
মো. মোসাদ্দেক হোসেন, ইবি প্রতিনিধি:
জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক হয়ে পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার ঘুরে পুনরায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘দিন দুপুরে মানুষ মরে, প্রশাসন কী করে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ এবং ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ইবি ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, “আমরা দেখেছি হাদি সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতার স্বাদ আপামর জনতা ও ৫৬ হাজার বর্গমাইলে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল। তার আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লড়াই আধিপত্যবাদরা চিনেছিল তাই তাকে চিরতরে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। তারা হয়তো জানে না, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, ইতিহাসে এমন হাজারো হাদি আসে, শহীদ হয় কিন্তু হাদির উত্তরসূরিরা তার চেতনাকে যুগ যুগ ধরে রাখে। এই সোনার বাংলাদেশে কোন আধিপত্যবাদ বিরোধীকে মেনে নেব না, কোন বিদেশী শক্তির তাবেদার হতে দেব না, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ও গণমাধ্যম ফ্যাসিস্টদের একবিন্দু ও সহ্য করবো না। হাদি হত্যার এক মাস অতিবাহিত হয়েছে, পরিশেষে হাদি হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডল বলেন, “হাদি হত্যার বিচার যে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে, সেখানে শুধুমাত্র শুটার ফয়সালসহ আওয়ামী লীগের সামান্য এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে কত বড় চক্র জড়িত, তা আমাদের থেকে আড়াল করা হচ্ছে। কোন শক্তির কারণে তা আড়াল করা হচ্ছে, আমরা সেটা জানতে চাই। শহীদ হাদি হত্যার এতদিন পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর কোনো সুরাহা করতে পারেনি।
আমাদের ভাই সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ৬ মাস পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। ভিসি নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে বলে দিতে চাই—সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার এই প্রশাসন থাকা অবস্থাতেই করতে হবে না হলে নতুন ভিসি আসলে তিনি এই হত্যার বিচারের ভার নেবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের তিনজনকে বলতে চাই আপনারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা অন্য যেখানে গেলে সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার নিশ্চিত করা যাবে আপনারা সেখানেই যান।”
পরিশেষে তিনি সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার বিচার প্রত্যাশী সকল শিক্ষার্থীদের আগামী রবিবার বেলা ১১টায় “প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে” অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

























