
চঞ্চল,
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালিত হলেও অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রটোকল ও শিষ্টাচার অনুসরণে চরম ব্যত্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় এই দিবসের যাবতীয় কর্মসূচি যথাযথ প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনার আইনি দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত থাকলেও এবারের আয়োজনে মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু-এর পদমর্যাদা অনুযায়ী পৃথক পুষ্পস্তবকের ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের দাবি, রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন দায়িত্বরত মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রটোকল ও সম্মান নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের মৌলিক প্রশাসনিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আইন ও প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীবর্গের অবস্থান, অগ্রাধিকার ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও লালমনিরহাটের এই অনুষ্ঠানে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রটোকল অনুসরণে এমন বিচ্যুতিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনিক চরম ত্রুটি, অবহেলা ও দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য হিসেবে দেখছেন, যার দায়ভার ও জবাবদিহিতা সরাসরি জেলা প্রশাসনের ওপর বর্তায়।
প্রশাসনিক প্রচলিত নীতি অনুযায়ী জেলা প্রশাসক জেলার সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী হিসেবে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকেন এবং অধীনস্থ কোনো কর্মকর্তা বা কমিটির গাফিলতি হলেও চূড়ান্ত দায়ভার নেতৃত্বের ওপরই পড়ে।
এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
জেলার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একজন জেলা প্রশাসকের এমন অপেশাদার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শৃঙ্খলার পরিপন্থী। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে এড়াতে প্রশাসনের ভেতর সমন্বয় জোরদার এবং কঠোর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
























