
মোঃ মিজানুর রহমান, সাতকানিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজ বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলেও পুলিশের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার প্রকৃত রহস্য।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে সাতকানিয়া থানাধীন ১২নং ধর্মপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বনিক পাড়া এলাকায় জনৈক রাজীব দাসের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে।
ঘটনাস্থলে বসতঘরের বাসিন্দা অঞ্জু দাস (৬০) পুলিশকে জানান, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজার সিটকানি বাইরে থেকে আটকে দিয়ে ছাদ ও চারপাশে খড় ছিটিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি কেরোসিনের গন্ধ পেয়ে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন। তিনি প্রতিবেশী ভোলা পালিত গংদের সঙ্গে জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসংলগ্নতা ও সন্দেহজনক বিষয় পরিলক্ষিত হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, ঘটনার সময় অঞ্জু দাসের ছোট ছেলে রাজীব দাস (৩৫) ঘটনাস্থল এলাকায় উপস্থিত ছিল, যদিও তিনি নিয়মিত চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন।
পরবর্তীতে রাজীব দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিবেশীদের ফাঁসানো ও হয়রানির উদ্দেশ্যে তিনিই পরিকল্পিতভাবে নিজ বসতঘরে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন। তিনি পুলিশকে জানান, গত ২৮ জানুয়ারি সকালে তার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশীদের ঝগড়ার খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে গোপনে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা ঘটিয়ে পুনরায় শহরে ফিরে যান।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাজীব দাস ঘটনার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে কিংবা নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

























