Dhaka , Tuesday, 5 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৫০ সৌন্দর্যবর্ধনের নামে চুক্তি লঙ্ঘন করে স্থাপনা করা চলবেনা:- মেয়র ডা. শাহাদাত মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার! পাইকগাছায় কৃষি উন্নয়নে লো লিফট পাম্প স্থাপন; পরিদর্শনে সংশ্লিষ্টরা পাইকগাছায় খাল খনন কার্যক্রমে প্রশাসনের মনিটরিং বানরসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার: রায়পুরে চাঞ্চল্য সিএমপি কমিশনারের ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবা নিলেন সেবাপ্রত্যাশীরা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ পলাশে স্বামীর পরকীয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা রূপগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়া বহিষ্কৃত ফরিদপুরে ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন। চোরাই কাপড় যুবদল নেতার গোডাউনে মজুদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার পকেটে চিপস, ভেতরে ১ হাজার ইয়াবা সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলা ও ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২ পরিচয় মিললেও মিলছে না স্বজন, কুড়িগ্রাম হাসপাতালে যুবকের মরদেহ হিমাগারের সংরক্ষণ রামগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনালে পানপাড়া ও আঙ্গার পাড়া চ্যাম্পিয়ন অপরাধ দমনে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন রামু থানায় কর্মরত এসআই আনোয়ার হোসেন লালমনিরহাট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে আধুনিক ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা পরিবেশের সূচনা: ১৫ বিজিবি’র অধিনায়কের বিশেষ উদ্যোগ জলাবদ্ধতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ মেয়রের হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ রূপগঞ্জে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার হত্যা মাদকসহ ডজন মামলার পলাতক আসামি রূপগঞ্জে গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর হামলা করে সন্ত্রাসী শামীমকে ছিনতাই, অভিযানে গ্রেফতার-১৩ দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমানের সরকার অত্যন্ত আন্তরিক: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের নবঘোষিত জেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬টি কমিটি করে দিলেন মেয়র রূপগঞ্জে সড়ক নির্মাণ কাজের অনিয়ম, কাদাযুক্ত মাটি ও পুরনো পিচসহ নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ রূপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, আটক-২ রূপগঞ্জে তারাবো পৌরসভায় মাদক, চুরি ও ছিনতাই নির্মূলে সচেতনতামূলক সভা

ভোলা চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজের ধীরগতি।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:39:15 am, Tuesday, 29 August 2023
  • 270 বার পড়া হয়েছে

ভোলা চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজের ধীরগতি।।

স্টাফ রিপোর্টার ভোলা।।

 

ভোলা- চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কটি ৬ জেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরানগঞ্জ থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত ৯৬ কিঃমিঃ রাস্তার কাজের অনুমোদন হয় ২০২০ সালের জুলাই মাসে।
যদিও তা শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। তবে দুই বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ৮৩ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বাকি ১৩ কিলোমিটার অংশের কাজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। এরমধ্যে ১৩ কিলোমিটারে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দ। রাস্তাটি এ অবস্থা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারি যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। নির্মাণাধীন কাজ ধীরগতির কারণে মহাসড়কের কোথাও না কোথাও প্রায় হচ্ছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। তবে সড়ক বিভাগ মহামারি করোনাকে ধুসলেও বাকি কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, নেই তার কোনো নিশ্চয়তা। তারউপর আবার কোথাও কোথাও রাস্তার উপর পুরোনো কার্পেটিং তুলে রাখায় রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ। যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য শেষ নেই।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাস্তাটি ১৮ ফুট থেকে ৩০ ফুট প্রশস্তকরণের প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক বিভাগ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেয় এম এম বিল্ডার্সসহ ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে দুর্ভাগ্য হলো সত্য, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে অতিরিক্ত গড়ালে তারও এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও মখ থুবড়ে পরে আছে বাকি ১৩ কিলোমিটার রাস্তা। কখন হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে না তার কোন নিশ্চয়তা।

স্থানীয়রা জানান, ৯৬ কিলোমিটার সড়কের ৮৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ হলেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বাকি ১৩ কিলোমিটার সংস্কার কাজ। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈরি আবহাওয়ার কারণে কাজ পিছিয়ে পড়ার দায়সারা জবাব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। চলমান এ দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেট তুলে ফেলায় অল্প বৃষ্টিতে জমে কাদা। আর খানা-খন্দের কারণে ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবদুল হক ও রফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, ভোলা-চরফ্যাশন রুটের যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা উন্নয়ন বিড়ম্বনায় রয়েছে। গত দুই বছর ধরে বর্ষায় কাঁদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে নাজেহাল। বর্তমানে এ সড়কের আজিমুদ্দিন থেকে বোরহানউদ্দিন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা পুরো বর্ষার মৌসুমে কাঁদাপানি আর খানা-খন্দে ভরে আছে। পাশ দিয়ে একটা বড় গাড়ি গেলে ছোট যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

এনজিও কর্মী মিজানুর রহমান জানান, অফিসের কাজে প্রতিদিন ৩-৪ বার এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিবারই কাদাপানিতে গোসল করে উঠি। ছোট যানবাহনের যাত্রীদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা।’

আজিমুদ্দিন এলাকার বাসিন্দা ইখলাছ উদ্দিন জানান, বর্ষার মধ্যে আমার বাড়িতে জুতা পরে চলাচল করতে পারলেও সড়কে উঠতে হয় জুতা খুলে। কারণ জুতা পড়ে ওই রাস্তা চলাচল করা যায় না।

গাড়ির চালক মফিজুর রহমান জানান, আগের কার্পেটিং উঠিয়ে পাথর ও বালু ফেলে রাখায় রাস্তায় অসংখ্য খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে যায়। এতে তাদের ব্যয় বেড়ছে।

এমন দুর্ভোগের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ করেন সডক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি জানান, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। সম্ভব না হওযায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ বছর বসয় বাড়ানো হয়েছে। এরইমধ্যে ৮৩ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। এম এম বিল্ডার্স তাদের কাজ শেষ না করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে সংস্কার কাজে বিলম্ব হওয়ার পেছনে বৈরি আবহাওয়া ও মালামালের দাম বাড়ার অজুহাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।

এম এম বিল্ডার্সের প্রকল্প ম্যানেজার মোরশেদ আলম ভূঁইয়া জানান, ৭ কিলোমিটার রাস্তার প্রথম লেয়ার করা হয়েছে। বাকি ৭ কিলোমিটার করতে পারলে দুর্ভোগ কমবে।

তিনি বলেন, ‘মালামালের দাম বাড়ার ফলে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে বৈরি আবহাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ আছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার কাজে মালামালের দাম বাড়ায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশা করছি। এতে আরও পাঁচ মাস এমন ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

২০২১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সাড়ে ৮৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৩০ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে ৮৭৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। সডকের পাশাপাশি এই সড়কে ৪টি সিসি গার্ডার ব্রিজ ও ৪৩টি কালভার্ট নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৫০

ভোলা চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজের ধীরগতি।।

আপডেট সময় : 10:39:15 am, Tuesday, 29 August 2023

স্টাফ রিপোর্টার ভোলা।।

 

ভোলা- চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কটি ৬ জেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরানগঞ্জ থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত ৯৬ কিঃমিঃ রাস্তার কাজের অনুমোদন হয় ২০২০ সালের জুলাই মাসে।
যদিও তা শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। তবে দুই বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ৮৩ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বাকি ১৩ কিলোমিটার অংশের কাজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। এরমধ্যে ১৩ কিলোমিটারে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দ। রাস্তাটি এ অবস্থা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারি যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। নির্মাণাধীন কাজ ধীরগতির কারণে মহাসড়কের কোথাও না কোথাও প্রায় হচ্ছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। তবে সড়ক বিভাগ মহামারি করোনাকে ধুসলেও বাকি কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, নেই তার কোনো নিশ্চয়তা। তারউপর আবার কোথাও কোথাও রাস্তার উপর পুরোনো কার্পেটিং তুলে রাখায় রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ। যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য শেষ নেই।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাস্তাটি ১৮ ফুট থেকে ৩০ ফুট প্রশস্তকরণের প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক বিভাগ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেয় এম এম বিল্ডার্সসহ ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে দুর্ভাগ্য হলো সত্য, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে অতিরিক্ত গড়ালে তারও এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও মখ থুবড়ে পরে আছে বাকি ১৩ কিলোমিটার রাস্তা। কখন হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে না তার কোন নিশ্চয়তা।

স্থানীয়রা জানান, ৯৬ কিলোমিটার সড়কের ৮৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ হলেও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বাকি ১৩ কিলোমিটার সংস্কার কাজ। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈরি আবহাওয়ার কারণে কাজ পিছিয়ে পড়ার দায়সারা জবাব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। চলমান এ দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেট তুলে ফেলায় অল্প বৃষ্টিতে জমে কাদা। আর খানা-খন্দের কারণে ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবদুল হক ও রফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, ভোলা-চরফ্যাশন রুটের যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা উন্নয়ন বিড়ম্বনায় রয়েছে। গত দুই বছর ধরে বর্ষায় কাঁদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে নাজেহাল। বর্তমানে এ সড়কের আজিমুদ্দিন থেকে বোরহানউদ্দিন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা পুরো বর্ষার মৌসুমে কাঁদাপানি আর খানা-খন্দে ভরে আছে। পাশ দিয়ে একটা বড় গাড়ি গেলে ছোট যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

এনজিও কর্মী মিজানুর রহমান জানান, অফিসের কাজে প্রতিদিন ৩-৪ বার এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিবারই কাদাপানিতে গোসল করে উঠি। ছোট যানবাহনের যাত্রীদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা।’

আজিমুদ্দিন এলাকার বাসিন্দা ইখলাছ উদ্দিন জানান, বর্ষার মধ্যে আমার বাড়িতে জুতা পরে চলাচল করতে পারলেও সড়কে উঠতে হয় জুতা খুলে। কারণ জুতা পড়ে ওই রাস্তা চলাচল করা যায় না।

গাড়ির চালক মফিজুর রহমান জানান, আগের কার্পেটিং উঠিয়ে পাথর ও বালু ফেলে রাখায় রাস্তায় অসংখ্য খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে যায়। এতে তাদের ব্যয় বেড়ছে।

এমন দুর্ভোগের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ করেন সডক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।

তিনি জানান, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। সম্ভব না হওযায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ বছর বসয় বাড়ানো হয়েছে। এরইমধ্যে ৮৩ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। এম এম বিল্ডার্স তাদের কাজ শেষ না করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে সংস্কার কাজে বিলম্ব হওয়ার পেছনে বৈরি আবহাওয়া ও মালামালের দাম বাড়ার অজুহাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।

এম এম বিল্ডার্সের প্রকল্প ম্যানেজার মোরশেদ আলম ভূঁইয়া জানান, ৭ কিলোমিটার রাস্তার প্রথম লেয়ার করা হয়েছে। বাকি ৭ কিলোমিটার করতে পারলে দুর্ভোগ কমবে।

তিনি বলেন, ‘মালামালের দাম বাড়ার ফলে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে বৈরি আবহাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ আছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার কাজে মালামালের দাম বাড়ায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশা করছি। এতে আরও পাঁচ মাস এমন ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

২০২১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সাড়ে ৮৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৩০ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে ৮৭৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। সডকের পাশাপাশি এই সড়কে ৪টি সিসি গার্ডার ব্রিজ ও ৪৩টি কালভার্ট নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।