Dhaka , Wednesday, 1 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিএনজি-অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নে’র রামুর উপ-লাইন পরিচালনা কমিটি অনুমোদন ভূমি ভবনের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন লক্ষ্মীপুরে খাল থেকে ১৩৬০ লিটার ডিজেল উদ্ধার কাঁচপুর সেতু এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জে এমআরআই কক্ষে নেওয়ার আগেই ক্যান্সার রোগীর মৃত্যু বন্দর উপজেলায় মাশরুম চাষে প্রদর্শনী, ১৫০ নারী উদ্যোক্তাকে সহায়তা সিএমপি’র কমিশনার হিসেবে যোগদান করলেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক জনাব হাসান মোঃ শওকত আলী শ্রীপুরে নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর ২ সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার আড়াইহাজার থানা থেকে পালানো আসামি পূণরায় গ্রেফতার আড়াইহাজরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু রামুতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিদর্শনে সহকারী পরিচালক ফরিদা ইয়াছমিন নোয়াখালীতে দুই হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওধুধ রাখায় জরিমানা চবিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়তে ছাত্রদলের ৮ দফা দাবি চবিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়তে ছাত্রদলের ৮ দফা দাবি রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি দিপুর আশ্বাস। হাম আক্তান্ত হলেই আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান নারায়ণগঞ্জে হাম ও রুবেলা টিকার ৭৫ হাজার ডোজ মজুত- মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু রূপগঞ্জে বিএনপি কার্য্যালয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা,ভাঙচুর, আহত ৫, স্থানীয় সাংসদের ছবি ভাংচুর ইবিতে গনভোটের রায় বাতিলের প্রতিবাদে ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন সাভার আশুলিয়ায় দুই পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ — বেতন-বঞ্চিত ৪ হাজার শ্রমিকের মানববন্ধন ১৪টি এতিমখানায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলো আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন ঝালকাঠিতে ফেসবুক লাইভে দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে পিতার বিষপান বিতর্কিত বক্তব্যে ক্ষোভ: হাতিয়াতে এমপি হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ঝালকাঠিতে জেলের জালে ধরা পড়ল দানবাকৃতির ‘খটক মাছ’, বিক্রি আড়াই লাখ টাকায় ঝালকাঠিতে দোকান পোড়ানোর মামলা করে বিপাকে বাদী, মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি  নোয়াখালীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন এলজিইডি প্রকৌশলীকে মারধর ও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে চবি ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ  হাটহাজারীতে চাকসু নেতার ওপর অতর্কিত হামলা, চমেকে চিকিৎসাধীন  লেংটার মেলায় মাজারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের মারামারি; মাজারের খাদেমকে কুপিয়ে জখম ফতুল্লায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সিপিবির মানববন্ধন

চট্টগ্রামের মদ- জুয়ার গডফাদার কে এই অনুপ বিশ্বাস

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:37:29 am, Friday, 23 August 2024
  • 231 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের মদ- জুয়ার গডফাদার কে এই অনুপ বিশ্বাস

ইসমাইল ইমন 
   
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।
   
   

চট্টগ্রামের মাদক সাম্রাজ্যের একক সম্রাট অনুপ বিশ্বাস ! তার হাতের ছোঁয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে ছেয়ে গেছে চোলাই মদের রমরমা ব্যবসা । মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে ও চট্টগ্রামের প্রভাবশালীদের অর্থের বিনিময়ে হাত করে চলে অনুপ বিশ্বাসের বেপরোয়া মদবাণিজ্য। সেই সাথে দল ভারী করতে সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার সাক্ষর দাশকে বানিয়েছেন নিজের পিএস! বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়রের সাথে তোলা ছবিকে ব্যবহার করেন ব্যাবসার ঢাল হিসাবে ।”কথায় আছে ছবি কথা বলে”

কে এই অনুপ বিশ্বাস?
এক সময়ের চাল চুলো হীন এই অনুপ বিশ্বাস রাউজান থেকে শহরে এসে টিউশনি করে চলত। পরে কোন এক ভাগ্য চক্রে বিয়ে করেন চট্টগ্রামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীর মেয়েকে। পেয়ে যান রাজ কন্যা আর রাজত্ব দুটোই। সেই থেকে বদলে যেতে থাকে তার জীবনের হালচাল। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সিনেমার কল্প কাহিনীর মত বদলে যেতে থাকে তার জীবন। গড়ে তোলেন মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। শহরের বুকে রয়েছে বিশাল বিশাল আলিশান বাড়ী । চলেন দামী দামী গাড়ীতে। চলাফেরা করেন বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে।
এই অনুপ বিশ্বাস —কখনও জাতীয় পার্টি, কখন বা আওয়ামী লীগ। কখনও সংস্কৃতিসেবী- কখনও ক্রীড়া সংগঠক। এ সবই তার লোক দেখানো । টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নিয়ে দশকের পর দশক তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামজুড়ে চলছে একচেটিয়া চোলাই মদের রমরমা ব্যবসা।
২০০৯ সাল থেকে অনুপ বিশ্বাস জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সঙ্গে ছিল তার ঘনিষ্ঠতা। জাতীয় পার্টির সুবিধা নিয়ে দীর্ঘ সময় তিনি পাথরঘাটা ২ নম্বর পুলিশ বিটের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সাল থেকে অনুপ বিশ্বাস জাতীয় পার্টির সখ্য ছেড়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
জানা গেছে, অনুপ বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে জাতীয় পার্টি করলেও তখন থেকেই ভেতরে ভেতরে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মোটা অংকের অনুদান দিতেন বলে জানা গেছে। এই সময় থেকে মেয়রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালান অনুপ বিশ্বাস । পরবর্তীতে সিটি মেয়রের পৃষ্ঠপোষকতায় এ সময় অনুপ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট -একাংশ- চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি।
সেই সাথে অবৈধ ব্যবসার ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন ক্রীড়া অঙ্গনকে।
অনুপ বিশ্বাস বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার -সিজেকেএস- কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো দলের ম্যানেজার হিসেবে অনুপ বিশ্বাস গেল বছর ৫ই এপ্রিল থেকে ১৩ই এপ্রিল তিউনিশিয়া সফর করেন।
সিজেকেএস-তায়কোয়ানডো লীগ এবং সিজেকেএস-সিডিএফ প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের স্পন্সরও অনুপ বিশ্বাস এন্ড ব্রাদার্স। গত বছর সিজেকেএস-তায়কোয়ানডো লীগের দুদিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের পাশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুপ বিশ্বাসকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
বৈধ লাইসেন্স নিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালান অনুপ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার ফিশারিঘাট এলাকার ১২৮ নম্বর ইকবাল রোডের চারতলা একটি ভবনে মদের মহালের লাইসেন্স পান। এর আগে এ মহালটি ছিল ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায়। ২০০৫ সাল থেকেই মূলত মদের মহালের আড়ালে শুরু হয় চোলাই মদের ব্যবসা। শুরুতে ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে এলাকার প্রভাবশালী একশ্রেণীর যুবক ও মধ্যবয়স্ক শ্রেণীদের এক থেকে তিন লিটার পর্যন্ত মদ বিনামূল্যে দেওয়া হতো। বিনামূল্যে পাওয়া মদের কিছুটা নিজেরা কিছু সেবন করতো, বাকি মদ অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দিতো। এভাবে একসময় এই ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে।
আর এই মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন তার আর এক সহযোগী সাগর দাশের নেতৃত্ব ক্যাডার বাহিনী। কেউ টু শব্দ করলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ক্যাডার বাহিনী। প্রতিবাদ করলেই হয়রানির স্বীকার হতে হয় এলাকার লোকজনকে।অবৈধ চোলাই মদের ব্যবসাকে নির্বিঘ্ন রাখতে অনুপ বিশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ রাখা ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন উদার হাতে টাকা ছিটিয়ে। অনুপ বিশ্বাস এর পিএস সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার সাক্ষর দাশই তার অন্যতম ক্যাডার সাগর দাশের দেখভাল করেন। এই সাক্ষর দাশ এক সময় কাউন্সিলর জালাল উদ্দিন ইকবালের অনুসারী ছিল। কিন্তু মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য তাকে তাদের গ্রুপ থেকে বের করে দেয় বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নীরবতায় অনুপ বিশ্বাস পুরো এলাকাকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন । রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক বানিজ্য। একদিকে ধংস করে হচ্ছে যুব সমাজ। অন্যদিকে নিজে গড়ে তুলেছে টাকার পাহাড়। জানা গেছে তার চোলাই মদ পান করে অনেকেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবুও নীরব প্রশাসন!

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনজি-অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নে’র রামুর উপ-লাইন পরিচালনা কমিটি অনুমোদন

চট্টগ্রামের মদ- জুয়ার গডফাদার কে এই অনুপ বিশ্বাস

আপডেট সময় : 08:37:29 am, Friday, 23 August 2024
ইসমাইল ইমন 
   
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।
   
   

চট্টগ্রামের মাদক সাম্রাজ্যের একক সম্রাট অনুপ বিশ্বাস ! তার হাতের ছোঁয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে ছেয়ে গেছে চোলাই মদের রমরমা ব্যবসা । মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে ও চট্টগ্রামের প্রভাবশালীদের অর্থের বিনিময়ে হাত করে চলে অনুপ বিশ্বাসের বেপরোয়া মদবাণিজ্য। সেই সাথে দল ভারী করতে সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার সাক্ষর দাশকে বানিয়েছেন নিজের পিএস! বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়রের সাথে তোলা ছবিকে ব্যবহার করেন ব্যাবসার ঢাল হিসাবে ।”কথায় আছে ছবি কথা বলে”

কে এই অনুপ বিশ্বাস?
এক সময়ের চাল চুলো হীন এই অনুপ বিশ্বাস রাউজান থেকে শহরে এসে টিউশনি করে চলত। পরে কোন এক ভাগ্য চক্রে বিয়ে করেন চট্টগ্রামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীর মেয়েকে। পেয়ে যান রাজ কন্যা আর রাজত্ব দুটোই। সেই থেকে বদলে যেতে থাকে তার জীবনের হালচাল। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সিনেমার কল্প কাহিনীর মত বদলে যেতে থাকে তার জীবন। গড়ে তোলেন মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। শহরের বুকে রয়েছে বিশাল বিশাল আলিশান বাড়ী । চলেন দামী দামী গাড়ীতে। চলাফেরা করেন বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে।
এই অনুপ বিশ্বাস —কখনও জাতীয় পার্টি, কখন বা আওয়ামী লীগ। কখনও সংস্কৃতিসেবী- কখনও ক্রীড়া সংগঠক। এ সবই তার লোক দেখানো । টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নিয়ে দশকের পর দশক তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামজুড়ে চলছে একচেটিয়া চোলাই মদের রমরমা ব্যবসা।
২০০৯ সাল থেকে অনুপ বিশ্বাস জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সঙ্গে ছিল তার ঘনিষ্ঠতা। জাতীয় পার্টির সুবিধা নিয়ে দীর্ঘ সময় তিনি পাথরঘাটা ২ নম্বর পুলিশ বিটের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সাল থেকে অনুপ বিশ্বাস জাতীয় পার্টির সখ্য ছেড়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
জানা গেছে, অনুপ বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে জাতীয় পার্টি করলেও তখন থেকেই ভেতরে ভেতরে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মোটা অংকের অনুদান দিতেন বলে জানা গেছে। এই সময় থেকে মেয়রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালান অনুপ বিশ্বাস । পরবর্তীতে সিটি মেয়রের পৃষ্ঠপোষকতায় এ সময় অনুপ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট -একাংশ- চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি।
সেই সাথে অবৈধ ব্যবসার ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন ক্রীড়া অঙ্গনকে।
অনুপ বিশ্বাস বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার -সিজেকেএস- কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো দলের ম্যানেজার হিসেবে অনুপ বিশ্বাস গেল বছর ৫ই এপ্রিল থেকে ১৩ই এপ্রিল তিউনিশিয়া সফর করেন।
সিজেকেএস-তায়কোয়ানডো লীগ এবং সিজেকেএস-সিডিএফ প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের স্পন্সরও অনুপ বিশ্বাস এন্ড ব্রাদার্স। গত বছর সিজেকেএস-তায়কোয়ানডো লীগের দুদিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের পাশে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুপ বিশ্বাসকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
বৈধ লাইসেন্স নিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালান অনুপ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার ফিশারিঘাট এলাকার ১২৮ নম্বর ইকবাল রোডের চারতলা একটি ভবনে মদের মহালের লাইসেন্স পান। এর আগে এ মহালটি ছিল ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায়। ২০০৫ সাল থেকেই মূলত মদের মহালের আড়ালে শুরু হয় চোলাই মদের ব্যবসা। শুরুতে ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে এলাকার প্রভাবশালী একশ্রেণীর যুবক ও মধ্যবয়স্ক শ্রেণীদের এক থেকে তিন লিটার পর্যন্ত মদ বিনামূল্যে দেওয়া হতো। বিনামূল্যে পাওয়া মদের কিছুটা নিজেরা কিছু সেবন করতো, বাকি মদ অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দিতো। এভাবে একসময় এই ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে।
আর এই মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন তার আর এক সহযোগী সাগর দাশের নেতৃত্ব ক্যাডার বাহিনী। কেউ টু শব্দ করলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ক্যাডার বাহিনী। প্রতিবাদ করলেই হয়রানির স্বীকার হতে হয় এলাকার লোকজনকে।অবৈধ চোলাই মদের ব্যবসাকে নির্বিঘ্ন রাখতে অনুপ বিশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ রাখা ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন উদার হাতে টাকা ছিটিয়ে। অনুপ বিশ্বাস এর পিএস সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার সাক্ষর দাশই তার অন্যতম ক্যাডার সাগর দাশের দেখভাল করেন। এই সাক্ষর দাশ এক সময় কাউন্সিলর জালাল উদ্দিন ইকবালের অনুসারী ছিল। কিন্তু মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য তাকে তাদের গ্রুপ থেকে বের করে দেয় বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নীরবতায় অনুপ বিশ্বাস পুরো এলাকাকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন । রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক বানিজ্য। একদিকে ধংস করে হচ্ছে যুব সমাজ। অন্যদিকে নিজে গড়ে তুলেছে টাকার পাহাড়। জানা গেছে তার চোলাই মদ পান করে অনেকেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবুও নীরব প্রশাসন!