
রাবি প্রতিনিধি ।।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অস্বাভাবিক ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ফলকে প্রত্যাখ্যান করে পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ আগষ্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেল ৫টায় ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নুর ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা, অন্তঃকোন্দল, পক্ষপাতিত্বের কারণে এমন ফল হয়েছে। শিক্ষকরা ইচ্ছে করে তাদের খাতায় নম্বর কম দিয়েছেন। ১০৪ এবং ১০৬ নম্বর কোর্সে সবচেয়ে কম নম্বর উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফল প্রকাশ হয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কাঙ্খিত ফল পায় নি। পরবর্তীতে তারা বিকেল ৪টায় বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত এবং ৩ অনিয়মিত শিক্ষার্থী আছে। প্রত্যেকেই প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষায় ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু দ্বিতীয় সেমিস্টারে মাত্র ৬ জন প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ফল আসেনি ৮ জন শিক্ষার্থীর। এছাড়া ফল অনুত্তীর্ণ এসেছে ৬ জনের। ওমার ফারুক নামের এক শিক্ষার্থী প্রথম সেমিস্টারে ৩.৫৮ পেলেও দ্বিতীয় সেমিস্টারে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। ফৌজিয়া তুরানি প্রথম সেমিস্টারে ৩.৮৩ পেলেও দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন ২.৭৮।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকরা সব সময় আমাদের সাথে স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে। বিভিন্ন সময় তারা মানসিক ভাবে নির্যাতন করে। আমাদেরকে সংগঠন করতে নিষেধ করে, যারা সংগঠন করে তাদেরকে মার্ক করে রাখে। তাদের কে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে তোদের কে খাতায় দেখে নিবো। প্রথম সেমিস্টারে তোরা ভালো ফল করেছিস পরবর্তী সেমিস্টারে কিভাবে করিস সেটা দেখে নিবো। মূলত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান কারণেই ফল বিপর্যয় হয়েছে। তিনি ফল প্রকাশ করেই ভারতে চলে গেছেন। যাতে শিক্ষার্থীর তার কাছে কোন অভিযোগ না করতে পারে।
ফল অনিয়মের অভিযোগে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, রেজাল্ট দেখে আমার মনে হয়েছে এখানে অনিয়ম হতে পারে। কেননা যাদের ফল খারাপ হয়েছে এরা সবাই আমার কোর্সে ভালো নম্বর পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে বলেন, ছাত্ররা মৌখিকভাবে আমাকে বললেও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। আজকে শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি বিষয়টি পরবর্তী একাডেমিক সভায় তুলে ধরবো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নুর বলেন, দুই সেমিস্টারের ফল বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে রেজাল্টে সমস্যা আছে। আমি শিক্ষার্থীদের সকল অভিযোগ শুনেছি। রবিবার উপাচার্য স্যারের সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে সমাধান করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানকে একাধিক বার ফোন করেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়






























