Dhaka , Monday, 13 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২ যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ: ফিরিয়ে আনতে বিজিবির তোড়জোড় বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষ বরণে প্রস্তুত ছায়ানট; রমনা বটমূলে আজ উৎসবের আমেজ পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণে ধীরগতি,খাল নয় যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড় নারায়ণগঞ্জে নকল টিকা কার্ডে প্রতারণা: এক নারীর কারাদণ্ড লালমনিরহাটে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: সতর্কবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ, ঝুঁকিতে শিশুরা সাজা এড়াতে ৫ বছর আত্মগোপন: আদিতমারীতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নিখোঁজের ১১ দিনেও মিলেনি হিফজ ছাত্র তন্ময়ের খোঁজ, দিশেহারা পরিবার নলছিটিতে নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত: অবৈধভাবে মাটি কাটায় সাতকানিয়ায় ইটভাটা মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা  মধ্যপ্রাচর যুদ্ধের প্রভাবে রূপগঞ্জে টেক্সটাইল খাতে ধসের আশঙ্কা, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা পিএমকের উদ্যেগে রূপগঞ্জে বিনামূল্য স্বাস্থ্য ও চক্ষু সেবা, মেডিসিন, চসমা বিতরণ আড়াইহাজারে মামার বাড়ীতে ভাগনে খুন রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়, শান্তিপূর্ণ বৈশাখের আশ্বাস শিক্ষার্থীদের জাতির সেবক হয়ে গড়ে উঠতে হবে: এমপি আবুল কালাম আজাদ ১২৫ বছরে মুড়াপাড়া সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল: বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী উৎসবের ডাক নলছিটিতে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে কুপিয়ে হত্যা ফাঁকা বাড়িতে আমগাছে ঝুলছিল কিশোরীরর মরেদহ ফরিদপুরের সালথায় আগুনে পুড়লো শিক্ষকের স্বপ্ন, সহায়তার আশ্বাস প্রশাসনের। মানুষের সেবায় দিনরাত মাঠে আজিজুল হক আজিজ, হামের টিকা কার্যক্রমে নিজে তদারকি চট্টগ্রামে অভিযানে ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা আটক ২ ফতুল্লায় ভোরে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘দালাল সহিদ’ গ্রেফতারের দাবি ফতুল্লা সাংবাদিকদের ইরান যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ও উত্তরণের উপায় নারায়ণগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ফতুল্লায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিসি কার্যালয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় স্বাক্ষী দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তিকরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলার প্রাচীণ শীতলপাটি ঝালকাঠির একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য।। 

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:29:08 pm, Tuesday, 20 February 2024
  • 158 বার পড়া হয়েছে

বাংলার প্রাচীণ শীতলপাটি ঝালকাঠির একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য।।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

বাংলার প্রাচীণ ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। নলছিটি উপজেলার পাটিশিল্পিদের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। অনেক কারিগর পেয়েছেন সরকারি প্রশিক্ষন। তাই পূনরায় তারা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন মুখ ফিরিয়ে নেয়া পাটিশিল্পি তৈরির কারিগররা। 

 

বর্তমানে শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন উপকরণ তৈরি করে নিজেদের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন কারিগররা। উপজেলায় এই পেশার সাথে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত আছেন। এটা শুধু তাদের পেশা না তারা একটি ঐতিহ্যবাহী পন্যের ধারক ও বাহক হিসেবে যুক্ত আছেন। দেরিতে হলেও সরকারী প্রশিক্ষণ পেয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন পাটি শিল্পিরা। শীতলপাটি ঝালকাঠির ব্র্যান্ডিং পন্যের তালিকাভুক্ত একটি পণ্য সারাদেশের মানুষের কাছে পছন্দনীয় ঐতিহ্যবাহী। শীতলপাটির একসময় রমরমা অবস্থা থাকলেও উচ্চ শ্রমমূল্য, প্লাস্টিক পন্যের সহজলভ্যতার কারনে বিক্রি কমতে থাকায় বাধ্য হয়ে এই পেশার সাথে জরিত লোকজন অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

 

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর ও গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত পাটিকর পাড়ায় একটা সময় দুই হাজারেরও অধিক মানুষ এই পেশায় জরিত ছিল। তাদের হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী শীতলপাটি দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। তবে কালের পরিক্রমায় আধুনিক পন্যের ভিড়ে শীতলপাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে শতশত বছরের পুরনো পেশা অনেকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। 

 

আকার ভেদে একটি পাটি বুনতে একজনের ৫-৬ দিন লাগে। মজুরি পান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক একটি পাটি বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে এই উৎপাদিত পাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিন্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। 

 

প্রবীন পাটি কারিগর বিবেকানন্দ বলেন, আনুমানিক পাঁচশত বছর আগে বা তার বেশি সময় থেকে এই এলাকার লোকজন এই পেশার সাথে জরিত। বর্তমানে ২শত পরিবার ও তাদের সদস্যরা এই পেশার সাথে জরিত আছেন। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী পাটিকর রয়েছেন। আগে আরও বেশি ছিল তবে নানা রকম সমস্যার কারণে অনেক পরিবার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা শীতলপাটি তৈরি উপাদান পাইত্রা গাছ জমি থেকে কেটে সেটা প্রসেস করেন। তারপর মহিলা সদস্যরা তা দিয়ে শীতলপাটি  তৈরি (বুনন) করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। কারন শীতলপাটি তৈরির যে উপকরন পাইত্রা গাছ সেটা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বড় বড় ড্রামের দরকার হয় এবং কাটার জন্য ধারালো ও ভারী বটি তৈরি করতে হয়। এছাড়া আমাদের জমিতে পাইত্রা গাছ লাগানো থাকে সেখানে তো অন্য কোন কৃষি ফসল লাগাতে পারি না। সেটা পুষিয়ে নিতে বিনাসুদে আমরা ঋণ পেলে আমাদের উপকার হতো এবং পুরনো ঐতিহ্যবাহী পন্য শীতলপাটি সগর্বে টিকে থাকতো। 

 

পাটিকর মালতী রানি বলেন, বংশপরস্পরায় এই পেশার সাথে জরিত আছি। বিয়ের আগে বাবার বাড়িতে বসে আর এখন বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে বসে পাটি তৈরি করি। আমার শ্বাশুড়ির বয়স ষাট বছরের বেশি তারপরও তিনি এখনো শীতলপাটি বুনন করতে পারেন। বর্তমানে আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কারণ শীতলপাটির সেই আগের মতো আর চাহিদা নেই। আমাদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই আমরা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি টিস্যু বক্স, কলমদানি, লেডিস ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করি। এর মাধ্যমে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শীতলপাটি তৈরি নতুন কিছু ডিজাইন শেখানো হয়েছে যেগুলো তৈরি করতে পারলে আমাদের পাটির চাহিদা বাড়বে। তাই এখন আমরা আর্থিক সচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করছি। সবমিলিয়ে যদি আমাদের বিক্রি ভালো হয় তাহলে আবারও পূনর আমাদের সুদিন ফিরে আসবে। 

 

ব্যবসায়ী সন্দিপ চন্দ্র বলেন, এখানের পাটিশিল্পিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের শীতলপাটি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমি বিক্রি করি। যার মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় শপিং মলও রয়েছে। তারা সেগুলো দেশের বাহিরেও বিক্রি করে থাকেন। প্রতিমাসে এখানে গড়ে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার শীতলপাটি তৈরি হয়। এখন তারা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপকরন তৈরি করছেন সেগুলোর বেশ চাহিদা আছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সরকার আরও একটু সুনজর দিলে শীতলপাটি তার হারানো গৌরব সম্পুর্নরুপে ফিরে পাবে এবং পাটিশিল্পিরাও তাদের পেশাকে আরও ভালোভাবে আকড়ে ধরবেন। প্রচারের মাধ্যমে যদি বিদেশে বিক্রি বাড়ানো যায় তাহলে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে শীতলপাটির ভালো ভুমিকা থাকবে।

 

এসএমই ফাউন্ডেশন এর উপব্যবস্থাপক অসীম কুমার হালদার বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পণ্যের বহুমুখী করণের জন্য এখানকার পাটিকরদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা এই পণ্যগুলো বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। ব্রান্ডিং পন্য হিসেবে শীতল পাটির বিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে।

 

নলছিটি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা-ইউএনও-মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার সকল ঐতিহ্যবাহী পন্যের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় নলছিটি উপজেলার ৬০জন পাটিশিল্পিকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাটিশিল্পের মানোন্নয়নে করনীয় শীর্ষক প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। তাদের যে কোন প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।

 

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির শীতল পাটি একটি ‘ব্র্যান্ড পণ্য’। পাটি প্রসারে পাটিকরদের প্রশিক্ষণসহ নানা রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাটি শিল্প থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি করা গেলে এখানকার পাটিকরদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। সরকার পাটিকরদের উন্নয়নে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা সবার। ঝালকাঠির ‘ব্র্যান্ড পণ্য’ শীতল পাটিকে তুলে ধরতে সরকারিভাবেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২ যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ: ফিরিয়ে আনতে বিজিবির তোড়জোড়

বাংলার প্রাচীণ শীতলপাটি ঝালকাঠির একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য।। 

আপডেট সময় : 12:29:08 pm, Tuesday, 20 February 2024

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

বাংলার প্রাচীণ ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। নলছিটি উপজেলার পাটিশিল্পিদের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। অনেক কারিগর পেয়েছেন সরকারি প্রশিক্ষন। তাই পূনরায় তারা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন মুখ ফিরিয়ে নেয়া পাটিশিল্পি তৈরির কারিগররা। 

 

বর্তমানে শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন উপকরণ তৈরি করে নিজেদের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন কারিগররা। উপজেলায় এই পেশার সাথে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত আছেন। এটা শুধু তাদের পেশা না তারা একটি ঐতিহ্যবাহী পন্যের ধারক ও বাহক হিসেবে যুক্ত আছেন। দেরিতে হলেও সরকারী প্রশিক্ষণ পেয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন পাটি শিল্পিরা। শীতলপাটি ঝালকাঠির ব্র্যান্ডিং পন্যের তালিকাভুক্ত একটি পণ্য সারাদেশের মানুষের কাছে পছন্দনীয় ঐতিহ্যবাহী। শীতলপাটির একসময় রমরমা অবস্থা থাকলেও উচ্চ শ্রমমূল্য, প্লাস্টিক পন্যের সহজলভ্যতার কারনে বিক্রি কমতে থাকায় বাধ্য হয়ে এই পেশার সাথে জরিত লোকজন অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

 

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর ও গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত পাটিকর পাড়ায় একটা সময় দুই হাজারেরও অধিক মানুষ এই পেশায় জরিত ছিল। তাদের হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী শীতলপাটি দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। তবে কালের পরিক্রমায় আধুনিক পন্যের ভিড়ে শীতলপাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে শতশত বছরের পুরনো পেশা অনেকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। 

 

আকার ভেদে একটি পাটি বুনতে একজনের ৫-৬ দিন লাগে। মজুরি পান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক একটি পাটি বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে এই উৎপাদিত পাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিন্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। 

 

প্রবীন পাটি কারিগর বিবেকানন্দ বলেন, আনুমানিক পাঁচশত বছর আগে বা তার বেশি সময় থেকে এই এলাকার লোকজন এই পেশার সাথে জরিত। বর্তমানে ২শত পরিবার ও তাদের সদস্যরা এই পেশার সাথে জরিত আছেন। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী পাটিকর রয়েছেন। আগে আরও বেশি ছিল তবে নানা রকম সমস্যার কারণে অনেক পরিবার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা শীতলপাটি তৈরি উপাদান পাইত্রা গাছ জমি থেকে কেটে সেটা প্রসেস করেন। তারপর মহিলা সদস্যরা তা দিয়ে শীতলপাটি  তৈরি (বুনন) করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। কারন শীতলপাটি তৈরির যে উপকরন পাইত্রা গাছ সেটা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বড় বড় ড্রামের দরকার হয় এবং কাটার জন্য ধারালো ও ভারী বটি তৈরি করতে হয়। এছাড়া আমাদের জমিতে পাইত্রা গাছ লাগানো থাকে সেখানে তো অন্য কোন কৃষি ফসল লাগাতে পারি না। সেটা পুষিয়ে নিতে বিনাসুদে আমরা ঋণ পেলে আমাদের উপকার হতো এবং পুরনো ঐতিহ্যবাহী পন্য শীতলপাটি সগর্বে টিকে থাকতো। 

 

পাটিকর মালতী রানি বলেন, বংশপরস্পরায় এই পেশার সাথে জরিত আছি। বিয়ের আগে বাবার বাড়িতে বসে আর এখন বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে বসে পাটি তৈরি করি। আমার শ্বাশুড়ির বয়স ষাট বছরের বেশি তারপরও তিনি এখনো শীতলপাটি বুনন করতে পারেন। বর্তমানে আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কারণ শীতলপাটির সেই আগের মতো আর চাহিদা নেই। আমাদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই আমরা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি টিস্যু বক্স, কলমদানি, লেডিস ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করি। এর মাধ্যমে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শীতলপাটি তৈরি নতুন কিছু ডিজাইন শেখানো হয়েছে যেগুলো তৈরি করতে পারলে আমাদের পাটির চাহিদা বাড়বে। তাই এখন আমরা আর্থিক সচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করছি। সবমিলিয়ে যদি আমাদের বিক্রি ভালো হয় তাহলে আবারও পূনর আমাদের সুদিন ফিরে আসবে। 

 

ব্যবসায়ী সন্দিপ চন্দ্র বলেন, এখানের পাটিশিল্পিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের শীতলপাটি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমি বিক্রি করি। যার মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় শপিং মলও রয়েছে। তারা সেগুলো দেশের বাহিরেও বিক্রি করে থাকেন। প্রতিমাসে এখানে গড়ে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার শীতলপাটি তৈরি হয়। এখন তারা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপকরন তৈরি করছেন সেগুলোর বেশ চাহিদা আছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সরকার আরও একটু সুনজর দিলে শীতলপাটি তার হারানো গৌরব সম্পুর্নরুপে ফিরে পাবে এবং পাটিশিল্পিরাও তাদের পেশাকে আরও ভালোভাবে আকড়ে ধরবেন। প্রচারের মাধ্যমে যদি বিদেশে বিক্রি বাড়ানো যায় তাহলে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে শীতলপাটির ভালো ভুমিকা থাকবে।

 

এসএমই ফাউন্ডেশন এর উপব্যবস্থাপক অসীম কুমার হালদার বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পণ্যের বহুমুখী করণের জন্য এখানকার পাটিকরদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা এই পণ্যগুলো বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। ব্রান্ডিং পন্য হিসেবে শীতল পাটির বিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে।

 

নলছিটি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা-ইউএনও-মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার সকল ঐতিহ্যবাহী পন্যের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় নলছিটি উপজেলার ৬০জন পাটিশিল্পিকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাটিশিল্পের মানোন্নয়নে করনীয় শীর্ষক প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। তাদের যে কোন প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।

 

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির শীতল পাটি একটি ‘ব্র্যান্ড পণ্য’। পাটি প্রসারে পাটিকরদের প্রশিক্ষণসহ নানা রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাটি শিল্প থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি করা গেলে এখানকার পাটিকরদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। সরকার পাটিকরদের উন্নয়নে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা সবার। ঝালকাঠির ‘ব্র্যান্ড পণ্য’ শীতল পাটিকে তুলে ধরতে সরকারিভাবেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।