Dhaka , Friday, 1 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের সফল অভিযান: সীমান্তে ১২ কেজি গাঁজা ও বিপুল সিরাপ জব্দ দিনাজপুরে র‍্যাবের বড় মাদক উদ্ধার: ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ, গ্রেপ্তার ১ নরসিংদী রাস্তায় পড়ে থাকা এসএসসি পরীক্ষার ২৬৮ টি উত্তর পএ উদ্ধার গাইয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ। পাইকগাছায় লাইসেন্সবিহীন করাতকল ও বেকারিকে জরিমানা শরীয়তপুরে জেলেদের বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, মানহীন বিতরণে ক্ষুব্ধ জেলেরা মাদকে জিরো টলারেন্স ঘোষিত আড়াইহাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা পুলিশ ভবিষ্যতে মন্দিরের জন্য বরাদ্দ প্রদানে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা হবে না,পুরোহিতদের সঙ্গে সাক্ষাতে ডেপুটি স্পিকার চট্টগ্রাম মা ও হাসপাতালে সন্তান সম্ভবা চিকিৎসকসহ কর্তব্যরত চিকিৎসকদের উপর রোগীর স্বজনদের হামলার ঘটনায় ড্যাব চট্টগ্রাম এর প্রতিবাদ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত মৎস্য খামারির মৃত্যু ৩৪৪ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক: সারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যানের ৫ বছরের জেল রামুতে বন্যহাতির আক্রমনে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু র‍্যাব ৭’র অভিযান এক লাখ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার:- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রবাসীদের জন্য প্রথম অনলাইন গণশুনানি, সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সদরপুরে হত্যা চেষ্টা মামলায় বিতর্ক, আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র রূপগঞ্জে মাদকসেবীদের হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যালয়ের চাল উড়ে গেল, পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ ২ জন কারাগারে ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পাইকগাছায় রাতে দোকান খোলা রাখায় জরিমানা পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত গাজীপুরে ৬৪ কেজি গাঁজা ও ১২ বোতল বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা: গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ গণসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে শব্দদূষণ প্রতিরোধ সম্ভব : বিভাগীয় কমিশনার নরসিংদী বৃষ্টির মধ্যে হাঁটু পানির নিচে সড়ক ঢালাই, এলাকাবাসীর ক্ষোভ শিট না আনায় ক্লাস থেকে বের করে দেয় শিক্ষক, প্যানিক অ্যাটাকে মেডিকেলে এক শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে রামু থেকে ৩২ লাখ টাকা চুরি ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

জগন্নাথপুরে ১৫৫ কোটি টাকার স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু চালু হতে পারে জুনে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:36:56 pm, Wednesday, 27 April 2022
  • 227 বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুরে ১৫৫ কোটি টাকার স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু চালু হতে পারে জুনে

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর উপর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুনে নব-নির্মিত সেতুটি চালু হতে পারে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে কৌতুহলের শেষ নেই। সর্বত্র বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস।
স্থানীয় একাধিক প্রবীণ মুরব্বিরা জানান, কুশিয়ারা নদীটি কারো জন্য আশির্বাদ। আবার কারো জন্য অভিশাপ। নদীটি পানি ও মাছের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অনেককে করেছে স্বাবলম্বী। আবার নদী গর্ভে চলে গেছে অনেক বসত বাড়ি, স্কুল ও রাস্তাঘাট। কেউ হয়েছেন ধনী। আবার কেউ হারিয়েছেন সর্বস্ব। এ নদীটির কারণে যুগযুগ ধরে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। এতে নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যদিও ফেরি ও খেয়া নৌকাযোগে চলাচল করছেন মানুষ। তাই জনভোগান্তি লাঘবে বিগত ১৯৯৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করলেও কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতুটি করতে পারেননি। এর মধ্যে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের কারণে থমকে যায় এসব উন্নয়ন কাজ। সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে কম সময়ে সহজে ঢাকা চলাচলের স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বরেন্য এ রাজনীতিবিদ।
অবশেষে প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের অসমাপ্ত কাজ দ্রæত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মানুষের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আবার উজ্জীবিত করেন সজ্জন এ রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সালে আবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রাণপন প্রচেষ্টায় বিগত ২০১৬ সালের আগষ্টে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেই স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে শুধু সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৯১ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ কাজ পায় দেশের নামকরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। বাকি ব্যয় ধরা হয়, এপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, কালভার্ট ও স্থানীয় ইটাখলা নদীর উপর আরেকটি ছোট সেতু নির্মাণে। এরপর দ্রæত চলে সেতু নির্মাণ কাজ। দ্রæত ও মানসম্মত কাজ নিয়ে সর্বদা খোঁজ-খবর রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তদারকি বাড়তে থাকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। শুধু টাকার জন্য নয়, সুনামের জন্য কম সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নতমানের কাজ উপহার দিতে দিনরাত কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আশার আলো জেগেছে। চলতি ২০২২ সালে এসে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ। এর মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পুণনির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন রাণীগঞ্জ সেতুর নিচে থাকা ফেরির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে ঢাকায় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। তবে সেতুটি চালু হলে ইকোনোমিক জোন হতে পারে রাণীগঞ্জ এলাকা। বাংলাদেশের সাথে সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই সহ অত্র অঞ্চলের নতুন যোগাযোগের মাইলফলক উন্মোচিত হবে। রাজধানী ঢাকার সাথে বাড়বে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক। উন্নয়নের মাপকাঠিতে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে পিছিয়ে থাকা অত্র অঞ্চল। তাই জীবদ্দশায় আছলম আলী সহ অনেক প্রবীণ মুরব্বি রাণীগঞ্জ সেতু দিয়ে চলাচলের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের সেই স্বপ্ন পুরণের সময় এসে গেছে। চলতি ২০২২ সালের আগামী জুনে সেতুটি চলাচলের উদ্বোধন হতে পারে। ২৭ এপ্রিল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীগঞ্জ সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্যের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ ৯৬ ভাগ শেষ হয়েছে। সেতুর মধ্যস্থানে আরো ৪ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, সেতুর ডিজাইনগত জটিলতা ও করোনার কারণে কাজ অনেকটা পিছিয়েছে। তা না হলে আরো আগেই শেষ হয়ে যেতো। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, পাথর সহ কচামালের দাম বৃদ্ধি পেলেও আমাদের কাজ থামেনি। আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজ চালিয়ে গেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের সেতু যমুনা। আর আমাদের স্বপ্নের সেতু রাণীগঞ্জ। এটি হচ্ছে সিলেট বিভাগের সব চেয়ে বড় সেতু। এ সেতুটি চালু হলে বৃহত্তর সুনামগঞ্জবাসী উপকৃত হবেন। এ সেতুটি নির্মাণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। এখন আমাদের একটাই দাবি আগামী জুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন করেন। রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, এটি আমাদের স্বপ্নের সেতু। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় ঢাকার সাথে দুরত্ব অনেক কমে এসেছে এবং দেশের সাথে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হয়েছে। তাই সেতুটি নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সকলকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা

জগন্নাথপুরে ১৫৫ কোটি টাকার স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু চালু হতে পারে জুনে

আপডেট সময় : 10:36:56 pm, Wednesday, 27 April 2022

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর উপর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুনে নব-নির্মিত সেতুটি চালু হতে পারে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে কৌতুহলের শেষ নেই। সর্বত্র বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস।
স্থানীয় একাধিক প্রবীণ মুরব্বিরা জানান, কুশিয়ারা নদীটি কারো জন্য আশির্বাদ। আবার কারো জন্য অভিশাপ। নদীটি পানি ও মাছের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অনেককে করেছে স্বাবলম্বী। আবার নদী গর্ভে চলে গেছে অনেক বসত বাড়ি, স্কুল ও রাস্তাঘাট। কেউ হয়েছেন ধনী। আবার কেউ হারিয়েছেন সর্বস্ব। এ নদীটির কারণে যুগযুগ ধরে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। এতে নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যদিও ফেরি ও খেয়া নৌকাযোগে চলাচল করছেন মানুষ। তাই জনভোগান্তি লাঘবে বিগত ১৯৯৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করলেও কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতুটি করতে পারেননি। এর মধ্যে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের কারণে থমকে যায় এসব উন্নয়ন কাজ। সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে কম সময়ে সহজে ঢাকা চলাচলের স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বরেন্য এ রাজনীতিবিদ।
অবশেষে প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের অসমাপ্ত কাজ দ্রæত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মানুষের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আবার উজ্জীবিত করেন সজ্জন এ রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সালে আবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রাণপন প্রচেষ্টায় বিগত ২০১৬ সালের আগষ্টে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেই স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে শুধু সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৯১ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ কাজ পায় দেশের নামকরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। বাকি ব্যয় ধরা হয়, এপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, কালভার্ট ও স্থানীয় ইটাখলা নদীর উপর আরেকটি ছোট সেতু নির্মাণে। এরপর দ্রæত চলে সেতু নির্মাণ কাজ। দ্রæত ও মানসম্মত কাজ নিয়ে সর্বদা খোঁজ-খবর রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তদারকি বাড়তে থাকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। শুধু টাকার জন্য নয়, সুনামের জন্য কম সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নতমানের কাজ উপহার দিতে দিনরাত কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আশার আলো জেগেছে। চলতি ২০২২ সালে এসে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ। এর মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পুণনির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন রাণীগঞ্জ সেতুর নিচে থাকা ফেরির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে ঢাকায় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। তবে সেতুটি চালু হলে ইকোনোমিক জোন হতে পারে রাণীগঞ্জ এলাকা। বাংলাদেশের সাথে সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই সহ অত্র অঞ্চলের নতুন যোগাযোগের মাইলফলক উন্মোচিত হবে। রাজধানী ঢাকার সাথে বাড়বে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক। উন্নয়নের মাপকাঠিতে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে পিছিয়ে থাকা অত্র অঞ্চল। তাই জীবদ্দশায় আছলম আলী সহ অনেক প্রবীণ মুরব্বি রাণীগঞ্জ সেতু দিয়ে চলাচলের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের সেই স্বপ্ন পুরণের সময় এসে গেছে। চলতি ২০২২ সালের আগামী জুনে সেতুটি চলাচলের উদ্বোধন হতে পারে। ২৭ এপ্রিল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীগঞ্জ সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্যের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ ৯৬ ভাগ শেষ হয়েছে। সেতুর মধ্যস্থানে আরো ৪ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, সেতুর ডিজাইনগত জটিলতা ও করোনার কারণে কাজ অনেকটা পিছিয়েছে। তা না হলে আরো আগেই শেষ হয়ে যেতো। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, পাথর সহ কচামালের দাম বৃদ্ধি পেলেও আমাদের কাজ থামেনি। আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজ চালিয়ে গেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের সেতু যমুনা। আর আমাদের স্বপ্নের সেতু রাণীগঞ্জ। এটি হচ্ছে সিলেট বিভাগের সব চেয়ে বড় সেতু। এ সেতুটি চালু হলে বৃহত্তর সুনামগঞ্জবাসী উপকৃত হবেন। এ সেতুটি নির্মাণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। এখন আমাদের একটাই দাবি আগামী জুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন করেন। রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, এটি আমাদের স্বপ্নের সেতু। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় ঢাকার সাথে দুরত্ব অনেক কমে এসেছে এবং দেশের সাথে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হয়েছে। তাই সেতুটি নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সকলকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।