি/দাখিল পাশ না করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার রাম মোহন সেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দাখিল এসএসসি পাশ না করার বিষয়টি অতীব গুরুতর। এবং এ বিষয়ে সঠিক অভিযোগ পেলে এর ব্যাবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

এ নিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এরকম হ য ব র ল অবস্থায় প্রতিষ্টানটির পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন অভিভাবক ও স্হানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় জনগুরুত্বপূর্ণ বাইনতলা-খড়িয়া সড়ক সংস্কারহীন; চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

এসএসসি পাশ না করেও ২১ বছর যাবৎ দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাকিম

আপডেট সময় : 06:55:21 pm, Friday, 24 January 2025

শওকত আলম, কক্সবাজার

   

সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়মে পর্যুদস্ত কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের আওতাধীন চৌফলদন্ডী ইসলামিয়া তা’লিমুল কুরআন বালিকা দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও নিয়ম-নীতির কোন বালাই নেই। অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মাও: নুরুল হাকিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও। তিনি দাখিল-এসএসসি পাশ না হলেও কিভাবে তিনি প্রধান শিক্ষক হয়েছেন এটা যেমন জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে, তেমনি সরকারী বিধিমালার কোন তোয়াক্কা না করে কিভাবে সবকিছুই তার মৌখিক স্বীকৃতিতে চলে এটা নিয়েও রয়েছে জনমনে নানান প্রতিক্রিয়া। প্রশাসনিক অননুমোদিত এই প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের নাকের ডগায় গত ২১বছর যাবৎ কিভাবে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দেশব্যাপী সংস্কার চলছে- তবে এই প্রতিষ্ঠানটি এখনো কিছু অশিক্ষিত স্থানীয় প্রভাবশালী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরে ভরপুর কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিম যেনো সব নিয়ম ভেঙ্গে অনিয়ম চালুর কারিগর! তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির চিহ্ন লুকাতে দীর্ঘ ২১বছর যাবৎ শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রায় সকল কাজ মৌখিক ভাবেই করে থাকেন তিনি। তার রয়েছে নিজস্ব প্রভাবশালী সিন্ডিকেট! তাদের মাধ্যমে সমস্ত অনিয়ম কে নিয়ম করে নেন তিনি।

২১শতকের এই শিল্প-বিপ্লবের যুগে এসেও দাখিল-এসএসসি পাশ না করা ব্যক্তি কিভাবে একটা দাখিল মাদ্রাসায় ২১ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বহাল রয়েছে তা নিয়ে এলাকজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নুরুল হাকিম সহ প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের যতসব অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছে না কেউ।

প্রশাসনিক কোনো অনুমোদন না থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য  সরকারীভাবে বই-পুস্তক বরাদ্দ না থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক প্রভাবশালী কর্মচারি কে ম্যানেজ করে প্রতিবছর বই সংগ্রহ করেন মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুল হাকিম। কিন্তু সরকারি এই পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও-টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পুস্তক সরবরাহ করেন বলে অভিভাবকসূত্রে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- আওয়ামী দোসরে পরিপূর্ণ মাদ্রাসাটির কমিটির লোকজন দিয়ে মাওলানা নুরুল হাকিম শিক্ষকদেরকে কথা শোনান ও লাঞ্ছিত করান। সরকারী কোনো বিধিমালার তোয়াক্কা না করে মৌখিকভাবে করা কমিটিতে কখন কে কোন পদে আসীন হয় তা প্রধান শিক্ষক ছাড়া কেউ জানে না বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

শুধু প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিম’ই নয় বরং উক্ত প্রতিষ্টানের পরিচালনা কমিটি নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ। জানা যায়, সমসাময়িক বিষয়াদি বিবেচনা করে পরিচালনা কমিটিতে পছন্দ মতো সভাপতি/সেক্রেটারি নির্বাচিত করেন স্বয়ং প্রধান শিক্ষকই। এছাড়াও সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্টানের পরিচালনা কমিটিতে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। তবে এই নিয়মটিও ডিঙ্গিয়ে নিজ পছন্দ মতো প্রভাবশালী লোকদের সাথে আতাত করে পরিচালনা কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি পুরো নিজের জিম্মায় রাখেন নুরুল হাকিম। এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষক নুরুল হাকিমের এমন অপব্যাবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী পরিচালনা কমিটি দ্বারা তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চিত করেন পরিশেষে চাকরিচ্যুত করেন।

তারই ন্যায় সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কোনধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়া পর্যায়ক্রমে দুইজন শিক্ষককে বরখাস্ত  করেন তা’লিমুল কুরআন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার প্রভাবশালী মৌখিক কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি ।

স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি বদরুল আলম (বদরু বহদ্দার) হঠাৎ এসে উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মৌলভী নুরুল আবছারকে তার বেতনের হিসাব-নিকাশ করে চলে যেতে বলেন। কোনধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া চলে যেতে বলায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান মৌলভী নুরুল আবছার। এমতবস্থায় আরো কয়েকজন  উপস্থিত শিক্ষক সভাপতি বদরুল আলমের কাছ থেকে চলে যেতে বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন “আমাদের যখন ভালো লাগে আমরা রাখি আর ভালো না লাগলে তাড়িয়ে দিই”।

এর কয়েকদিন পর একই কায়দায় মাদ্রাসার সেক্রেটারী পদ দাবিদার ছৈয়দ আলম (মুন্সি) উক্ত মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মৌলানা এহসানুল হককে বরখাস্ত করেন। তখন তিনিও কারণ জানতে চাইলে সেক্রেটারি ছৈয়দ আলম মুন্সি বলেন “উপরের নির্দেশ আছে”।

এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, উনি প্রতিবেদককে শুক্রবার মাদ্রাসা বন্ধের দিনে অফিসে আমন্ত্রণ জানান। এবং চা নাস্তা ও যাতায়াতের খরচ বহন করবেন বলেও জানান।

এই বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দাবিদার বদরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তার সৎউত্তর দিতে ব্যার্থ হন।

এবং সাধারণ সম্পাদক দাবিদার ছৈয়দ আলম মুন্সি বলেন, নুরানী প্রতিষ্টাকালীন সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নুরুল হাকিম। এবং প্রতিষ্ঠানটি এলাকাভিত্তিক হওয়ায় এলাকার ব্যাক্তিবর্গের পরামর্শে তারা পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের এসএসসি/দাখিল পাশ না করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার রাম মোহন সেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দাখিল এসএসসি পাশ না করার বিষয়টি অতীব গুরুতর। এবং এ বিষয়ে সঠিক অভিযোগ পেলে এর ব্যাবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

এ নিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এরকম হ য ব র ল অবস্থায় প্রতিষ্টানটির পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন অভিভাবক ও স্হানীয়রা।