
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (ইয়াস)। রমজানের শুরু থেকেই সংগঠনটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন দুস্থ, অসহায়, পথশিশু, বেদে পল্লীর বাসিন্দা, রোজাদার ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিদিন বিকেল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে ঘুরে রোজাদারদের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠার পর গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ইয়াস। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি রমজানেও মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি আবির হোসেন রানা বলেন, “আমরা চাই অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়াতে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম জানান, সংগঠনের কার্যক্রম শুধু ইফতার বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “আমরা বেকার ও অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিষয়ক প্রশিক্ষণের মতো বাস্তবমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সাইবার হামলা রোধে সাইবার বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ‘ঈদের রঙিন হাসি’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ঈদ বস্ত্র বিতরণ ও শিশুদের মাঝে মেহেদী উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন রানা বলেন, “রমজানের পুরো মাস আমরা রাস্তায় ঘুরে রোজাদারদের মাঝে ইফতার বিতরণ করে যাচ্ছি। সমাজের নিম্ন ও বিত্তবান ব্যক্তি, সংগঠনের উপদেষ্টা ও সদস্যরা অনুদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করছেন। প্রতিটি রোজাদারের ইফতারের জন্য সর্বনিম্ন ৬০ টাকা ডোনেট করা যায়। অনুদান বৃদ্ধি পেলে আমরা প্রতিদিন আরও বেশি মানুষের কাছে ইফতার পৌঁছে দিতে পারবো। পুরো রমজান মাস এই কার্যক্রম চালু রাখাই আমাদের লক্ষ্য।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইফতার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে বা সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা বিকাশ ও নগদ নম্বর (০১৭৪০২০৬৪১০)-এ সেন্ড মানির মাধ্যমে অনুদান প্রদান করতে পারবেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৭৫৯-৫১৭০১৮ নম্বরে অথবা সংগঠনের ফেসবুক পেজে।
মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ইয়াসের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আরও বৃহৎ পরিসরে এই মহৎ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
























