
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
আজ বিশ্ব মা দিবস। সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হচ্ছে মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে।
তেমনি মা দিবস উপলক্ষে স্বামীহারা মায়েদের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পোষাক ও বিভিন্ন পণ্য উপহার নিয়ে তাদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিতরণ করেছে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রহিম বেপারী।
এ উদ্যোগে তিনি তিনজন বিধবা নারীকে উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে জাজিরা উপজেলায় দুজন ও নড়িয়া উপজেলার একজন বিধবা নারী রয়েছেন।
জানা যায়, জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের কাচারি কান্দির হালিমা নামে এক বৃদ্ধা নারী তার স্বামী মারা যায় ৩০ বছর আগে। এরপর ১ ছেলে ২ মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্ট দিনাতিপাত করেন। পরে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে মারা যায়। জীবিত থাকা মেয়েকে বিয়ে দিলেও তার মেয়ের স্বামীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় মাকে ঠিকমত দেখভাল করতে পারেনা। এখন তিনি একাই বসবাস করেন। তাকে দেখার মত কেউ নেই। এই নারীকে একটি কাপড় এবং ১ মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উপহার দেয়া হয়।
অপরদিকে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আরেক বিধবা নারী তার এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। ঐ নারীর স্বামী বছরখানেক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় এই কষ্টে পরেন। তাকে একটি গর্ভবতী ছাগল ও নগদ টাকা উপহার দেয়া হয়।
এছাড়াও নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা এক বিধবা নারী তার ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে জীবনযাপন করেন। তাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দেয়া হয়।
সেলাই মেশিন পাওয়া ঐ নারী বলেন, স্বামী ও ৪ সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই ছিলাম। স্বপ্ন দেখতাম- সন্তানদের ভালো স্কুলে লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত করব। হঠাৎ করে স্বামী অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে মাথার ওপর পাহাড় ভেঙে পড়ে। তিন বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। এর পর থেকে অনেক কষ্টে চলতে হচ্ছে। প্রতিটি দিন কাটছে হতাশায়- কী হবে- কী করে চলবে সংসার-সংসারে ৫ জনের খাওয়ার খরচ কিভাবে জোগাড় হবে? বাবার বাড়ি থেকে যে সহযোগিতা পাই- তা তো সব সময় থাকবে না। নিজেই একটা কিছু করতে হবে। এমন সময় রহিম বেপারীর থেকে পাওয়া মেশিনটি আমার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
এবিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা রহিম বেপারী বলেন- মা দিবসে বিধবা অসহায় মায়েদের পাশে দাড়াতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। অসংখ্য ধন্যবাদ যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতেও আমার এসব উদ্যোগ সবসময় চলমান থাকবে।

























