মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকত বলেছেন, “দীর্ঘ পনেরো বছর রাজাপুরের জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তবে আগামীর নির্বাচনে রাজাপুরবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে—আর সেই ভোট আমরা চাই ধানের শীষের পক্ষে।”
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে তার নেতৃত্বে রাজাপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বাইপাস মোড়ে গিয়ে শেষ হলে সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আপনারা যদি ধানের শীষে ভোট প্রদান করেন, তাহলে বিএনপি সরকার গঠন হলে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজাপুর-কাঁঠালিয়া পরিচালিত হবে।”
গোলাম আজম সৈকত আরও বলেন, বিশেষ করে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। দেশের ইমাম, মুয়াজ্জেম ও খতিবদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে কৃষি কার্ড, আর প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করা হবে স্বাস্থ্য কার্ড।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে। জনগণকে প্রশাসনের দরজায় যেতে হবে না—বরং প্রশাসনই জনগণের কাছে সেবা নিয়ে যাবে।”
তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, “আমি আপনাদের সামনে একজন নির্যাতিত ছাত্রনেতা হিসেবে এসেছি—সংগঠনকে পুনরায় সংগঠিত করার লক্ষ্যে। দীর্ঘ পনেরো বছর আমরা ধানের শীষে ভোট দিতে পারিনি। এখন আগামীর নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসনের প্রতীক হিসেবে আমরা ধানের শীষ চাই এবং ধানের শীষেই ভোট চাই।”
রাজাপুরের কিছু নেতার অনিয়মের সমালোচনা করে সৈকত বলেন, “রাজাপুরের কিছু নেতা ৫ আগস্ট ভুলে গেছে। তারা দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। অনেকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, ফলে দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই—রাজাপুর-কাঠালিয়ায় কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসীর স্থান হবে না।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম নয়ন ও রুবেল তালুকদার, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক চাষী নান্না খলিফা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুম মোল্লা, সদস্য আবুয়াল সায়েম চান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকারিয়া সুমন, কৃষকদলের সভাপতি ফারুক মোল্লা, মঠবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা অপু খান, মালয়েশিয়া বিএনপি শাখার সহসভাপতি গোলাম কবির, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত সিকদার, রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কিরনসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, মহিলাদল এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

























