
নিজস্ব প্রতিনিধি:
দিনের ব্যস্ত সময়ে মা-বাবা কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে ঘরের ছোট শিশুরা অনেকসময় পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান পায় না। অসতর্কতার সুযোগে পানি, পুকুর বা ডোবায় পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটে প্রায়ই। হবিগঞ্জ জেলায় এমন দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা অতীতে ছিল উদ্বেগজনক। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশু যত্নকেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্প” এর আওতায় হবিগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় চালু হওয়া শিশু যত্নকেন্দ্রগুলো শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জেলায় মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি এনজিও “নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন”।
এনজিও সূত্রে জানা যায়, জেলার বাহুবল, মাধবপুর ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৫০০ শিশুযত্নকেন্দ্রে প্রতিদিন ১ থেকে ৫ বছর বয়সী সাড়ে ১২ হাজার শিশুকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিরাপদে রাখার পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে প্রারম্ভিক শিক্ষা ও বিকাশমূলক পাঠদান।
এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ২৪ হাজার ৯৫০ শিশুকে ইতোমধ্যে জীবন রক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রয়েছে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিজ ও রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই), এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সিনারগোস বাংলাদেশ, সিআইপিআরবি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্ল্যাক আইইডি।
বাহুবল উপজেলার একটি যত্নকেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়—শিশুদের জন্য রয়েছে দুইজন কেয়ারগিভার, যারা শারীরিক, ভাষাগত, সামাজিক, আবেগিক ও জ্ঞানবিকাশমূলক শিক্ষায় শিশুদের নিয়োজিত রাখেন। এখানে শিশুদের পাঠদান করা হয় গান, কবিতা, ছড়া, চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা এবং দলগত কার্যক্রমের মাধ্যমে, যাতে শিশুরা আনন্দের মধ্যেই শেখে।
শিশুর অভিভাবক রতন দাস বলেন,
> “আমরা কাজ করতে পারি নিশ্চিন্তে। জানি বাচ্চা ভালো ও নিরাপদে আছে। সময় মতো এসে নিয়ে যাই। কেন্দ্রটি যেন এভাবেই চলমান থাকে এটাই চাই।”
নন্দনপুর গ্রামের শিশুযত্ন কেন্দ্রটির যত্নকারী ঝুমা আক্তার জানান,
> “প্রতিদিন প্রায় সব শিশু নিয়মিত আসে। খেলাধুলা ও গল্পের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়ায় শিশুরা আনন্দের সাথে শিখছে।”
প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম বলেন,
“এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেড়ে ওঠা শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অন্যদের তুলনায় ভালো করছে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবার ও কমিউনিটির মধ্যেও শিশুর সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি আরও জানান, যে এলাকাগুলোতে প্রকল্পটি কার্যকর হয়েছে, সেখানে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

























