
সোহানুর রহমান বাপ্পি,
কিশোরগঞ্জের যশোদল ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রতনের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যশোদল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন যুবদল নেতা রতন। এ সময় তার বাবা-মা, ভাবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রতন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যশোদল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম তার পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাজনকে অবহিত করা হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। কামরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় শুক্রবার রাতে তার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগানো হয়।
তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারের পতন হলেও তার দোসররা বহাল তবিয়তে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। কামরুল বিগত সময়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় দুইবার জেলে পাঠিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে কামরুলের নেতৃত্বে বাশার, রব, ওহাবুল, বিল্লাল, রাকিব, সোহাগসহ আরও কয়েকজন হামলা চালায়।”
রতনের মা রাবেয়া খাতুন জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে দোকানে থাকার সময় খবর পান কিছু লোক তাদের বাড়িতে হামলা করতে আসছে। দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ছেলেবউ ও নাতিদের বের করে তালা দিয়ে আশ্রয়ের জন্য অন্যের বাড়িতে চলে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুনে তাদের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অন্যদিকে রতনের ভাবি পেয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার ঘরে থাকা ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যবসার প্রায় ৬ লাখ টাকা লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। “এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। হামলাকারীরা এখনও আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ইউপি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন বলেন, “রতন অভিযোগ করলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানাই। তারা তিনজনকে আটক করেছিল। তবে মামলা না হওয়ায় তারা ছাড়া পেয়ে পুনরায় হামলা চালিয়েছে।”
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, “ভুক্তভোগীদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

























