Dhaka , Wednesday, 15 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে পহেলা বৈশাখ: মঙ্গল শোভাযাত্রায় নবযাত্রার স্বপ্নে ঢাকাবাসী এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার অন্তরের অত্যন্ত কাছের, কারন আমার বাবা-মা দুজনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন: নববর্ষে চবিতে মীর হেলাল শ্রীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন বছর সাজানোর আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল কুড়িগ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হাতীবান্ধা ও নাগেশ্বরী সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে পৌনে ২ লাখ টাকার মালামাল জব্দ মধুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রূপগঞ্জে বাংলা নববর্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি আনন্দ উৎসবে বোয়ালী ইউনিয়নে পহেলা বৈশাখ উদযাপন সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকল্প নেই:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা? রূপগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে ডিএসসিসির বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ: পরিচ্ছন্ন ও তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার নারায়ণগঞ্জে অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান রূপগঞ্জের দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হাত পা বেধে স্বর্ণ ও টাকা লুট, জনমনে আতঙ্ক আমি ওয়াদা করেছিলাম রাঙ্গুনিয়ায় বালু ব্যবসা বন্ধ করে দেব:- হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি  কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২ যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ: ফিরিয়ে আনতে বিজিবির তোড়জোড় বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষ বরণে প্রস্তুত ছায়ানট; রমনা বটমূলে আজ উৎসবের আমেজ পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণে ধীরগতি,খাল নয় যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড় নারায়ণগঞ্জে নকল টিকা কার্ডে প্রতারণা: এক নারীর কারাদণ্ড লালমনিরহাটে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: সতর্কবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ, ঝুঁকিতে শিশুরা সাজা এড়াতে ৫ বছর আত্মগোপন: আদিতমারীতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নিখোঁজের ১১ দিনেও মিলেনি হিফজ ছাত্র তন্ময়ের খোঁজ, দিশেহারা পরিবার নলছিটিতে নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত: অবৈধভাবে মাটি কাটায় সাতকানিয়ায় ইটভাটা মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা  মধ্যপ্রাচর যুদ্ধের প্রভাবে রূপগঞ্জে টেক্সটাইল খাতে ধসের আশঙ্কা, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

ফুটবলের রাজা পেলের শেষকৃত্য হবে সান্তোসের মাঠে দু’দিনব্যাপী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:44:45 am, Saturday, 31 December 2022
  • 464 বার পড়া হয়েছে

ফুটবলের রাজা পেলের শেষকৃত্য হবে সান্তোসের মাঠে দু’দিনব্যাপী

দৈনিক আজকের বাংলা ডেস্ক।।

ফুটবল খেলায় পেলে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন, সেটা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। খেলাধুলার বাইরের জগতেও তার গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফুটবলের রাজা পেলের শেষকৃত্য হবে সান্তোসের মাঠে দু’দিনব্যাপী। প্রিয় শহরেই মাঠেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ফুটবলের রাজা পেলে। আর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে প্রিয় সান্তোস স্টেডিয়ামে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে।

ব্রাজিলের সান্তোস ক্লাবের হোম ভেন্যু ভিয়া বেলমিরো স্টেডিয়ামে সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন হবে পেলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। পেলের প্রতি সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন ব্রাজিলীয়রা।– বাসস।

কোলোন ক্যান্সরে আক্রান্ত পেলের চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। এজন্য কেমোথেরাপি দেয়াও বন্ধ করা হয়, কারণ তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান পেলে।

সমাহিত করার জন্য হাসপাতাল থেকে পেলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সাও পাওলোর ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে। সেখানে তার দেহ রাখা হবে ২৪ ঘণ্টা। এরপর সান্তোস ক্লাবের প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে পেলেকে। তখন ফুটবলের রাজাকে শ্রদ্ধা জানাবেন ভক্ত-সমর্থকরা।

 

হাসপাতাল থেকে কফিন সান্তোস পর্যন্ত সড়ক পথে পেলের মা সেলেস্তেরের বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বার্ধক্যের কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না পেলের মা। নিজ বাড়িতে সন্তানকে শেষবারের মত দেখবেন মা।

সাও পাওলোর যে ক্লাবের হয়ে ফুটবলার হিসেবে বেড়ে উঠা, যে ক্লাবের মাঠে অসংখ্য স্মৃতি সেই ক্লাব সান্তোসের মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে পেলের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।

সান্তোসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেলেকে ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সাও পাওলোর ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা আবার সান্তোসের হোম ভেন্যু।

বিবৃতিতে ক্লাবটি আরও জানায়, পেলের কফিন সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকে নিয়ে সোমবার সকালে ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে রাখা হবে। ঐদিন সকাল ১০টা থেকে ভক্তরা শেষবারের মত পেলেকে দেখতে পাবেন এবং ৩ জানুয়ারি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

 

পেলের জন্য থেমেছিল নাইজেরিয়ায় ‘গৃহযুদ্ধ’।।

 

ষাটের দশকে বিশ্বের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর একটি ছিল ব্রাজিলের সান্তোস এফসি ফুটবল ক্লাব। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ক্লাবটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করতো। এই খ্যাতির কারণে তারা বাড়তি কিছু সুবিধাও পেয়েছিল।

নাইজেরিয়ায় এরকম একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যায় সান্তোস। ক্লাবটির হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন পেলে। তাতেই ঘটে যায় অভূতপূর্ব এক ঘটনা।

নাইজেরিয়াতে তখন রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ চলছিল। দেশ থেকে বায়াফ্রা রাজ্যটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। সান্তোস এফসির ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন এমন একজন গবেষক গুইলহের্ম গুয়াশের মতে, এরকম একটি পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়াতে খেলোয়াড়দের পাঠানোর ব্যাপারে ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক দুশ্চিন্তা ছিল।

তবে শুধুমাত্র পেলেকে দেখার জন্য বিবদমান পক্ষগুলো তখন যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত হয়। ১৯৬৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বেনিন সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে সান্তোস ২-১ গোলে স্থানীয় একাদশকে পরাজিত করে।

১৯৭৭ সালে পেলের যে আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় সেখানে এই ঘটনার কোন উল্লেখ ছিল না। তবে পেলের আরেকটি আত্মজীবনী, যা প্রথমটির ৩০ বছর পর প্রকাশিত হয়, সেখানে কিন্তু তিনি ওই যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এই প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য গৃহযুদ্ধ থামানো হবে বলে” খেলোয়াড়দেরকে জানানো হয়েছিল।’

‘আমি জানি না এই ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি না। তবে নাইজেরিয়ানরা আমাদের নিশ্চিতভাবে জানিয়েছিলেন, যে আমরা যখন ওখানে খেলতে যাবো তখন বায়াফ্রানরা সেখানে আক্রমণ করবে না।’

 

গোলরক্ষক হিসেবেও সফল ছিলেন পেলে।।

ফুটবল খেলায় পেলে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন, সেটা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। খেলাধুলার বাইরের জগতেও তার গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল।

ক্যারিয়ারে তার অর্জন, গোলসংখ্যা নিয়ে অনেকে জানলেও মাঠে তার ভিন্ন এক ভূমিকা অনেকেরই রয়েছে অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, বাস্তব জীবনে পেলে ছিলেন ক্লাব ও দেশের বিকল্প গোলরক্ষক।

পুরো ক্যারিয়ারে কিংবদন্তি এই ফুটবলার সান্তোস এফসি ক্লাবের হয়ে চারবার গোলরক্ষকের গ্লাভস পরেছিলেন। ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলিয়ান কাপের সেমিফাইনালেও তাকে গোলপোস্টের সামনে অতন্ত্র প্রহরী হতে হয়েছিল।

গোলরক্ষক হিসেবে পেলেকে একশো নম্বরের মধ্যে একশোই দেয়া যেতে পারে। কারণ তার দল সবকটি খেলায় জিতেছিল এবং তিনি একটি গোলও হজম করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে পহেলা বৈশাখ: মঙ্গল শোভাযাত্রায় নবযাত্রার স্বপ্নে ঢাকাবাসী

ফুটবলের রাজা পেলের শেষকৃত্য হবে সান্তোসের মাঠে দু’দিনব্যাপী

আপডেট সময় : 02:44:45 am, Saturday, 31 December 2022

দৈনিক আজকের বাংলা ডেস্ক।।

ফুটবল খেলায় পেলে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন, সেটা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। খেলাধুলার বাইরের জগতেও তার গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফুটবলের রাজা পেলের শেষকৃত্য হবে সান্তোসের মাঠে দু’দিনব্যাপী। প্রিয় শহরেই মাঠেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ফুটবলের রাজা পেলে। আর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে প্রিয় সান্তোস স্টেডিয়ামে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে।

ব্রাজিলের সান্তোস ক্লাবের হোম ভেন্যু ভিয়া বেলমিরো স্টেডিয়ামে সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন হবে পেলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। পেলের প্রতি সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন ব্রাজিলীয়রা।– বাসস।

কোলোন ক্যান্সরে আক্রান্ত পেলের চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। এজন্য কেমোথেরাপি দেয়াও বন্ধ করা হয়, কারণ তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান পেলে।

সমাহিত করার জন্য হাসপাতাল থেকে পেলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সাও পাওলোর ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে। সেখানে তার দেহ রাখা হবে ২৪ ঘণ্টা। এরপর সান্তোস ক্লাবের প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে পেলেকে। তখন ফুটবলের রাজাকে শ্রদ্ধা জানাবেন ভক্ত-সমর্থকরা।

 

হাসপাতাল থেকে কফিন সান্তোস পর্যন্ত সড়ক পথে পেলের মা সেলেস্তেরের বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বার্ধক্যের কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না পেলের মা। নিজ বাড়িতে সন্তানকে শেষবারের মত দেখবেন মা।

সাও পাওলোর যে ক্লাবের হয়ে ফুটবলার হিসেবে বেড়ে উঠা, যে ক্লাবের মাঠে অসংখ্য স্মৃতি সেই ক্লাব সান্তোসের মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে পেলের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।

সান্তোসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেলেকে ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সাও পাওলোর ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা আবার সান্তোসের হোম ভেন্যু।

বিবৃতিতে ক্লাবটি আরও জানায়, পেলের কফিন সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকে নিয়ে সোমবার সকালে ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে রাখা হবে। ঐদিন সকাল ১০টা থেকে ভক্তরা শেষবারের মত পেলেকে দেখতে পাবেন এবং ৩ জানুয়ারি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

 

পেলের জন্য থেমেছিল নাইজেরিয়ায় ‘গৃহযুদ্ধ’।।

 

ষাটের দশকে বিশ্বের জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর একটি ছিল ব্রাজিলের সান্তোস এফসি ফুটবল ক্লাব। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ক্লাবটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করতো। এই খ্যাতির কারণে তারা বাড়তি কিছু সুবিধাও পেয়েছিল।

নাইজেরিয়ায় এরকম একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যায় সান্তোস। ক্লাবটির হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন পেলে। তাতেই ঘটে যায় অভূতপূর্ব এক ঘটনা।

নাইজেরিয়াতে তখন রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ চলছিল। দেশ থেকে বায়াফ্রা রাজ্যটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। সান্তোস এফসির ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন এমন একজন গবেষক গুইলহের্ম গুয়াশের মতে, এরকম একটি পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়াতে খেলোয়াড়দের পাঠানোর ব্যাপারে ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেক দুশ্চিন্তা ছিল।

তবে শুধুমাত্র পেলেকে দেখার জন্য বিবদমান পক্ষগুলো তখন যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত হয়। ১৯৬৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বেনিন সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে সান্তোস ২-১ গোলে স্থানীয় একাদশকে পরাজিত করে।

১৯৭৭ সালে পেলের যে আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় সেখানে এই ঘটনার কোন উল্লেখ ছিল না। তবে পেলের আরেকটি আত্মজীবনী, যা প্রথমটির ৩০ বছর পর প্রকাশিত হয়, সেখানে কিন্তু তিনি ওই যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এই প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য গৃহযুদ্ধ থামানো হবে বলে” খেলোয়াড়দেরকে জানানো হয়েছিল।’

‘আমি জানি না এই ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি না। তবে নাইজেরিয়ানরা আমাদের নিশ্চিতভাবে জানিয়েছিলেন, যে আমরা যখন ওখানে খেলতে যাবো তখন বায়াফ্রানরা সেখানে আক্রমণ করবে না।’

 

গোলরক্ষক হিসেবেও সফল ছিলেন পেলে।।

ফুটবল খেলায় পেলে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন, সেটা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। খেলাধুলার বাইরের জগতেও তার গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল।

ক্যারিয়ারে তার অর্জন, গোলসংখ্যা নিয়ে অনেকে জানলেও মাঠে তার ভিন্ন এক ভূমিকা অনেকেরই রয়েছে অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, বাস্তব জীবনে পেলে ছিলেন ক্লাব ও দেশের বিকল্প গোলরক্ষক।

পুরো ক্যারিয়ারে কিংবদন্তি এই ফুটবলার সান্তোস এফসি ক্লাবের হয়ে চারবার গোলরক্ষকের গ্লাভস পরেছিলেন। ১৯৬৪ সালে ব্রাজিলিয়ান কাপের সেমিফাইনালেও তাকে গোলপোস্টের সামনে অতন্ত্র প্রহরী হতে হয়েছিল।

গোলরক্ষক হিসেবে পেলেকে একশো নম্বরের মধ্যে একশোই দেয়া যেতে পারে। কারণ তার দল সবকটি খেলায় জিতেছিল এবং তিনি একটি গোলও হজম করেননি।