
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চাঁদার দাবিতে আমির হোসেন (৫২) নামের এক “স” মিল কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ই জুন উপজেলার ৯নং ভোলা কোট ইউনিয়নের লক্ষ্মীধর পাড়া গ্রামে নোয়াবাড়িতে।জানা গেছে লক্ষ্মীধর পাড়া গ্রামের আওয়ামী সন্ত্রাসী মোঃ হোসেন, তার ছেলে রাসেল,এবং একই বাড়ির আলতাফ আলীর ছেলে নাছির ও শামীম বাহিনী ৫ই আগস্টের পট বরিবর্তনের পরও দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো তাদের ভয় এলাকায় কেউ মুখ খুলতে পারে না। তাদের ভয়ে আমির হোসেন এতদিন মামলা করতেও পারেনি। পরে কিছু সুশীল সমাজ এগিয়ে আসলে গতকাল ২৪ জুন আমির হোসেন রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা রজু করে।
মামলার বাদী আমির হোসেন ও এলাকাবাসী জানান, আমির হোসেনের বাড়ি মুক্তারপুর গ্রামে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ লক্ষ্মীধর পাড়া গ্রামের কামাল মেম্বারের স” মেইল ইজারা নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন।, স” মেইলটি নোয়াবাড়ির সামনে হওয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনী সব সময় তাকে চাঁদার জন্য হয়রানি করে আসছে।সর্বশেষ গত ১৩ জুন মোঃ হোসেন তার আপন ভাই আবদুল মন্নান এর স্ত্রীর সাথে আমির হোসেনের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে মর্মে আমির হোসেনকে বেদম মারধর করে এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে সাবেক মেম্বার কামাল হোসেন তাদেরকে (২০,০০০) বিশ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করে । তার পাঁচ দিন পর ঐ সন্ত্রাসীবাহিনী আমির হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছেলে রিদয়ের নিকট পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এ ব্যাপারে আবদুল মন্নান জানান,গত ১৩ জুন রাত ৯.৩০ মিনিটের সময় আমি,আমার স্ত্রী কোহিনুর বেগম, আমার বোন চম্পা বেগম ও আমির হোসেন সহ একটা গাছের ব্যাপারে কথা বলছিলাম হঠাৎ করে আমির হোসেনের মোবাইলে একটি কল আসলে আমির হোসেন কথা বলার জন্য ঘর থেকে বাহির হলেই আমার ভাই মোঃ হোসেন, তার ছেলে রাসেল ও পাশের বাড়ির আলতাফ আলীর ছেলে নাছির ও শামীম কোন কিছু না বলেই এবং বাড়ির লোকজনকে ডাক না দিয়ে এলোপাতাড়ি বেধড়ক মারপিট করে আমির হোসেনের নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ছেলে রাসেল মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়। পরবর্তীতে আমার স্ত্রীর সাথে আমির হোসেনের অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে চালিয়ে দেয় যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তি হীন।
এ ব্যাপারে মামলার আই ও মোঃ স্বপন মিয়া জানান মামলার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।মোঃ হোসেন সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ভাবে আমির হোসেনের উপর হামলা করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান এরা ৪ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত মোঃ হোসেন, লক্ষ্মীধর পাড়া,মুক্তারপুর,উদয়পুর,হাপানিয়া,বিষ্ণুপুর সহ একাধিক এলাকায় হাওলাত বলে টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত দেয় না। টাকা চাইতে গেলে পাওনাদারদের শারীরিক,মানসিক সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ছাড়াও তার ছেলে রাসেল কক্সবাজার বিয়ে করার সুবাদে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ আন্তর্জাতিক চোরাচালানী চক্রের সাথে জড়িত। নাছির নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও শামীম ঢাকায় দাপটের সাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ও তার পুলিশের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে সুসম্পর্ক আছে বলে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে দেদারসে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

























