Dhaka , Thursday, 26 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে:- ডা. শাহাদাত হোসেন মধুপুরে যানজট নিরসনে রাস্তায় কাজ করছে ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দ বাড়িতে গিয়ে জানলেন তিনি ২ সন্তানের জননী প্রেমিকের আত্মহত্যা পাইকগাছায় গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি চমক হোটেলে মল ঢেলে তাণ্ডব ও ভাঙচুর: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার না পেলে লালমনিরহাটে হোটেল ধর্মঘট নোয়াখালীতে শর্ট সার্কিটের আগুনে পুড়ল ২৪ দোকান কোম্পানীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৪ দোকান ইউনিয়নেই মিলবে প্রাথমিক চিকিৎসা, কমবে ভোগান্তি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বর্জ্যের অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নয় মাস পর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু ফতুল্লায় টিনসেট বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, ৬ লাখ টাকার ক্ষতি ২৫ মার্চ গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কর্ণফুলীতে প্রেসক্লাবের আড়ালে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে স্বৈরাচারের দোসররা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হলে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে:- ডা. শাহাদাত হোসেন বাহুবলে আ.লীগ নেতার কারামুক্তির মিলাদে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সামছুল আলম বগুড়ার শাজাহানপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশি অভিযান, গ্রেপ্তার ৩ আসামী ৮৭ জন লাখো পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রামগঞ্জে মাদক প্রতিরোধে মিনি ম্যারাথন ও ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ মধুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ছাই লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে ডিসি ও প্রশাসন “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না—সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী রূপগঞ্জে স্বামীর গলায় ছুরি ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবক গ্রেফতার পাইকগাছায় ইউএনও’র সঙ্গে ঢাবি ছাত্র কল্যাণ সমিতির মতবিনিময় পাইকগাছায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের শিল্পায়নের সম্ভাবনা শীর্ষক সভায় ত্রাণমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক ১: ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ সিরাপ জব্দ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবেও ষড়যন্ত্রের ছায়া:- গিয়াস কাদের চৌধুরী

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’র ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:55:03 pm, Friday, 25 October 2024
  • 108 বার পড়া হয়েছে

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী'র ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত।।

ইসমাইল ইমন
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধ।।
  
  

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পর্ষদ ও কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রাক্তন ছাত্র পর্ষদ -কেএমও ছাত্র পরিষদ- এর আয়োজনে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় জাগরণে আত্মোৎসর্গকারী মহাপুরুষ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ৭৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভারতের খ্যাতিমান মনিষী মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী -১৮৭৫–১৯৫০- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী নেতা ছিলেন। তিনি ইসলামি চিন্তাবিদ- জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও সাংবাদিক ছিলেন। চেরাগি পাহাড় মোমিন রোড়ে-কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মচর্চা- শিক্ষা- সাহিত্য- রাজনীতি- সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার পরিমণ্ডলে তিনি অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন। বাংলার মুসলমানদের মাঝে আত্মজাগরণের প্রেরণা ছড়িয়ে দেন এবং শিক্ষা–সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের অগ্রসর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতিসত্তা নির্মাণের অন্যতম দরদি রাহবার বা পথিকৃৎ।
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে-এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সহ সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন’র সভাপতিত্বে সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি’র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। সদ্যপ্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে উৎসর্গ করে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রসার ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য পূর্ব বাংলার প্রথম মুসলিম চিকিৎসক ডা. এম.এ. হাসেমকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। কদম মোবারক প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের মঈনুল ইসলাম ও মো কায়ছার হামিদ’র সঞ্চালনায় সভায় অতিথি আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজ’র অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী-শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির- ইসলামাবাদীর দৌহিত্র এএমএস ইসলামাবাদী গাজী- প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ- অধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম রিজভী-আলাউদ্দিন আলী নূর-বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি খান-ইতিহাস গবেষক সোহেল মোঃ ফখরুদ্দীন- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা’র তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম-মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ-মোতোয়াল্লি আজাদ উল্লাহ খান- কদম মোবারক এম.ওয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জহুর- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ-অর্থ সম্পাদক আবদুল আলিম-মোঃ নবাব মিয়া-মোঃ আরিফ- হাফেজ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন- উপমহাদেশে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এক আলোকবর্তিকার নাম তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বি শেষে মানুষের জন্য আত্ম উন্নয়ন এর জন্য কাজ করে গেছেন।সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য মাদ্রাসা- অনাথ শিশুদের জন্য এতিমখানা সহ বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কাজে তিনি অবদান রেখেছেন।তিনি একক কোন ব্যাক্তিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজের চিত্রকার ছিলেন।
প্রফেসর সিকান্দার বলেন- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মানুষের আত্ম মুক্তির জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন। তার ভাবনা চিন্তায় ছিলো মানুষের জাগতিক পরিবর্তন ও আত্মিক উন্নয়ন।তার ইচ্ছে ছিলো আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন- মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল এতিমদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যিনি আজীবন মানবতার কল্যাণে রাজনীতি ও সমাজসেবা করে গেছেন। একজন গুণী মনিষী হিসেবে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অনেক প্রতিভাসম্পন্ন দূরদর্শী নেতা ছিলেন।
স্মরণসভায় প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান আরো বলে- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনাদর্শ ও বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন জনহিতকর- জাতীয় উন্নতিমূলক বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে নিবেদিত ছিলেন। বিপ্লবী এই কীর্তিমান বাংলার মুসলিম সমাজের জাগরনে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন- প্রাদেশিক সংসদে তিনি বাংলায় বক্তৃতা ও বিতর্ক সম্পাদন করতেন। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে এটি উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। তিনি তৎকালীন পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে কুপ্রথামুক্ত ও সময়োপযোগী করে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী করে তুলতে অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং এতিমখানাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনক ছিলেন তিনি। বাল্যবিবাহ ও নারী-নির্যাতন রোধ- সমাজের কু-সংস্কার নিরসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে আজীবন উদগ্রীব ছিলেন এই মহান ব্যক্তিত্ব।
-সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন- তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সমাজনীতি- অর্থনীতি- ভূগোল- ইতিহাস এবং আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোত্তীর্ণ শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এতদ্ঞ্চলে জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও সংলগ্ন শিক্ষা কমপ্লেক্স তাঁর অন্যতম কীর্তি। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন- বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হন ও কৃষক প্রজা আন্দোলনের পরিচালক ছিলেন।
মোরশেদ হোসেন আরো বলেন- প্রখ্যাত আলেম হওয়া সত্বেও তিনি ধর্মান্ধ ছিলেন না বরং যুক্তিবাদী- বিজ্ঞানমনষ্ক ও সমাজনিবিষ্ট জনসেবক ছিলেন। একটি শিক্ষিত- জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, বাদে ফজর খতমে কোরআন- মিলাদ মাহফিল- মুনাজাত- কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, হিফজ সমাপ্তকারীদের পাগড়ি প্রদান, আলোচনা সভা ও তাবারুক বিতরন প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে:- ডা. শাহাদাত হোসেন

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’র ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত।।

আপডেট সময় : 12:55:03 pm, Friday, 25 October 2024
ইসমাইল ইমন
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধ।।
  
  

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পর্ষদ ও কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রাক্তন ছাত্র পর্ষদ -কেএমও ছাত্র পরিষদ- এর আয়োজনে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় জাগরণে আত্মোৎসর্গকারী মহাপুরুষ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ৭৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভারতের খ্যাতিমান মনিষী মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী -১৮৭৫–১৯৫০- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী নেতা ছিলেন। তিনি ইসলামি চিন্তাবিদ- জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও সাংবাদিক ছিলেন। চেরাগি পাহাড় মোমিন রোড়ে-কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মচর্চা- শিক্ষা- সাহিত্য- রাজনীতি- সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার পরিমণ্ডলে তিনি অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন। বাংলার মুসলমানদের মাঝে আত্মজাগরণের প্রেরণা ছড়িয়ে দেন এবং শিক্ষা–সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের অগ্রসর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতিসত্তা নির্মাণের অন্যতম দরদি রাহবার বা পথিকৃৎ।
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে-এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সহ সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন’র সভাপতিত্বে সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি’র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। সদ্যপ্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে উৎসর্গ করে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রসার ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য পূর্ব বাংলার প্রথম মুসলিম চিকিৎসক ডা. এম.এ. হাসেমকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। কদম মোবারক প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের মঈনুল ইসলাম ও মো কায়ছার হামিদ’র সঞ্চালনায় সভায় অতিথি আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজ’র অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী-শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির- ইসলামাবাদীর দৌহিত্র এএমএস ইসলামাবাদী গাজী- প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ- অধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম রিজভী-আলাউদ্দিন আলী নূর-বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি খান-ইতিহাস গবেষক সোহেল মোঃ ফখরুদ্দীন- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা’র তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম-মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ-মোতোয়াল্লি আজাদ উল্লাহ খান- কদম মোবারক এম.ওয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জহুর- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ-অর্থ সম্পাদক আবদুল আলিম-মোঃ নবাব মিয়া-মোঃ আরিফ- হাফেজ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন- উপমহাদেশে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এক আলোকবর্তিকার নাম তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বি শেষে মানুষের জন্য আত্ম উন্নয়ন এর জন্য কাজ করে গেছেন।সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য মাদ্রাসা- অনাথ শিশুদের জন্য এতিমখানা সহ বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কাজে তিনি অবদান রেখেছেন।তিনি একক কোন ব্যাক্তিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজের চিত্রকার ছিলেন।
প্রফেসর সিকান্দার বলেন- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মানুষের আত্ম মুক্তির জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন। তার ভাবনা চিন্তায় ছিলো মানুষের জাগতিক পরিবর্তন ও আত্মিক উন্নয়ন।তার ইচ্ছে ছিলো আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন- মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল এতিমদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যিনি আজীবন মানবতার কল্যাণে রাজনীতি ও সমাজসেবা করে গেছেন। একজন গুণী মনিষী হিসেবে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অনেক প্রতিভাসম্পন্ন দূরদর্শী নেতা ছিলেন।
স্মরণসভায় প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান আরো বলে- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনাদর্শ ও বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন জনহিতকর- জাতীয় উন্নতিমূলক বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে নিবেদিত ছিলেন। বিপ্লবী এই কীর্তিমান বাংলার মুসলিম সমাজের জাগরনে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন- প্রাদেশিক সংসদে তিনি বাংলায় বক্তৃতা ও বিতর্ক সম্পাদন করতেন। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে এটি উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। তিনি তৎকালীন পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে কুপ্রথামুক্ত ও সময়োপযোগী করে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী করে তুলতে অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং এতিমখানাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনক ছিলেন তিনি। বাল্যবিবাহ ও নারী-নির্যাতন রোধ- সমাজের কু-সংস্কার নিরসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে আজীবন উদগ্রীব ছিলেন এই মহান ব্যক্তিত্ব।
-সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন- তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সমাজনীতি- অর্থনীতি- ভূগোল- ইতিহাস এবং আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোত্তীর্ণ শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এতদ্ঞ্চলে জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও সংলগ্ন শিক্ষা কমপ্লেক্স তাঁর অন্যতম কীর্তি। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন- বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হন ও কৃষক প্রজা আন্দোলনের পরিচালক ছিলেন।
মোরশেদ হোসেন আরো বলেন- প্রখ্যাত আলেম হওয়া সত্বেও তিনি ধর্মান্ধ ছিলেন না বরং যুক্তিবাদী- বিজ্ঞানমনষ্ক ও সমাজনিবিষ্ট জনসেবক ছিলেন। একটি শিক্ষিত- জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, বাদে ফজর খতমে কোরআন- মিলাদ মাহফিল- মুনাজাত- কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, হিফজ সমাপ্তকারীদের পাগড়ি প্রদান, আলোচনা সভা ও তাবারুক বিতরন প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।