কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে সেদেশের সেনাবাহিনীর চলমান যুদ্ধে বিদ্রোহীরা দখল করে নিয়েছে সে দেশের তুমব্রু ক্যাম্পটি। শনিবার দিবাগত রাত হতে রবিবার ৪ ফেব্রুয়ারি থেমে থেমে গুলি ও বোমা বর্ষণ কারণে এপারের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মিয়ানমারের চলমান এই যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক। ফলে বিকট শব্দে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের সীমান্ত এলাকায় কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান থেমে থেমে আবার কখনো এক নাগাড়ে সীমান্তের ওপারে কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে গোলাগুলির বিকট শব্দ। বেশ কয়েকটি গুলিও মটারসেল এসে পড়েছে বাংলাদেশের ভূখন্ডে।
রবিবার রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প দখলে নিতে আরাকান আর্মি হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই। মুহুর্মুহু গোলাগুলি ও মর্টার শেলের যুদ্ধের একপর্যায়ে রাতের আঁধারে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ১৪ জন এবং বিকেল নাগাদ ৫৮ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসে বিজিবির তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয়।
তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ৯ জনকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায় নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে তিন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। আহত একজনের রাস জানা গেছে। তিনি হলেন প্রবীর চন্দ্র ধর-৫৯-। তারা তিনজনই হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া। গোলাগুলিতে কোনাপাড়ার কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় ৩ শতাধিক সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা তাদের অন্য এলাকার আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতা বাদি সংগঠন আরকান আর্মির সঙ্গে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের জের ধরে গত ১ সপ্তাহ বেশি সময় ধরে সীমান্তে উত্তেজনা চলছে।
এদিকে সবোচ্চ সতর্কআবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিজিবি এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তুমব্রু এলাকার শূন্য রেখার পার্শ্ববর্তী বাইশফাঁড়ি, চাকমাপাড়া, উত্তর পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

























