Dhaka , Thursday, 14 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
অফিসে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ অভিযোগের ৬ ঘণ্টার মধ্যে ৩৫ লাখ টাকার চুরি যাওয়া থ্রি-পিস উদ্ধার ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড, ঘোষণা করল দল হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮ জনের শরীরে অ্যান্ডিজ ভাইরাস শনাক্ত: ডব্লিউএইচও কত বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন জানালেন ফজলুর রহমান মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সমন্বিত প্রয়াসের আহ্বান- হাটহাজারীতে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি কাউখালীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত বিএসএফ-এর গুলিতে হাতীবান্ধা সীমান্তে যুবক নিহত: দায় অস্বীকার করলেও প্রতিবাদ বিজিবির ফতুল্লায় ডিশ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চকরিয়ার খুটাখালীর থেকে এক মসজিদের ইমাম এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কক্সবাজারে “মাদক নিয়ন্ত্রণ ও যুব সমাজের সম্পৃক্ততা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত ভাঙ্গায় দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ, নিহত ২ জ্বর ঠোসা কেন হয়, হলে করণীয় কী, জানালেন তাসনিম জারা শি’কে ‘মহান নেতা’ বলে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী হতে হবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে: শি জিনপিং শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে আনা হলো দীপু মনি, ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ঢাকাসহ ১০ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আভাস, নৌবন্দরে সতর্কতা ঢাবি মসজিদে সাদিক কায়েমের বিয়ে পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত স্পেনের অভিজাত এলাকায় ১৬৫ কোটিতে মেসির সাম্রাজ্য হাজী সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিল ঢাকা জেলা প্রশাসন নোয়াখালীতে দুই ডেন্টাল ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা লাখ টাকা মাদক বিরোধী অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারই সেরা রাজাপুরে দুইটি এইচবিবি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি জামাল পাইকগাছায় বৃদ্ধা চাচিকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিতর অভিযোগ ঢাকায় আসছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মাদারীপুর সরকারি কলেজের নতুন ছাত্রাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন নরসিংদীর পলাশে ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে এক মায়ের একসঙ্গে চার সন্তান প্রসব লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা: ঘাতক স্ত্রী আটক

রাজাপুরে সরকারি ৫টি গাছ বি’ক্রির অ’ভিযো’গ স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তার বি’রু’দ্ধে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:33:51 pm, Wednesday, 2 July 2025
  • 79 বার পড়া হয়েছে
মো. নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি প্রতিনিধি,
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পেছনের সরকারি জমিতে রোপণ করা অন্তত পাঁচটি মূল্যবান গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি)-এর কর্মকর্তা ও ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটেটর (ইউডিএফ) মো. ইমরান আলীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি – যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার পেছনের সরকারি জমিতে রোপণ করা চারটি মেহগনি ও একটি রেন্ট্রি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলায় প্রশাসন নানা চাপের মুখে ছিল। সেই সুযোগে গাছগুলো উপজেলার শহরের একটি স-মিলে রেখে দেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী। পরে, আওয়ামী লীগের পতন হওয়াতে ইমরান আলী আওয়ামী পন্থী হওয়ায় ৫ আগস্টের সময় পরিস্থিতি গরম হলে তিনি কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তখনই গাছগুলো স-মিল থেকে কেটে কিছু কাঠ ব্যক্তিগত ফার্নিচার তৈরির জন্য স্থানীয় দোকানে নিয়ে আসেন, কিছু কাঠ পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলায় বিক্রি করেন এবং কিছু কাঠ স্থানীয় ফার্নিচারের দোকানেই বিক্রি করে দেন।
স-মিল মালিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,
“ইমরান আলী ভাই ওই গাছগুলো মিলে রেখে দেন দুই-তিন মাস। পরে এসে বলেন, অফিসের ফার্নিচার বানাতে হবে, দ্রুত কেটে দিতে। আমরা তো সরকারি অফিসের জন্যই ভাবছিলাম। আমরা তো জানতাম না তিনি ব্যক্তিগত কাজে নেবেন। পরে শুনি উনি নিজের জন্যই গাছগুলো ব্যবহার করছেন।”
মারুফ ফার্নিচার দোকানদারও একই কথা বলছেন। তার দাবি, “উপজেলার কর্মকর্তা ইমরান আলী তার বাড়ির জন্য ফার্নিচার বানাতে আমার দোকানে কিছু কাঠ এনেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ফার্নিচার না বানিয়ে কিছু কাঠ আমার কাছেই বিক্রি করেন, আর কিছু কাঠ কাউখালী নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন।”
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন বিষয়টি জানলেও, বদলির কারণে আর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে জানা যায়। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও রাহুল চন্দ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানান, তবে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউডিএফ কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। আমি কোনো গাছ কাটি নাই বা নেই নাই।”
সরকারি গাছ কাটা, বিক্রি, অথবা সরানো – প্রতিটি ক্ষেত্রেই জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের অনুমতি আবশ্যক। তবে কার অনুমতিতে এই পাঁচটি গাছ কাটা হলো? বিক্রির টাকা কোথায় গেল? প্রশাসন কেন নীরব? এ নিয়ে একাধিক স্থানীয় নেতা ও সচেতন নাগরিক বলেছেন, “একজন কর্মকর্তা চাইলে সরকারি গাছ কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারে – এমন নজির তৈরি হলে দেশে পরিবেশ রক্ষার সব উদ্যোগই প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে জানতে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে দুইদিনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে মেসেজটি দেখেও দুই দিন পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, এবং গাছ বিক্রির অর্থ সরকারের রাজস্ব তহবিলে ফেরতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১। ক্যাপশনঃ অভিযুক্ত ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটেটর (ইউডিএফ) কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী।
২। ক্যাপশনঃ উপজেলা পরিষদের পিছন যেখান থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অফিসে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ

রাজাপুরে সরকারি ৫টি গাছ বি’ক্রির অ’ভিযো’গ স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তার বি’রু’দ্ধে

আপডেট সময় : 02:33:51 pm, Wednesday, 2 July 2025
মো. নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি প্রতিনিধি,
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পেছনের সরকারি জমিতে রোপণ করা অন্তত পাঁচটি মূল্যবান গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি)-এর কর্মকর্তা ও ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটেটর (ইউডিএফ) মো. ইমরান আলীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি – যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার পেছনের সরকারি জমিতে রোপণ করা চারটি মেহগনি ও একটি রেন্ট্রি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলায় প্রশাসন নানা চাপের মুখে ছিল। সেই সুযোগে গাছগুলো উপজেলার শহরের একটি স-মিলে রেখে দেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী। পরে, আওয়ামী লীগের পতন হওয়াতে ইমরান আলী আওয়ামী পন্থী হওয়ায় ৫ আগস্টের সময় পরিস্থিতি গরম হলে তিনি কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তখনই গাছগুলো স-মিল থেকে কেটে কিছু কাঠ ব্যক্তিগত ফার্নিচার তৈরির জন্য স্থানীয় দোকানে নিয়ে আসেন, কিছু কাঠ পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলায় বিক্রি করেন এবং কিছু কাঠ স্থানীয় ফার্নিচারের দোকানেই বিক্রি করে দেন।
স-মিল মালিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,
“ইমরান আলী ভাই ওই গাছগুলো মিলে রেখে দেন দুই-তিন মাস। পরে এসে বলেন, অফিসের ফার্নিচার বানাতে হবে, দ্রুত কেটে দিতে। আমরা তো সরকারি অফিসের জন্যই ভাবছিলাম। আমরা তো জানতাম না তিনি ব্যক্তিগত কাজে নেবেন। পরে শুনি উনি নিজের জন্যই গাছগুলো ব্যবহার করছেন।”
মারুফ ফার্নিচার দোকানদারও একই কথা বলছেন। তার দাবি, “উপজেলার কর্মকর্তা ইমরান আলী তার বাড়ির জন্য ফার্নিচার বানাতে আমার দোকানে কিছু কাঠ এনেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ফার্নিচার না বানিয়ে কিছু কাঠ আমার কাছেই বিক্রি করেন, আর কিছু কাঠ কাউখালী নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন।”
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন বিষয়টি জানলেও, বদলির কারণে আর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে জানা যায়। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও রাহুল চন্দ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানান, তবে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউডিএফ কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। আমি কোনো গাছ কাটি নাই বা নেই নাই।”
সরকারি গাছ কাটা, বিক্রি, অথবা সরানো – প্রতিটি ক্ষেত্রেই জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের অনুমতি আবশ্যক। তবে কার অনুমতিতে এই পাঁচটি গাছ কাটা হলো? বিক্রির টাকা কোথায় গেল? প্রশাসন কেন নীরব? এ নিয়ে একাধিক স্থানীয় নেতা ও সচেতন নাগরিক বলেছেন, “একজন কর্মকর্তা চাইলে সরকারি গাছ কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারে – এমন নজির তৈরি হলে দেশে পরিবেশ রক্ষার সব উদ্যোগই প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে জানতে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে দুইদিনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে মেসেজটি দেখেও দুই দিন পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি, এবং গাছ বিক্রির অর্থ সরকারের রাজস্ব তহবিলে ফেরতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১। ক্যাপশনঃ অভিযুক্ত ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটেটর (ইউডিএফ) কর্মকর্তা মো. ইমরান আলী।
২। ক্যাপশনঃ উপজেলা পরিষদের পিছন যেখান থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।