
চঞ্চল,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রক্রিয়ায় মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ত্রুটি ও নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ৬ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সবথেকে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে। এই আসনে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক তালিকায় ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ, আবু সামা মো. রেদওয়ানুল হক এবং মো. রেজাউল করিম সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ছাত্র মিশনের সহ-সভাপতি মো. শুভ আহমেদ এবং প্রস্তাবক ও সমর্থনকারী একই ব্যক্তি হওয়া ও আয়কর রিটার্ন না দেওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মো. আবুল কাশেমের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আরপিও অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় অসংগতি পাওয়ায় তার এই আবেদনটি বাতিল করে প্রশাসন।
অন্যদিকে, লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে যাচাই-বাছাই শেষে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। এই আসনে লড়াইয়ে থাকা ৭ জন প্রার্থীর সবাইকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সদর আসনের বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ অন্যান্যরা।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হওয়ার পর অনুভূতি জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বাছাইতে আমাদের মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। আশাকরি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, লালমনিরহাটের আপামর ভোটারের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগে এবং সমস্ত মানুষের দোয়ায় ইনশাআল্লাহ।”
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থী শিহাব আহমেদ বলেন, “আমার সব পেপার্স ঠিক ছিল কিন্তু ১ পারসেন্ট ভোটারের যে স্বাক্ষর দিতে হয় আমি ৪ হাজার ৩৩৬ জনের স্বাক্ষরসহ কাগজ জমা দিয়েছিলাম। সেখানে দশজনকে ফোন করে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জন হ্যাঁ সূচক মন্তব্য করেন ও ৩ জন না সূচক। এখানে আমরা কিন্তু কোনো প্রকার অনিয়ম করিনি। আমরা সবার কাছে গিয়ে সাইন করিয়ে নিয়ে এসেছি। মানুষজন আসলে একটু ভয় পাচ্ছে কারণ হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম এই জায়গায় যে রাজনৈতিক হালচাল আছে এটা খুবই খারাপ। ইনশাআল্লাহ আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপিল করব।”
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে প্রতিটি মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়েছে। যারা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন বা যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন।

























