Dhaka , Thursday, 16 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচার সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবর পাইকগাছায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত মধুপুরে জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত সম্পদের লোভে ওমান প্রবাসীর ওপর পৈশাচিকতা: ৫ দিন ঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন। জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার: পুলিশ সুপার জনগণের প্রতি সরকার শতভাগ দায়বদ্ধ, বাঘাইছড়িতে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নগরীর মুরাদপুরে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে চরভদ্রাসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১২ বছর পর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে জেনিফার উইঙ্গেট ২০২৮ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচ থাকছেন টুখেল মসজিদে হামলার ছক, যুক্তরাজ্যে কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা এখন কি স্বর্ণে বিনিয়োগের সময়? জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে: আইজিপি দক্ষিণ মিঠাছড়িতে বন্যার্তদের মাঝে শিশু সুরক্ষা কমিটির ত্রাণসামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ নালা পরিস্কার করা হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বন্দর–ডবলমুরিং এলাকায় চাল বিতরণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশ্বাস চরভদ্রাসনে জেলের হাতে ধরা পড়ল মেছো বাঘের বাচ্চা: উৎসুক জনতার ভিড়: পরে বন বিভাগে হস্তান্তর। রায়পুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের উপহারসামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতায় ঘরেই নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু বেগমগ‌ঞ্জে ভোক্তা অ‌ধিকা‌রের অ‌ভিযান ; তিন প্রতিষ্ঠান‌কে ২৭ হাজার টাকা জ‌রিমানা নগরীর একসেস রোডে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ০৮ (আট) আসামী গ্রেফতার কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা পাচার, আটক ৩ রূপগঞ্জে ৫০০ রোগীর মাঝে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা রূপগঞ্জে যুবলীগ নেতার দখলে থাকা কৃষকের জমি উদ্ধার করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা বন্যার্ত মানুষের পাশে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে চউকের চাল বিতরন

প্রিপেইড মিটার চক্রান্তে প্রতিমাসে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল- ওজিপাডিকোর নয়ছয় বক্তব্যে ক্ষুব্ধ গ্রাহক।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:49:25 pm, Tuesday, 27 August 2024
  • 172 বার পড়া হয়েছে

প্রিপেইড মিটার চক্রান্তে প্রতিমাসে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল- ওজিপাডিকোর নয়ছয় বক্তব্যে ক্ষুব্ধ গ্রাহক।।

বিশেষ প্রতিবেদক।।
   
   
বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ক্ষুদে ব্যবসায়ী এমনকি চা দোকানেও গত জানুয়ারী থেকে প্রতিমাসে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। প্রতিমাসেই বিদ্যুৎ ব্যাবহারের মিটার রিডিং বাড়তি। এভাবে বাড়তে বাড়তে ৬০০ টাকার বিল হয়েছে ১৫০০ টাকা, আবার ১৫০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল এখন ৩৬০০ টাকা হয়েছে বলে একাধিক অভিযোগ বরিশালে। এটাকে প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য চক্রান্ত বলছেন অনেকে। প্রিপেইড মিটার মানেই ফোন কোম্পানির মতো নিমিষেই টাকা নাই হবার ষড়যন্ত্র দাবী করে এই মিটার বসানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবী ২৭ আগস্ট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। 
বরিশালে বিদ্যুৎ বিলে কারসাজি নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি -ওজিপাডিকো- বরিশালের  ১ ও ২ এর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কারসাজির অভিযোগ করে আসছিলেন গ্রাহকেরা। যার বাসায় আগে বিদ্যুৎ বিল আসতো ৬০০ টাকা- তার বাসায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ বিল ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা আসতে শুরু করলে গ্রাহকদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গড় ইউনিট ব্যবহার ৩ মাসে একই হওয়ার পরও বিল তিনমাসে ২০০ বা ১৫০ টাকা বেশি করা হয়েছে এমন অনেক বিলের কাগজ দেখালেন গ্রাহকেরা। আর ওজিপাডিকো কর্মকর্তা তাদের থামিয়ে দিলেন মিটার রিডিং দেখানোর প্রশ্ন তুলে। সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে বরিশালের ওজিপাডিকো ১ কর্মকর্তার কক্ষে। 
পলাতক হাসিনা সরকারের সময়ে একবছরে অযৌক্তিক ভাবে  চারবার বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার সুযোগ নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে বিদ্যুৎ বিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও এগুলো সব মিটার রিডিং ধরেই করা এবং যৌক্তিক বলে দাবী করে  বিদ্যুৎ প্রশাসন ও ওজিপাডিকো কর্মকর্তারা গ্রাহকদের নয় ছয় বুঝিয়ে পার পেয়ে আসছেন বছরের পর বছর । এ নিয়ে বহুবার জেলা প্রশাসক বরাবরে লেখিত অভিযোগ জানানোর পরও আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের। তবে গত এপ্রিলে মিটার চার্জ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এখন তারা মিটার ভাড়া তুলে দিয়ে সেখানে ডিমান্ড চার্জ বসিয়ে বিলের রশিদ প্রদান করছেন। আর এ ডিমান্ড চার্জ তিনতলা একটি বাড়ির যদি সাতটি সাবমিটার থাকে তাহলে সাতটির সাথেই সংযুক্ত হচ্ছে। যদিও এটাকেও ন্যায্য বললেন ওজিপাডিকো কর্মকর্তা। তাদের বিল রশিদের যে বিষয়গুলোতে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণা নেই তা হচ্ছে লাইফ লাইন এবং তার নীচে প্রথম থেকে ষষ্ঠ পর্যন্ত ধাপগুলো। যার ৩টি ধাপই ব্যবহার হয় বাসাবাড়ির বিলের ক্ষেত্রে। সাথে আছে ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ। 
সম্প্রতি গত জুন থেকে এই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রীতিমতো প্রতারণার হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন ফ্লাটবাড়িসহ অফিস আদালতের বাসিন্দারাও। তাদের দাবী প্রিপেইড মিটার বসানোর একটা প্রক্রিয়া চলছে শুনতে পেয়েছি। ঢাকায় যারা এই প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছে- বিশেষ করে মীরপুরের অনেক গ্রাহকই এখন শান্তিতে নেই। ২ হাজার টাকা ভরে একসপ্তাহ চলতে পারেন না। টাকা না ভরলে অটোমেটিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এটা একটি অত্যাধুনিক প্রতারণা। তাই বরিশালে আমরা এটা চাইনা। 
২৭ আগস্ট বরিশাল ওজিপাডিকো এক এর সামনে এ নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে ওজিপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদসহ বরিশালের জেলা প্রশাসকের হাতেও। এসময় কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন- গত এপ্রিল থেকেই প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে। এটা এই প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য একটা চক্রান্ত কর্মকর্তাদের।
 এ নিয়ে প্রশ্ন করলে গত জুলাইয়ে ওজিপাডিকো দুই কর্মকর্তারা বলেছেন- জুন জুলাইয়ে একটু বাড়তি বিল করা হয় বিগত মাসের ঘাটতি কমাতে। 
কীসের ঘাটতি জানতে চাইলেও দেয়া হয় ছয়-নয় উত্তর। বলেন- জুন ও জুলাইয়ের আগে বিগত আগস্ট থেকে চলতি মে পর্যন্ত আমরা মিটার রিডিং কিছুটা কম লেখি। আমরা সবসময় জিরো ও পাঁচ এর মধ্যে রিডিং না করলে হিসাব মেলাতে সমস্যা হয়। তাই অনেক রিডিং দু-চার ইউনিট কমিয়ে বা বাড়িয়ে এ্যাডজাস্ট করতে হয়। জুন জুলাইতে এসেই এটা এ্যাডজাস্ট করা হয় বলে জানান তারা। 
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও পলায়নের পর সবকিছুর পরিবর্তন ঘটে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সততার পথে হাঁটলেও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। উল্টো এই সুযোগে বিদ্যুৎ বিল ছয়-নয় করে এদের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারী জনগণের সাথে রীতিমতো প্রতারণা শুরু করেছে বলে জানান ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করাও। তারা বলেন- পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে সরকারি সব দপ্তরসহ এই বিদ্যুৎ অফিসেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।  
বরিশালের সাধারণ মানুষের অভিযোগ- প্রথমত: বিদ্যুৎ বিভাগ মিটার বিক্রি করে দিয়ে সেই মিটারের আবার ভাড়া যুক্ত করেছে তাদের রশিদে। দ্বিতীয়ত: গড় পরতায় ২৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল তিনমাসে তিনরকম কি করে হয়?
তৃতীয়ত: ডিমান্ড চার্জ কি এবং কেন? 
চতুর্থত: একই সংযোগে নির্দিষ্ট ইউনিট ব্যবহারের সীমারেখা কেন হবে? কেন ১৪০ ইউনিট পার হলেই দ্বিগুণ বিল রিড হবে?
একজন ফ্লাট বাড়ির বাসিন্দা জানালেন তারঘরে মাত্র দুজন লোকের বসাবাস। একটি ফ্যান, ফ্রিজ এবং বৈদ্যুতিক চুলায় দিনে একবার রান্না হয়। গত জানুয়ারী মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৬৫৩ টাকা- এরপর মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল হয় ৮৭৭ টাকা। জুন মাসে একই বিল ১৪৪০ টাকা এবং গতমাসে অর্থাৎ জুলাই মাসে তা ১৭৬৪ টাকা বিল পরিশোধ করেন তিনি। এসময় তার প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, আগস্টে আবার কমে যাবে এই বিল।কিন্তু চলতি আগস্টেও তার বিদ্যুৎ বিল ১৮৪৬ টাকা দেখে তিনি হতবাক হয়ে পরেন এবং ছুটে আসেন পত্রিকা অফিসে। বিলগুলো দেখিয়ে বলেন, গত জানুয়ারিতে ৬০০ টাকার বিল কি করে আগস্টে ১৮০০ টাকার উপরে হয়, দয়া করে তদন্ত করে দেখুন।
বিষয়টি নিয়ে ওজিপাডিকো এক বরিশালের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, আমাকে আগে আপনার বর্তমান মিটার রিডিং দেখাতে হবে। আমরা সবসময় জিরো বা পাঁচ এডজাস্ট করে বিল করি। বিল বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই। এটা নেহাত অজ্ঞতাজনিত অভিযোগ। আপনি হয়তো আয়রণ বা ইলেকট্রনিক চুলা বা এসি ব্যবহার করছেন কিম্বা ঘরে লোকসংখ্যা এসময় বেশি হয়েছে, ফ্যান একটা বেশি চলেছে। যে কারণে আপনার বিল বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি। 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচার

প্রিপেইড মিটার চক্রান্তে প্রতিমাসে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল- ওজিপাডিকোর নয়ছয় বক্তব্যে ক্ষুব্ধ গ্রাহক।।

আপডেট সময় : 02:49:25 pm, Tuesday, 27 August 2024
বিশেষ প্রতিবেদক।।
   
   
বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ক্ষুদে ব্যবসায়ী এমনকি চা দোকানেও গত জানুয়ারী থেকে প্রতিমাসে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। প্রতিমাসেই বিদ্যুৎ ব্যাবহারের মিটার রিডিং বাড়তি। এভাবে বাড়তে বাড়তে ৬০০ টাকার বিল হয়েছে ১৫০০ টাকা, আবার ১৫০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল এখন ৩৬০০ টাকা হয়েছে বলে একাধিক অভিযোগ বরিশালে। এটাকে প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য চক্রান্ত বলছেন অনেকে। প্রিপেইড মিটার মানেই ফোন কোম্পানির মতো নিমিষেই টাকা নাই হবার ষড়যন্ত্র দাবী করে এই মিটার বসানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবী ২৭ আগস্ট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। 
বরিশালে বিদ্যুৎ বিলে কারসাজি নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি -ওজিপাডিকো- বরিশালের  ১ ও ২ এর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কারসাজির অভিযোগ করে আসছিলেন গ্রাহকেরা। যার বাসায় আগে বিদ্যুৎ বিল আসতো ৬০০ টাকা- তার বাসায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ বিল ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা আসতে শুরু করলে গ্রাহকদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গড় ইউনিট ব্যবহার ৩ মাসে একই হওয়ার পরও বিল তিনমাসে ২০০ বা ১৫০ টাকা বেশি করা হয়েছে এমন অনেক বিলের কাগজ দেখালেন গ্রাহকেরা। আর ওজিপাডিকো কর্মকর্তা তাদের থামিয়ে দিলেন মিটার রিডিং দেখানোর প্রশ্ন তুলে। সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে বরিশালের ওজিপাডিকো ১ কর্মকর্তার কক্ষে। 
পলাতক হাসিনা সরকারের সময়ে একবছরে অযৌক্তিক ভাবে  চারবার বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার সুযোগ নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে বিদ্যুৎ বিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও এগুলো সব মিটার রিডিং ধরেই করা এবং যৌক্তিক বলে দাবী করে  বিদ্যুৎ প্রশাসন ও ওজিপাডিকো কর্মকর্তারা গ্রাহকদের নয় ছয় বুঝিয়ে পার পেয়ে আসছেন বছরের পর বছর । এ নিয়ে বহুবার জেলা প্রশাসক বরাবরে লেখিত অভিযোগ জানানোর পরও আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের। তবে গত এপ্রিলে মিটার চার্জ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এখন তারা মিটার ভাড়া তুলে দিয়ে সেখানে ডিমান্ড চার্জ বসিয়ে বিলের রশিদ প্রদান করছেন। আর এ ডিমান্ড চার্জ তিনতলা একটি বাড়ির যদি সাতটি সাবমিটার থাকে তাহলে সাতটির সাথেই সংযুক্ত হচ্ছে। যদিও এটাকেও ন্যায্য বললেন ওজিপাডিকো কর্মকর্তা। তাদের বিল রশিদের যে বিষয়গুলোতে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণা নেই তা হচ্ছে লাইফ লাইন এবং তার নীচে প্রথম থেকে ষষ্ঠ পর্যন্ত ধাপগুলো। যার ৩টি ধাপই ব্যবহার হয় বাসাবাড়ির বিলের ক্ষেত্রে। সাথে আছে ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ। 
সম্প্রতি গত জুন থেকে এই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রীতিমতো প্রতারণার হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন ফ্লাটবাড়িসহ অফিস আদালতের বাসিন্দারাও। তাদের দাবী প্রিপেইড মিটার বসানোর একটা প্রক্রিয়া চলছে শুনতে পেয়েছি। ঢাকায় যারা এই প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছে- বিশেষ করে মীরপুরের অনেক গ্রাহকই এখন শান্তিতে নেই। ২ হাজার টাকা ভরে একসপ্তাহ চলতে পারেন না। টাকা না ভরলে অটোমেটিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এটা একটি অত্যাধুনিক প্রতারণা। তাই বরিশালে আমরা এটা চাইনা। 
২৭ আগস্ট বরিশাল ওজিপাডিকো এক এর সামনে এ নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে ওজিপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদসহ বরিশালের জেলা প্রশাসকের হাতেও। এসময় কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন- গত এপ্রিল থেকেই প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে। এটা এই প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য একটা চক্রান্ত কর্মকর্তাদের।
 এ নিয়ে প্রশ্ন করলে গত জুলাইয়ে ওজিপাডিকো দুই কর্মকর্তারা বলেছেন- জুন জুলাইয়ে একটু বাড়তি বিল করা হয় বিগত মাসের ঘাটতি কমাতে। 
কীসের ঘাটতি জানতে চাইলেও দেয়া হয় ছয়-নয় উত্তর। বলেন- জুন ও জুলাইয়ের আগে বিগত আগস্ট থেকে চলতি মে পর্যন্ত আমরা মিটার রিডিং কিছুটা কম লেখি। আমরা সবসময় জিরো ও পাঁচ এর মধ্যে রিডিং না করলে হিসাব মেলাতে সমস্যা হয়। তাই অনেক রিডিং দু-চার ইউনিট কমিয়ে বা বাড়িয়ে এ্যাডজাস্ট করতে হয়। জুন জুলাইতে এসেই এটা এ্যাডজাস্ট করা হয় বলে জানান তারা। 
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও পলায়নের পর সবকিছুর পরিবর্তন ঘটে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সততার পথে হাঁটলেও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। উল্টো এই সুযোগে বিদ্যুৎ বিল ছয়-নয় করে এদের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারী জনগণের সাথে রীতিমতো প্রতারণা শুরু করেছে বলে জানান ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করাও। তারা বলেন- পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে সরকারি সব দপ্তরসহ এই বিদ্যুৎ অফিসেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।  
বরিশালের সাধারণ মানুষের অভিযোগ- প্রথমত: বিদ্যুৎ বিভাগ মিটার বিক্রি করে দিয়ে সেই মিটারের আবার ভাড়া যুক্ত করেছে তাদের রশিদে। দ্বিতীয়ত: গড় পরতায় ২৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল তিনমাসে তিনরকম কি করে হয়?
তৃতীয়ত: ডিমান্ড চার্জ কি এবং কেন? 
চতুর্থত: একই সংযোগে নির্দিষ্ট ইউনিট ব্যবহারের সীমারেখা কেন হবে? কেন ১৪০ ইউনিট পার হলেই দ্বিগুণ বিল রিড হবে?
একজন ফ্লাট বাড়ির বাসিন্দা জানালেন তারঘরে মাত্র দুজন লোকের বসাবাস। একটি ফ্যান, ফ্রিজ এবং বৈদ্যুতিক চুলায় দিনে একবার রান্না হয়। গত জানুয়ারী মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৬৫৩ টাকা- এরপর মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল হয় ৮৭৭ টাকা। জুন মাসে একই বিল ১৪৪০ টাকা এবং গতমাসে অর্থাৎ জুলাই মাসে তা ১৭৬৪ টাকা বিল পরিশোধ করেন তিনি। এসময় তার প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, আগস্টে আবার কমে যাবে এই বিল।কিন্তু চলতি আগস্টেও তার বিদ্যুৎ বিল ১৮৪৬ টাকা দেখে তিনি হতবাক হয়ে পরেন এবং ছুটে আসেন পত্রিকা অফিসে। বিলগুলো দেখিয়ে বলেন, গত জানুয়ারিতে ৬০০ টাকার বিল কি করে আগস্টে ১৮০০ টাকার উপরে হয়, দয়া করে তদন্ত করে দেখুন।
বিষয়টি নিয়ে ওজিপাডিকো এক বরিশালের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, আমাকে আগে আপনার বর্তমান মিটার রিডিং দেখাতে হবে। আমরা সবসময় জিরো বা পাঁচ এডজাস্ট করে বিল করি। বিল বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই। এটা নেহাত অজ্ঞতাজনিত অভিযোগ। আপনি হয়তো আয়রণ বা ইলেকট্রনিক চুলা বা এসি ব্যবহার করছেন কিম্বা ঘরে লোকসংখ্যা এসময় বেশি হয়েছে, ফ্যান একটা বেশি চলেছে। যে কারণে আপনার বিল বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি।