
মাকসুদুল হোসেন তুষার,
দিনে স্বাভাবিক, রাতে নীরব দূষণ, এভাবেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের খাদুন এলাকায় রনি নিট এন্ড কম্পোজিট নামে একটি ডায়িং কারখানার চলছে ‘বিষ ঢালার’ কার্যক্রম। আর সে বিষেই মরছে খামারের মাছ, ফসলি জমি বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয়দের
অভিযোগ, রনি নিট ডায়িং নামের কারখানাটি গভীর রাতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ছেড়ে দেয় এবি সোয়েটার নামে একটি রপ্তানিমূখী পোশাক কারখানার মাছের খামারে। আর ভোর হলেই সেই পানির প্রভাব দেখা যায় পুকুরে ভেসে ওঠে মরা মাছ, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র পচা গন্ধ। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও এবি সোয়েটার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ আলী ভুইয়া বাদী হয়ে তারাব পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বরাবর অভিযোগ দিলেও বন্ধ হয়নি পানি ফেলা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, খাদুন এলাকার রনি নিট কম্পোজিট ডাইয়িং কারখানার বর্জ্য আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে খালে ফেলা হতো। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীতকরণের কাজের জন্য খাল ভরাট করে ফেলা হয়। এ কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ রাতের আধারে এবি সোয়োটারের মালিনাধীন জমিতে অপরিশোধিত ডাইংয়ের বর্জ্যের পানি ফেলছে। এতে এবি সোয়েটার কারখানার ভেতরে থাকা খামারের প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে উঠে। কারখানার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ডোবার পানির স্বাভাবিক নেই, রং কালচে-লালচে, পানির ওপর ভাসছে ফেনা, চারপাশে অসহনীয় দুর্গন্ধ। এতে আশপাশের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া পানির পচা দূর্গদ্ধে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়ছে। রনি নিট অ্যান্ড ডাইং কম্পোজিট কারখানার এ সকল পচা পানির কারণে রূপসী, দক্ষিণ রূপসি বরাবো খাদুনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এতে খোশ পাচড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
এছাড়া, রনি নিট এন্ড কম্পোজিট কারখানার পচা পানি এবি সোয়েটার কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার কারণে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকে এবি সোয়েটার পোশাক কারখানার কার্যক্রম। এতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে এবি সোয়েটার কারখানার প্রায় ১০ হাজার ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এবি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা বলেন, রনি নেট এন্ড কম্পোজিট কারখানার পচা পানি আমাদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করলে আমাদের কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আমরা ঈদের আগে বকেয়া বেতন পাইনি। পানির এমন দূর্গদ্ধ যে শ্বাস নেয়া কষ্ট হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে এ বিষয়ে কারখানার মানব সম্পদ বিভাগের হুমাউনুর রহমান বলেন, রনি নিট এন্ড কম্পোজিট ডায়িং কারখানার অপরিশোধিত পানি এসে আমাদের খামারের পুকুরের মাছ মরে গেছে।এছাড়া নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। কারখানার ভেতরে পচা পানি প্রবেশ করে কানা সাত দিন আমাদের পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে আমরা বিশাল অতি সম্মুখীন হই। আমরা এ ব্যাপারে বরাবর অভিযোগ দিলেও রনি ডাইয়িং কারখানা কর্তৃপক্ষ পানি ফেলা বন্ধ করেনি।
এ ব্যাপারে রনির নিট এন্ড কম্পোজিট ডাইং কারখানার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে গেলে তারা প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাড়াবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে এবি সোয়েটার কারখানা থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

























