
রাবি প্রতিনিধি।।
অবিলম্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) রাকসু নির্বাচনসহ ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ। বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আমতলা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমান উল্লাহ খান। শেষে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর তার লিখিত বক্তব্যে ১৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আমান উল্লাহ খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রিসোর্স প্রোডাক্ট বের হবে। এখান থেকে কবি, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক ও গবেষকের পাশাপাশি ভালো রাজনীতিবিদ বের হবে। কিন্তু রাজনীতিবিদ তৈরির যে প্রক্রিয়া, সেই রাকসু বন্ধ থাকার কারণে সেটি হচ্ছে না। এই রাকসুর সাবেক নেতার আজ দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কারণ সেখানে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল। তারা হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ফুটে উঠেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন রাকসু বন্ধ থাকার কারনে সেটি হচ্ছে না।’
তাদের দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাকসু এবং রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিশ্চিত করে পূর্ণাঙ্গভাবে সিনেট কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় আবাসিক হল নির্মাণ করতে হবে। বৈধ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে। আবাসিক হলে দখলদারিত্ব নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রতিটি আবাসিক হলে খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সপ্তাহে ৭ দিন এবং সার্বক্ষণিক খোলা রাখতে হবে। যাতায়াতের জন্য রুট বৃদ্ধিসহ পরিবহন দপ্তরে পর্যাপ্তসংখ্যক বাস সংযুক্ত করতে হবে।
তারা আরও দাবি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিক করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি নির্মাণ করতে হবে। শিক্ষাসনদ ও নম্বরপত্র উত্তোলন এবং সংশোধনে বিড়ম্বনা নিরসনে সকল কার্যক্রম অনলাইনের আওতায় আনতে হবে। ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা নিরসণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রী হল সমূহের সান্ধ্য আইন বাতিল করতে হবে। বিভাগসমূহে চলমান বাণিজ্যিক সান্ধ্য কোর্স বাতিল করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষার উত্তরপত্রে রোল নম্বর এর পরিবর্তে মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো কোড সিস্টেম চালু করে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় চলমান পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে। শাহরিয়ারের মৃত্যুর ময়না তদন্তের মাধ্যমে সঠিক রহস্য উদঘাটন করতে হবে। রামেকের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও রাবি শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল ভাংচুরের অভিযোগ এবং রাবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এসময় তিনি মাসব্যাপী কর্মসূচিরও ষোষণা দেন। মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ করবেন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করবেন। মাসের শেষ সপ্তাহে বড় ধরনের সমাবেশ করবেন। যে সমাবেশে রাকসুর সাবেক নেতারা আমন্ত্রিত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাঈমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক মীর আলহাজ, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মিলন হোসেন, হবিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহারাজ, ছাত্রদল নেতা মিঠু, ইশা ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি শাহরিয়ারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।






























