
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্লার কান্দি গ্রামে গাঁজা গাছের চাষাবাদ করছেন হারুন মাদবরের ছেলে সুরুজ মাদবর। সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে সুরুজ মাদবরেে বাড়ি থেকে ১০০ গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১-জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৈলান মোল্লার কান্দি গ্রামে পদ্মানদীর পাড়ে অবস্থিত টিন দিয়ে ঘেড়াও দেয়া সুরুজ মাদবরের বাড়িতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০টির মত গাঁজা গাছ রয়েছে।
বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করার জন্য প্রথমে কোন রাস্তা না পেলেও পরে বসত ঘরের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করার একটি সরু রাস্তা পাওয়া যায় । বাড়ির ভেতরে প্রবেশের পর দেখা যায় সাড়ি সাড়ি গাঁজা গাছ। বাড়ির আঙ্গিনায় গাঁজা চাষাবাদের পাশাপাশি ভেতরে পর্দা দিয়ে আটকানো আরও একটি গোপন জায়গায় বেশ কিছু গাছ পাওয়া যায়।
বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই বাড়ির মালিক সুরুজ মাদবর বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র চলে যায়। অনেক খোঁজাখুজি করেও বাড়ির মালিক এবং গাঁজা গাছের চাষি সুরুজ মাদবরকে আর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, সুরুজ মাদবর(৪০) এবং তার স্ত্রী সুমি বেগম(৩৫) মিলে দীর্ঘদিন যাবত এখানে গাজার চাষ এবং গাজার বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন গাজার আসর মিলিয়ে যাচ্ছিলো।
স্থানীয় সাবেক মেম্বারের স্ত্রী পারুল বেগম(৫২) জানান, সুরুজ মাদবর তার বাড়িতে শুধু গাঁজা গাছের চাষই নয়। আরও অনেক ধরনের অপকর্মের সাথে লিপ্ত রয়েছে এই পরিবার। আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা। এমনকি তারা বাড়ির আশেপাশে কাউকে আসতে দেয়না।
পরে সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে এনএসআই এসে গাজা চাষের বিষয়টি নিশ্চিত করে পদ্মাসেতু দক্ষিন থানাকে অবহিত করলে তারা এসে বাড়ি থেকে গাছগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মজিবুর রহমান মাদবর বলেন, এই ঘটনায় আমরা অনেকটাই হতবাক হয়ে গেছি। এখানে এইভাবে গাজা গাছের চাষ হচ্ছে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।
পদ্মাসেতু দক্ষিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা খবর পেয়ে এসে গাজা গাছগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। তবে গাজা গাছের চাষীরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মামলা করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

























